বন বিভাগ কর্তৃক মধুপুরের শতাব্দীপ্রাচীন শ্মশান দখলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় টেলকীতে আদিবাসীদের ভূমি ও কবরস্থানের উপর ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়নের নামে গাছ কেটে গেস্ট হাউজ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের প্রতিবাদে  বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার (৩০ মে) সকাল ১১ টায় টেলকী বাজরে ‘মধুপুরের বিক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র-জনতা’র আয়োজনে এই সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রনেতা লিয়াং রিছিলের সঞ্চালনায় ও বাগাছাস কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জন জেত্রার সভাপতিত্বে উক্ত আয়োজনে প্রায় দুই শতাধিক আদিবাসী ছাত্র, যুব ও গ্রামবাসী অংশগ্রহন করেন।উক্ত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধারন সম্পাদক অলীক মৃ, জিএসএফের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রলয় নকনেক, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক টনি ম্যাথিউ চিরান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সদস্য গৌতম কর ও নারী নেত্রী লিজা নকরেক, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের  সভাপতি অনন্ত বিকাশ ধামাই ও আজিয়া’র সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মানকিন প্রমুখ।

সমাবেশের শুরুতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন লিয়াং রিছিল। মূল বক্তব্যে তিনি বলেন,ব্রিটিশ শাসনামল, পাকিস্তান শাসনামল পেরিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫০ বছরেও মধুপুর গড়াঞ্চলের আদিবাসীদের ভূমির মালিকানা ও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। উপরন্তু বিভিন্ন সরকারের সময় জাতীয় উদ্যান, ইকোপার্ক, ইকো ট্যুরিজম, ফায়ারিং রেঞ্জ ও সংরক্ষিত বনভূমি ঘোষণার নামে আদিবাসীদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদের নীল নকশা করেছে। বিভিন্ন সময় সরকারের বনবিভাগ অপরিকল্পিত, পরিবেশ আগ্রাসী ও বন বিনাশী প্রকল্প গ্রহন ও বাস্তবায়ন করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। উক্ত সমাবেশ থেকে চার দফা দাবীনামাও উত্থাপন করেন এই ছাত্রনেতা। উক্ত দাবীগুলো হল- টেলকী গ্রামে তথাকথিত আরবোরেটামের নামে আদিবাসীদের শশ্মান এর স্থানে প্রাচীর নির্মান ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্থাপনাসহ প্রকল্প বাস্তবায়ন অবিলম্বে বন্ধ করা, আদিবাসীদের স্বত্বদখলীয় কৃষি ও ফসলি জমিতে কোনো ধরণের প্রকল্প বাস্তবায়ন না করা, জাতীয় উদ্যান ও সংরক্ষিত বনভূমি ঘোষণা বাতিল করে আদিবাসী উচ্ছেদ বন্ধ করা এবং আদিবাসী প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি প্রদান ও সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করা।

Sharing is caring!

Related Articles

Back to top button