প্রতিক্রিয়া: আমি স্তব্ধ!!!

কুলাউড়ায় খাসিয়া পানজুমে আবার বহিরাগতের হামলা। সব পান কেটে তছনছ করেই যায়নি, ধ্বংস করে দিয়ে গেছে সাজানো স্বপ্ন, সাজানো ছোট ছোট সংসার, ছোট ছোট শিশুর মুখের গ্রাস! একমাত্র জীবিকার পথ পানজুম। তাও কেড়ে নিল। এই কেড়ে নেওয়ার অর্থ কেড়ে নেওয়া বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিতে চায়, উদ্বাস্তু করতে চায়, দেশান্তরে বাধ্য করতে চায়।

আমি স্তব্ধ!!!
বাক হারিয়ে ফেলেছি। বহিরাগতদের দ্বারা খাসিয়াদের পানজুম দখল করা হয়েছে। আমরা কার কাছে বিচার চাইব? সরকার? প্রশাসন? দলীয় প্রভাব ছাড়া কি সম্ভব ‘জোর যার মুল্লুক তার’? প্রশাসনের মদদ ছাড়া কি সম্ভব দেশের আইন–বিচারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভূমিদস্যুদের প্রকাশ্য দিবালোকে খাসিয়াদের পানজুম দখল করা? তথ্য–প্রযুক্তির যুগে এমন নগ্ন কায়দায় পেশীশক্তির প্রদর্শন কখনোই সম্ভব না যদি না সেখানে দলীয় ক্ষমতার নির্দেশ থাকে। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে চললেও প্রশাসন কেন নীরব ভূমিকা পালন করে চলেছে? ভূমিদস্যুরা সরকার থেকেও কি ক্ষমতাশালী?

আমি স্তব্ধ!
আমি অমানুষ কাকে বলি? ভূমিদস্যুদের নাকি প্রশাসনকে? ভুলে মানবরূপে জন্মানো মনুষ্যত্বহীন কাকে বলি ভূমিদস্যু নাকি দলীয় মাফিয়াকে? নির্লজ্জ-বেহায়া কাকে বলি? ভূমিদস্যু নাকি নেত্রী আপনাকে? এখানে বিচার প্রহসনমাত্র।

আমি খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের কাওকে চিনি না। এ সময়েও কেএসইউ নামক এই সংগঠন কি নীরব থাকবে? বিভিন্ন পুঞ্জির মন্ত্রীগণ কি নীরব ভূমিকা পালন করেই যাবেন? কখন প্রতিবাদে গর্জে উঠবে খাসি সমাজ? কোথায় তোমার প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর কুলাউড়া আন্তপুঞ্জি সংগঠন? কোথায় আপনারা নেতৃবৃন্দ? একের ক্ষত সকলে নিয়ে প্রতিবাদে শামিল হোন, পরস্পরের হাত শক্ত করে বজ্রমুষ্টিতে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিন। অন্যায়–অত্যাচার–অবিচারের বিরূদ্ধে সংগ্রামী চেতনায় লড়াই চালিয়ে যান। অবশ্যই পাহাড় আপনাকে ছায়া দিবে, ছরার জল আপনার মধ্যে ঝঞ্ঝার বারি ঝরাবে, বন দিবে শক্তি। আজ যে পাহাড়ি ময়নার খাবার কেড়ে নিতে চায় এই অপশক্তি, তাকেও করতে চায় দেশান্তরী, সেও হবে আপনার সংগ্রামে শামিল, শক্তি–প্রতিবাদের দৃপ্ত সুর সেও আপনার কণ্ঠে যোগাবে। তবে আর কিসের ভয়? আওয়াজ তুলুন, প্রতিবাদ করুন।

আর, হে রাষ্ট্র, এটাও কি সার্বভৌমত্বে আঘাত নয়? একটি স্বাধীন দেশের একজন স্বাধীন নাগরিকের স্বাধীন জীবনে আঘাত কি সার্বভৌমত্বে আঘাত নয়?
সার্বভৌমত্ব তুমি তোমার নিজ হাতে খুন করে চলেছ। বিদেশের মাটি নিয়ে তুমি কান্না কর অথচ দেশে যখন সাম্প্রদায়িক হামলা হয়, তখন তুমি মুখ টিপে হাস। মূলস্রোতের কয়জনইবা প্রতিবাদ করে এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিরূদ্ধে? অন্যায়–অত্যাচার, শোষণ–নিপীড়নের বিরূদ্ধে? জনাকয়েক গুনীজন ছাড়া আর কারোর মুখে প্রতিবাদ শুনি না বরং ফেইসবুক কি মিডিয়ার মন্তব্য–জানালা ভরে যায় নানান অশালীন মন্তব্যে; যতোদিন সাম্প্রদায়িক মনোভাব জিইয়ে রাখবে ততোদিন কি সম্ভব দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা? অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ে তোলা?

দেশে আজ ভূমিদস্যুর জোয়ার!
আদিবাসী ভূমিতে ফ্রি–তে দেখা যায়।

আদিবাসী মায়ের কান্না কে শোনে? আদিবাসী মায়ের দুঃখ কে দেখে? কার কাছে বিচার চাইবে আমার মা? কে আছে আমার?

সব দুঃখ–কষ্ট ভুলে আমি ইউটিউবে দেখি — আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বজন হারানোর কান্না!
মনের নিভৃত কোণে নীরবে চুপচাপ কেউ যেন টের না পায় এমন করে নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করি —
“অভিনয় না তো আবার?”

উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে দেশ, ভূমিদস্যুর জোয়ার
উন্নয়নের জোয়ার, জোর যার মুল্লুক তার।

লেখক: কবি, দেবাশীষ ইমানুয়েল রেমা

Sharing is caring!

Related Articles

Back to top button