সিআরবি’ এবার ও কি চট্টগ্রাম! //মনির ইউসুফ

(উৎসর্গ : আহমদ ছফা)

 

আমরা অতীতে দেখেছি, চট্টগ্রামের ঘটনা দিয়ে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হয়েছে, এবার ও কি চট্টগ্রাম! এবার ও কি সরকারের পতনের জন্য ‘সিআরবি’র ঘটনা সেদিকে ইঙ্গিত করছে। চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের দাবী সিআরবিতে হাসপাতাল করতে পারবে না, কিন্তু সরকার পক্ষ অনমনীয়। তারা চট্টগ্রামের জনগণের কোন কথাই শুনছে না। তাহলে কি সংঘর্ষ অনিবার্য! এখানে আওয়ামী লীগ ও সরকারের বিরুদ্ধে। তাই আমি বলবো, বুঝেসুজে পা ফেলুন,পঁচা শামুকে পা কাটে না,আবার পঁচা শামুকে পা কাটতে ও পারে। চট্টগ্রাম বারআউলিয়ার দেশ, এখানে লৌকিক শক্তি অনেক শক্তিশালী। লৌকিক অলৌকিক শক্তি মিলে এখানে ফুঁসে উঠবে জনতা। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমি দশ বার ভাবতে বলবো। ‘সিআরবি’তে হাসপাতাল না করে অন্য জায়গায় করলে অসুবিধাটা কি? মনে রাখবেন দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালা। অনেক সময় অনেক বিষয় নিয়ে গোঁয়ারগিরি চলে না, মানে একরোখা হলে চলে না, দেশ ও দশের স্বার্থে অনেক হিসেব নিকেশ করতে হয়। মাননীয় সদাশয়া কর্পোরেড লুটেরাদের বলছি, তিষ্টাও ক্ষণকাল। চট্টগ্রাম যে সে জায়গা নয়। এখানে বুলাপোকা হূল ফুটাবে, জনগণ বুলাপোকের মত মাঠে নেমে যাবে। চট্টগ্রাম কাউকে ছেড়ে কথা বলে না। বুঝতে হবে এখানকার মানুষেরা গরু মাংস বেশি খায়, টাকার গরম আছে, মাথাও গরম থাকে সব সময়, তাই একটু ভেবেচিন্তে আগাবেন। হাসপাতাল অবশ্যই ভালো কাজ, যদিও তা মুনাফার জন্য করা হচ্ছে, তবু ও ভালা, কিন্তু তা করতে গিয়ে আরেকটি ভালা কে উপড়ায়ে ফেলার অর্থ এখানে কারো না কারো কায়েমী স্বার্থ জড়িত হয়ে গেছে। তা নাহলে সরকার এত অনমনীয় হবে কেন? সিআরবি কোনভাবে চাটগাঁইয়ারা ছেড়ে দেবে না। ড. অনুপম সেনের মত মানুষেরা এখানে হাসপাতালের বিরুদ্ধে নেমেছে, এই করোনাকালে তারা এ বিষয়টি নিয়ে পথে মিটিং ও করেছে। সদাশয় সরকার তারা কেন নেমেছে! তারা তো সরাসরি আওমী লীগের লোক। এটা বুঝতে পারছেন না কেন? লুটেরা পুঁজিবাদী ব্যক্তি মালিকানার কায়েমী স্বার্থবাদী মহল।
চট্টগ্রাম অতীত ইতিহাসের দিকে তাকান, দেখবেন জনগণ যা চাইনি তা এখানে কখনও হয়নি। এখানে এখন বিএনপি জামাত আন্দোলন করছে না, করছে আওয়ামী লীগের লোকজন। সুতরাং তাদের সম্মান করে হাসপাতাল সিআরবি’তে করা বন্ধ করুন।অন্যথায় গণআদালতে আপনাদের বিচার হবে, সেই বিচারে কেউ রেহায় পাবে না। কেননা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ অনেক বড় অপরাধ। একটি কর্পোরেট লুটেরা গোষ্ঠীর জন্য জনগণের মতামত কে গুরুত্ব না দিলে এই সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে উঠবে। সমস্যা হচ্ছে এখানে আওয়ামী লীগের আবেগ বেশি। আমি সরকার কে অনুরোধ করবো, সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করুন। চট্টগ্রামে হাসপাতালের অভাব নাই, এটি ইচ্ছে করলে শহর থেকে দূরে অন্য কোন জায়গায় করা যায়।সূর্যসেন, মৌলানা হারুন ইসলামাবাদী, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, চট্টগ্রাম বন্দরের তীরে আরও যারা দেশ জাতির জন্য জীবন ও সময় উৎসর্গ করেছেন, তাদের সবার কথা বিবেচনা করুন। মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের অবদানকে একটু মাথায় রাখুন। ক্ষমতায় আছেন বলে সব ভুলে যাবেন না! কার স্বার্থে উন্নয়ন, কর্পোরেট না জনগণ, জনগণ না কর্পোরেট। জনগণের স্বার্থে যদি উন্নয়ন হয় তাহলে, জনগণের কথা ভাববেন। আর কর্পোরেটে লোভী স্বার্থের উন্নয়ন যদি হয় তাহলে কর্পোরেটের কথা ভাববেন। এবার জনগণের সামনে দাঁড়াতে হবে। সরকারের জন্য এটি একটি বড় পরীক্ষা।

লেখক: সম্পাদক-কবিতার রাজপথ, প্রধান সমন্বয়কারী বিপ্লবী লেখক আন্দোলন

Sharing is caring!

Related Articles

Back to top button