পাখি কেন কমলো, আর পাখি বাড়ানো জরুরী কেন!: মাহবুব সুমন

পাখি বাড়বে  কারন ,পাখি বাড়ানোর চেষ্টা করছে এখনকার মানুষ।

পাখি কেন কমলো, আর পাখি বাড়ানো জরুরী কেন!

বনাঞ্চল, জলাভূমি, পাহাড় সহ পাখির খাবার সংগ্রহ আর আবাসস্থল ধ্বংস হয়েছে ব্যাপক। সাথে বার্ড ফ্লু সহ বহু মহামারীতে পাখির সংখ্যা কমেছে ব্যাপক।

পাখি হলো বাস্তু সংস্থানের ভীষন গুরুত্বপূর্ণ এক প্রাণী। যে গাছের বংশবিস্তার ঘটায়, পোকামাকড় খেয়ে সেগুলোর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে। বহু বহু কাজ করে পাখি।

গাছ বাড়তে যেহেতু পাখি সাহায্য করে আবার গাছ বাড়লে পাখিরও সাহায্য হয় সেহেতু পাখির সংখ্যা কমা আর গাছের সংখ্যা কমা একে অপরের সম্পূরক।

এখন আমরা যদি পাখি বাড়াতে পারি তবে গাছ বাড়বে। উল্টাভাবে গাছ বাড়াতে পারলে পাখি বাড়বে। কিছুদিন আগে হিসাব করেছিলাম জলবায়ু পরিবর্তন ও নানান পরিবেশ দূষন সামাল দিতে ১.৫ ট্রিলিয়ন গাছ লাগাতে হবে পৃথিবী জুড়ে। আগামী ১০ বছরেই কাজটা করতে হবে। তাতে জনপ্রতি গাছ লাগাতে হয় ১৯২টা। ১০% মানুষ গাছ লাগাবে ধরে নিয়ে।

জন প্রতি বছরে যদি ১৯২টা করে গাছ আগামী দশ বছর ধরে লাগাতে হয় তা ম্যানুয়ালি সম্ভব না। সেজন্য প্রযুক্তির আশ্রয় নিতে হবে। হয় ড্রোন দিয়ে বীজ ছিটাতে হবে নতুবা হেলিকপ্টার দিয়ে। অথবা কম খরচের কোন ব্যবস্থা। এখানেই আমরা প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়ে কিছু কাজ করছি। বনকাগজ, আলো প্রোজেক্ট, টুই এগুলার মাধ্যমে গাছ, পাখি দুটোই বাড়ানোর চেষ্টা। যেখানে ব্যবহৃত কাগজ, বীজের সামাজিক বিস্তার, পাখির বাসা বসানোর কাজ চলে। পাশাপাশি এটা একটা মডেল উদ্যোগ। পরিবেশ বান্ধব আবার কর্মসংস্থান তৈরি করে।

দেশী গাছ লাগাতে হবে পাখি বাড়ার জন্য। যেমন বট, পাকুড়, ডুমুর, ছাতিম, তেতুল, কামরাঙ্গা, করমচা, ঢেউয়া, গাব, কাউ, বেতুন, আপৌন এরকম আরো যত আছে। যে কোন উপায়েই হোক আরো বহু মানুষ, সামাজিক সংগঠন, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, প্রাইভেট ও পাবলিক প্রতিষ্ঠান গাছ ও পাখি বাড়ানোর কাজে অংশগ্রহণ করা উচিত। কাজগুলা অনেক মজার। ডিপ্রেশন কাটে। বাচ্চাদেরও এসব কাজে যুক্ত করা যেতে পারে। তাদেরও খুব ভাল সময় কাটবে।

লেখক: মাহবুব সুমন

পরিবেশ কর্মী, গবেষক-নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তি

Sharing is caring!

Related Articles

Back to top button