কারখানায় আয় বাড়লেও ধ্বংস হয় প্রকৃতি

অসচেতন এবং কর্পোরেট মুনাফা তৈরির মানসিকতা নিয়ে গড়ে কারখানাগুলো কিছু ক্ষেত্রে মানুষের কাছে অভিশাপ হয়ে দেখা দেয়, যেমন কুলাই গ্রামের গৌরি গাঙ নামের একটি ছোট্ট নদীর কূলে গড়ে ওঠা এক বসতির বাসিন্দাদের কাছে।

হাওড়া জেলার ছোট্ট একটি গ্রাম কুলাই। । এক সময় গ্রামবাসীদের ব্যক্তিগত স্বাধীন জীবিকাতেই একসময় নির্মল আবহাওয়ার পরশও ছিল এই অঞ্চলে। দরিদ্রতার সুযোগ নিয়ে সেখানে দানব হয়ে  ঢুকল জিন্দাল স্টীল ও ইন্ডিয়ান টোবাকো নামের দুই কোম্পানি। এতে গ্রামের কিছু মানুষ অস্থায়ী কাজ পেল আর কিছু মানুষ কারখানার বাইরের চা দোকান বানিয়ে ব্যবসা শুরু করলো। মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হলো কিন্তু প্রকৃতি ক্রমান্বয়ে দূষিত হয়ে উঠলো।

উন্নয়নের ছোঁয়ার সাথে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ল কারখানা থেকে হু হু করে বেরিয়ে আসা বিষাক্ত সব তরল। গ্রামের গাছপালা ওই বিষাক্ত তরলে দিনের পর দিন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আর নদীর জলের বিষাক্ততায় পুকুরের মাছ মরে ভেসে উঠছে পাড়ে।

পানীয় জলেও রাসায়নিক পদার্থের সংমিশ্রন ঘটছে। এত কিছুর পরেও রাজনৈতিক দলের মাথারা কারখানা থেকে মাসিক অর্থ পাওয়ায় উদ্যোগের লেশমাত্রও দেখাচ্ছেন না। গ্রামবাসীদের হাজার অভিযোগ সত্ত্বেও কারখানাগুলো একই রকমভাবে তরল বের করে ছড়িয়ে চলেছে দূষণ। গ্রামের সেই নির্মলতা আজ ভয়াবহ দূষণের মুখে ধুঁকছে।

তাই সৌরভ প্রকৃতিবাদীর মতো কিছু পরিবেশ আন্দোলন-কর্মী এগিয়ে এসেছেন প্রতিবাদী ভাষা নিয়ে। বিভিন্ন সরকারি দফতরে ডেপুটেশন লেখাও চলছে। তাঁরা গ্রামবাসীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিরন্তর চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন এই দূষণ থেকে গ্রামকে মুক্তি দিতে।

Sharing is caring!

Related Articles

Back to top button