বাংলাদেশি দম্পতির গবেষণায় ব্যাঙের নতুন প্রজাতির সন্ধান

করোনাভাইরাসের দুঃসময়ের মধ্যে পৃথিবী যখন ঘরবন্দি ছিলো সেই সময় গবেষণায় মনযোগী হয়েছিলেন বাংলাদেশি দম্পতি হাসান আল রাজি চয়ন ও মারজানা মারিয়া। তাঁদের সেই গবেষণার ফল হিসেবে আবিষ্কার হলো, ব্যাঙের নতুন একটি প্রজাতি। সিলেট বিভাগ থেকে আবিস্কার হওয়ায় সিলেটের সংগে মিলিয়ে নতুন প্রজাতিটিকে তাঁরা নাম দিয়েছেন Leptobrachium sylheticum। যা বাংলাদেশের ব্যাঙের তালিকার ৫৩তম প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি পেলো।

শুক্রবার জার্নাল অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে প্রকাশ হয় তাঁদের গবেষণাপত্রটি। যদিও তাঁরা গবেষণাটির স্বীকৃতি পেয়েছিলেন চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি।

জার্নালে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, Leptobrachium sylheticum নামে নতুন করে স্বীকৃতি পাওয়া ব্যাঙটি আগে Leptobrachium smithi নামে পরিচিত ছিলো। কিন্তু শরীরের পরিমাপ এবং পুরুষ ব্যাঙের ডাক ভিন্ন থাকায় উচ্চতর বিশ্লেষণ এবং ডিএনএ অ্যানালাইসিস করে সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি হিসেবে ব্যাঙটিকে চিহ্নিত করা হয়।

গবেষণাটি মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় করা হয়। যা করেছেন তরুণ গবেষক হাসান আল রাজি চয়ন ও মারজানা মারিয়া। এই গবেষণায় তাঁদের মেন্টর ছিলেন রাশিয়ার লমনসভ মস্কো স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নিকলায় পায়ারকোভ। বাংলাদেশি গবেষক দম্পতির মধ্যে চয়ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমানে পিজিআইএস-এর ইনভায়রনমেন্টাল কনসালটেন্ট। মারজিয়া এখনও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগে পড়াশোনা করছেন।

গবেষণাটি জার্নালে প্রকাশের পর তরুণ দুই গবেষকের সংগে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। এই সময় তাঁরা অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

হাসান আল রাজি চয়ন বাংলাভিশন ডিজিটালকে জানান, বন অধিদফতর থেকে অনুমতি নিয়ে গত বছরের জুনে সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ব্যাঙ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন তাঁরা। নভেম্বরে গবেষণাটি সাবমিট করা হয়। যার স্বীকৃতি আসে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি।

তিনি বলেন, এটা একটা নতুন প্রজাতির ব্যাঙ। আগে আমরা এটাকে ভুল নামে জানতাম। আসলে একে অন্য একটা প্রজাতির সংগে গুলিয়ে ফেলা হয়েছিলো। তবে এই ব্যাঙ নিয়ে আমার সন্দেহ ছিলো দীর্ঘ দিন থেকেই। Leptobrachium smithi নামে পরিচিত হলেও আসলে এদের ডাকের ধরন এবং ফ্রিকোয়েন্সি আলাদা। এছাড়াও ডাকের মাঝে যে বিরতি তার পরিমাণও ভিন্ন।

আমার সন্দেহ স্পষ্ট করতে গত বছরের জুন মাসে আমরা এই ব্যাঙ নিয়ে কাজ শুরু করি। এদের ডিএনএ অ্যানালাইসিস করেছি, শরীরের পরিমাপ করেছি এবং এদের মলিকুলার বিশ্লেষণের পাশাপশি পুরুষ ব্যাঙের ডাক বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি হিসেবে নিশ্চিত হই। তারপরই ডাটা সাবমিট করি, অবশেষে তা প্রকাশ হয়েছে।

সূত্রঃ কেফায়েত শাকিল,  বিভি/কেএস/এওয়াইএইচ

Sharing is caring!

Related Articles

Back to top button