সংহতির শক্তি : সিআরবি রক্ষায় প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ//সুমন হালদার

 

পৃথিবীর পরিবর্তনের ইতিহাস বলে দেয় সাংস্কৃতিক আন্দোলনের গুরুত্বের কথা। বড় বড় আন্দোলন সংগ্রামে মূল শক্তি জুগিয়েছে সাংস্কৃতিক আন্দোলন। কারণ নানা মাধ্যমে নানা ভাব, ভাষা, ভংগীতে আন্দোলনের স্পিরিট সকলের মাঝে ছড়িয়ে যায়। তেমনি একটি আয়োজন ছিল গত ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় জাদুঘরের সামনে চট্টগ্রাম সিআরবি রক্ষায় সাংস্কৃতিক সমাবেশ। এই সমাবেশ প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে উঠেছে, বহুবর্ণিল হয়েছে নানা আয়োজনের বৈচিত্রে। এই সমাবেশ বহুমুখী চরিত্র পেয়েছে নানা বয়সের অসংখ্য মানুষে সম্মিলনে।
এতে সংহতি বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ,ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, শিল্পী কফিল আহমেদ, সংগঠক এন্তনি, চট্টগ্রাম সিআরবি আন্দোলনের আহ্বায়ক ডঃ মাহফুজুর রহমান, সিআরবি আন্দোলনের সক্রিয় সংগঠক হাসান মারুফ রুমি, আবুল হাসান রুবেল। সমাবেশ স্থলের পাশে বসে এ আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে শিল্পী ও শিশুরা ছবি আঁকেন।
শিল্পী আহমেদ নেওয়াজ এঁকেছেন, এক অশুভ শক্তি যেন প্রকৃতি গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছে। দেওয়ান মামুন ক্ষুদ্র প্রানীদেরও আমাদের মতো বেঁচে থাকার অধিকারের কথা বলতে চেয়েছেন। বিজয় চন্দ রামু তার আঁকায় গাছেদের যন্ত্রনা মূর্ত করেছেন। যা আমাদের উপলব্ধির বা বোধের সীমার বাইরে। ধ্যান মগ্ন বৃক্ষমানব তার মুখে স্মিত হাসির রেখা, লিটন কর এর চারকোল এ আঁকা এই চিত্র কর্মটি যথেষ্ট আনন্দ দিয়েছে দর্শকদের। ধূসর মেঠো পথে দিয়ে নিবিড় বনভূমিতে নিয়ে যেতে চেয়েছেন আফরোজ আখতারী। তেমনি শিল্পী ফারজানা ইয়াসমিন ধূধূ শূন্য শুকনো নদীর বালিময় প্রান্তর, বিষন্ন গাছ, লতাপাতা পাখি বিহীন পৃথিবীর গল্প বলেছেন। ছবি এঁকেছেন ইলমা হক খুকু, নাসির খান, জিয়া শিকদার, নাসির আহমেদ, সুলেখা রহমান, প্রভাকর মজুমদার আরও অনেকেই। উপস্থিত অনেকেই ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন ছবি আঁকা।
শিল্পী অমল আকাশ এর ”উন্নয়নের অসুখ” পারফরমেন্সটি ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করেছে। তিনি তার পারফরমেন্সের মাধ্যমে আমাদের উন্নয়ন ভাবনাকে উষ্কে দিতে চেয়েছেন। কি করে উন্নয়নের নামে কান্ডজ্ঞানহীন ভাবে প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশকে ধ্বংস করে পাঁচ তারকা হাসপাতাল তৈরি হতে চলেছে! তার ফলাফল আসলে কি হবে? তাই সমস্ত শরীরে ঔষধের বক্স দিয়ে তৈরি পোশাক আর অক্সিজেন মাক্স পরে শিল্পী পারফরমেন্সটিতে আমাদের দেখাতে চেয়েছেন প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে আমরা নিজেরা নিজেদের ধ্বংসের দাঁড় প্রান্তে এনে দাঁড় করিয়েছি। ফারাহ নাজ মুন ও ইমরান সোহেল পারর্ফম করেছেন ”উন্নয়নের নিষ্ঠুর গল্প”।
সমাবেশে প্রতিবাদী কবিতা আবৃত্তি করেন ইশরাত শিউলি, থিয়েটার বায়ান্ন করে চিপকো আন্দোলন নিয়ে নাটক, বটতলা পরিবেশন করে “বেঁচে থাক প্রাণ”, প্রাচ্যনাট করেছে উন-নয়ন, আর গান করেন লীলা, সহজিয়া, বক্ররেখা, বনফুল,এবং গানের দল সমগীত।
সিআরবি র এই আন্দোলনকে আঞ্চলিক আন্দোলন মনে করার কোনও কারণ নেই, এ আন্দোলন এখন সমগ্র দেশের মানুষের আন্দোলন। আজ এই পরিবর্তিত পৃথিবীতে মানুষ পাহাড় নদী বনভূমি ধ্বংসের মহাউৎসবের মেতে উঠেছে। তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে ধ্বংসের প্রতিবাদে একজোট হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে ।

Sharing is caring!

Related Articles

Back to top button