কম গভীরতার ভূকম্পন বাড়িয়েছে সিলেট শহরের ঝুঁকি

শনিবার (২৯ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সিলেটে পর পর ৪ বার ভূকম্পনের তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। তবে সিলেটের স্থানীয়রা বলছেন, ৭ থেকে ৮ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে তাদের। আবহাওয়া অফিসের সূত্রের বাইরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য যাচাই করে এ অঞ্চলে আরো একাধিক ভূকম্পনের তথ্য পাওয়া গেছে।

Temblor, Inc ভূমিকম্পের ঝুঁকি এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন বিশেষীকরণকারী একটি সংস্থা। সংস্থাটি দুপুর ২টায় সিলেটের ছাতক এলাকায় একটি ভূকম্পনের তথ্য দিয়েছে। যা উঠে আসেনি বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যে।

তাদের দেওয়া তথ্যে দেখা যায় দুপুর ২টায় সিলেটের ছাতক এলাকায় রিখটার স্কেলে ৩.৪ ম্যাগনিচিউডের একটি ভূকম্পন হয়। শ্যালো এই ভূকম্পনটির ডেপথ ছিলো ভূ-উপরিভাগের মাত্র ৩.৪ কিলোমিটারের মধ্যে। এছাড়া, এই অঞ্চলে আরো ৪টি ভূমিকম্পের তথ্য দেয় সংস্থাটি।

সিলেট অঞ্চলের ভূমিকম্প ঝুঁকি নিয়ে গবেষণা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ নাথ। ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস নিয়ে চীনের বেইজিংয়ের অ্যারোস্পেস ইনফরমেশন রিসার্চ ইনস্টিটিউট (তৎকালীন নাম: ইনস্টিটিউট অফ রিমোর্টসেন্সিং অ্যান্ড ডিজিটাল আর্থ) থেকে পিএইচডি করেছিলেন তিনি। এই গবেষক বাংলাভিশন ডিজিটালকে জানান, সিলেটে এই মুহূর্তে যেটি হচ্ছে সেটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির ইংগিত করছে।

ড. বিশ্বজিৎ নাথ বলেন, গতরাত ১০.৫১ মিনিটে মিয়ানমারের সাগেইন এলাকায় রিখটার স্কেলে ৪.৪ ম্যাগনিচিউডের একটি ভূকম্পন হয়। সেই থেকেই একের পর এক ভূমিকম্প হয়ে চলেছে। সকালে শিলংয়ে ৩.৫ মাত্রার একটি শ্যালো ভূকম্পন হয় যার ডেপথ ছিলো ভূ-উপরিভাগের ১১ কিলোমিটার গভীরে। তারপর সকাল ১০.৩৬ মিনিটে সিলেটের জৈন্তাপুরের লালাখাল এলাকায় ৩.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। এটিও ছিলো ১৫ কিলোমিটার গভীরে। এরপর আশপাশে আরো কয়েকটি ভূমিকম্পের তথ্য পাওয়া যায়। তবে সবশেষ ছাতকে যে ভূকম্পনটি হয়েছে এটি আমাদের জন্য বেশি এলার্মিং।

তিনি বলেন, টেমলর-এর তথ্য অনুযায়ী রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিলো ৩.৪ ম্যাগনিচিউড। মাত্রা কম থাকলেও ঝুঁকির বিষয় হলো, এটি ভূ-উপরিভাগ থেকে মাত্র ৩.৪ কিলেমিটার গভীরে ছিলো। শহরের এতো কাছে এতো কম গভীরতার ভূমিকম্প আরেকটু বেশি মাত্রার হলেই বড় ধরনের বিপদ বয়ে আনতে পারতো।

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে হয়তো এই ভূমিকম্পের প্রভাব শুরু হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে গভীরে গবেষণা করলেই দেখা যেতে পারে ওখানকার মাটির অনেক পরিবর্তন এসেছে। হয়তো দেখা যাবে মাটি ঝরঝরে বা স্যাঁতস্যাতে হয়ে গেছে অথবা পানি চুয়ে আসছে। আরো ভিন্ন রকমের পরিবর্তনও দেখা যেতে পারে।

ইন্ডিয়ান ও আরাকান প্লেটের অভ্যন্তরীণ প্যারালাল মুভমেন্ট চলছে এটা অনেকটা স্পষ্ট। এই অবস্থা সিলেট, মেঘালয়, আসাম, শিলং ও মনিপুর অঞ্চলে বড় ধরনের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ইংগিত করছে। আজ দিনভর যে পরিস্থিতি দেখা গেলো তা থেকে এখানে আরো ভূমিকম্পের ইংগিত পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান এই ভূমিকম্প গবেষক।

ঝুঁকি এড়াতে এখনই সিলেট এলাকাকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা, কোথাও মাটি তরল বা স্যাঁতস্যাতে কি না খতিয়ে দেখার পাশাপাশি কোনো ভবন হেলে পড়েছে কি না যাচাই করারও পরামর্শ দেন ড. বিশ্বজিৎ নাথ।

সূত্রঃ কেফায়েত শাকিল, বিভি/কেএস/এসডি

Sharing is caring!

Related Articles

Back to top button