চিনা ধানের আবাদ ফিরিয়ে আনুক চিরচেনা বাংলাকে

আমাদের দেশ থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে নানান মজাদার শস্য , বিশেষ করে ধান। অনেক ধানের নামও আমরা জানি না। তবে এইবার কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে নদ ও নদী তীরবর্তী বালুকাময় চরাঞ্চলে ফিরে এসেছে  বিলুপ্তপ্রায় চিনা ধান। নতুন প্রজন্মের অনেকেই চিনা ধান না চিনলেও এক সময় এই চরাঞ্চলীয় জমিতে এর ব্যাপক চাষাবাদ হত।

প্রমত্ত ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমর নদ ও গঙ্গাধর নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের অনেক জমিতে বন্যা পরবর্তী পলির পুরু স্তর জমায় সেখানে পরীক্ষামূলক সেচ নির্ভর বোরো ধানের চাষ হচ্ছে, ফলাফল আশাব্যঞ্জক। কিন্তু ওইসব নদ ও নদী তীরের কিছু এলাকায় পলি জমে না এমন বেলে দো-আঁশ মাটিতে ভাতের ধান চাষ কঠিন, তবে তা চিনা ধান চাষের উপযোগী।

চিনা সাধারণ চালের বিকল্প হিসেবে মানুষ রান্না করে খেত, ছোট আকারের ধান হওয়ায় বাজারে আতব চালের মত এর চাহিদা। তবে ধনী শ্রেণির মানুষের শখের পায়েস রান্নায় চিনার কদর ছিল। এখনো আছে কিন্তু চাষ কমে যাওয়া এটা দুর্লভ হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা। অনেক সময় এ ফসল অগ্রিম বিক্রি হয়ে থাকে, ফলে বাজারজাত করার কোন ঝুঁকি নেই কৃষকদের। শহর থেকে পাইকাররা গিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে মণ প্রতি চিনা ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা দরে কিনে নিয়ে যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন জানান, এবার উপজেলায় চিনার ফলন ভালো হয়েছে। হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদন ১দশমিক ২ মেট্রিকটন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ফসল চাষে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। আমরা চরাঞ্চলে চিনা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এবারে নারায়নপুর ইউনিয়নের উত্তর ঢাকডহর, চৌদ্দঘুরির চর, নুনখাওয়া ইউনিয়নের চরকাপনা, কালীগঞ্জের কুমেদপুর, বেরুবাড়ীর চর বেরুবাড়ী, বল্লভেরখাসের মাদারগঞ্জ, কচাকাটার তরিরহাট, কেদারের বিষ্ণুপুর, টেপারকুটি, কচারডারার এমন ১৬ হেক্টর জমিতে বিলুপ্তপ্রায় চিনা ধানের বীজ ছিটিয়েছেন কৃষক। অনুকূল আবহাওয়ায় অল্প খরচ ও কম পরিশ্রমে ভালো হয়েছে ফলন। কয়েকদিন পরে শীষ খড়ের রং ধারণ করলে ফসল কেটে ঘরে তুলবেন তারা।

Sharing is caring!

Related Articles

Back to top button