পাপের ভাগীদার কে কে আমরা জানিঃ শিখছি কি? নাকি রাজনৈতিক অ্যামনেশিয়াতে আবদ্ধঃঃ ডঃ অমিতাভ আইচ

দীঘা ও মন্দারমনীতে কাদের আমলে সিআরজেড আইন ভেঙ্গে এতো হোটেল রিসোর্ট? সে সময় দীঘা শঙ্করপুরের উন্নয়ন দপ্তরের মাথা কে ছিলো? একজন বিখ্যাত জিওলজিস্ট, নাম নাই করলাম। তবে ইনি হলেন তিনি, যিনি নয়াচরে কেমিকাল হাব তৈরীর সমর্থনে নয়াচরকে CRZ 1 ও মোটেই ঝুঁকি পূর্ণ নয় বলেছিলেন। নয়াচর হয় নি। বেঁচে গেছে। দীঘার অবস্থা আরও খারাপ হবে। এতো সবেই শুরু। বিগত ৫০-৬০ বছর ধরে একটু একটু করে বালিয়াড়ি আর সেই বালিয়াড়িকে ধরে রাখালতাগুল্মো (sand dunes and sand binders) গুলোকে একটু একটু করে ধ্বংস করে সবচেয়ে বিপজ্জনক হায়েস্ট হাই টাইড লেভেলের ৫০০ মি এর ভিতর যাবতীয় ঘর, বাড়ি, দোকান, রাস্তা, রিসোর্ট তৈরী করানো হয়েছে। দীঘাকে ধ্বংস করার পর, তার থেকে শিক্ষা নেওয়া হয় নি, মন্দারমনি, তাজপুরে এই মডেল নকল করা হয়েছে। কোর্ট অর্ডার দিলে বিদ্যুৎ কেটে দিয়েও বড় বড় ক্যাপটিভ জেনারেটার লাগিয়ে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের জন্য প্রমোদকেন্দ্র বানানো হয়েছে। এই ভাবে নাকি অনেক কর্মসংস্থান হচ্ছে।

মমতা সরকার সাগর ও দীঘায় অবৈজ্ঞানিক সৌন্দর্যায়ন করিয়েছিলেন, যে কোন দিন জলোচ্ছ্বাসে তাও ভাঙ্গবে জানারই কথা। একদম ঠিক। কিন্তু তার আগের ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে কি করে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনকারী পারশিয়াল অ্যামনেশিয়া একটা মারাত্মক অপরাধ।

দীঘায় গার্ডওয়াল রাখা যাচ্ছে না?? যাবে না। সুন্দরবনে কি করে রাখা যাবে?? তথাকথিত কংক্রিটের বাঁধ তো ছিলো পলিপ্রপিলিনের উপর ব্রীক পিচিং। নবীন মোহনায় যা প্রতিমুহূর্তে নিজের গতি মুখ, এক্রিশন, ইরোশন পরিবর্তন করে, সেখানে অলৌকিক কংক্রিটের বাঁধের কথা বলে লোককে বিভ্রান্ত করা কিন্তু একই রকম অপরাধ।

মমতা ব্যানার্জির দপ্তর কাজ করেনি। বেশ মানলাম। কাজটা কি করতে হবে সেটা গত ৪৪ বছরে কেউ বুঝতে পেরেছে?!! সেই বোধ এদের আছে কারুর, পড়াশোনা, স্কিল, মোটিভেশন, সততা। পাশে বাংলাদেশকে দেখে শিখুক। তাও তো ওপেন মিটিং এ মুখ্যমন্ত্রী সেদিন বলেছেন। অনেক কথা, ইনক্লুডিং “তোমার কি করো? বছর বছর টাকা গুলো কি জলে দাও”।

কিন্তু তার আগে এতো গুলো বছরে উপরে বর্নীত কেলেঙ্কারির ছাড়া গোটা সুন্দরবনে এতো ম্যানগ্রোভ ধ্বংস কোন রাজনৈতিক দলের নেতারা করেছে?? কারা গোটা বঙ্গের মানুষকে, বিশেষ করে সুন্দরবনের মানুষকে নোনাজমির, গভীর জলের ধান থেকে উচ্চ ফলনশীল ধানে ঢুকিয়েছে, যেটা থাকলে এই নোনা প্লাবনের এফেক্ট অনেক কম হতো। অর্ধসত্য কথার ও অবৈজ্ঞানিক কথার একটা লিমিট থাকা দরকার। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কৃষি দপ্তরকে গোটা উপকূলবর্তী এলাকায় নোনাধানের সরবরাহ তরান্বিত করতে বলেছেন। রাতারাতি কিছু হবে না। তবে সাধুবাদ জানাই।

পাপের বোঝা বারিয়ে লাভ নেই। অজ্ঞানতা ও অজ্ঞতা ছড়িয়েও না। #ClimateEmergency ঘিরে ধরেছে আমাদের। এর থেকে বাঁচতে গেলে যারা সত্যিটা স্বীকার করে মাঠে কাজ করবেন তাদের স্বাগত জানানো দরকার। বাকীদের জায়গা আস্তাকুঁড়ে।

  1. লেখক: ডঃ অমিতাভ আইচ, প্রাণবৈচিত্র্য গবেষক ও পরিবেশ বিজ্ঞানী

Sharing is caring!

Related Articles

Back to top button