ধ্বংস নয় চলুন আমরা সৃষ্টি করি-ভুদুম বাঁশ

রাঙামাটি শহরের তবলছড়ি এলাকায় দৃষ্টিনন্দন আনন্দ বিহারের স্থাপত্যের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের আগ্রহের বিষয় ‘ভুদুম’ বাঁশ। আঞ্চলিক ভাষায় এটিকে ডাকা হয় ‘ভূদং’। দেশি প্রজাতির ভুদুম বাঁশের ব্যাস প্রায় দুই ফুট হয়ে থাকে। উচ্চতাও হতে পারে ১৩০ ফুটের মতো। আগে এই বাঁশটি ময়মনসিংহ ও দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে পাওয়া গেলেও বর্তমানে বন উজাড় হওয়ায় খুব বেশি জায়গায় এই জাতের বাঁশের দেখা মেলে না।

বৌদ্ধদের অন্যতম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আনন্দ বিহারের শুরুটা হয়েছিল ১৯৩৪ সালে। নিষ্কর ভূমি হিসেবে তখনকার জেলা প্রশাসক এই জায়গার বন্দোবস্ত করে দিয়েছিলেন। সবমিলিয়ে ১২৫ শতক জায়গার ওপর বিহারটি প্রতিষ্ঠিত।

বর্তমানে বিহারের ঝাড়টিতে শ’ দুয়েকের মতো বাঁশ টিকে আছে। আগে এই জাতের বাঁশ অনেক পাওয়া গেলেও এখন দুর্লভ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। তবে কয়েকদিন আগে থেকে বাঁশগুলো দুর্বল হয়ে ভেঙে পড়ছে অল্প বাতাসেই, কিছু কিছু বাঁশ মরেও যাচ্ছে। ঝাড়টির পাশ দিয়ে গেছে ১১ হাজার কেবি বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন।

মারমা ভিক্ষু প্রয়াত যবনাতিষ্য মহাথেরো বিহার প্রতিষ্ঠার শুরুর কয়েক বছর পরে বিরল প্রজাতির এই বাঁশের জাতটি কক্সবাজার থেকে নিয়ে এসেছিলেন। বিহারের এই ঝাড়টি থেকে বাঁশের চারা নিয়ে পার্বত্য এলাকার কয়েকটি জায়গায় লাগানো হয়েছে। রাঙামাটির অন্য একটি বৌদ্ধবিহার ও এই আনন্দ বিহারে বাঁশের জাতটি সংরক্ষণ করা আছে।

বাঁশঝাড়টি ধ্বংস করতে উঠেপড়ে লেগেছে ওই এলাকার একশ্রেণির লোক। অভিযোগ উঠেছে, বিহারের পাশে থাকা কয়েকটি পরিবারসহ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের যোগসাজশেই চলছে ঝাড়টি ধ্বংস করে দেওয়ার পাঁয়তারা। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই ক্ষোভ জানাচ্ছেন।

একই অভিমত দিয়েছেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার। তিনি বলেন, ‘ব্লিচিং পাউডার বা সাদারঙের অনেক সার আছে যেগুলো বেশিমাত্রায় প্রয়োগ করা হলে গাছের অনেক ক্ষতি হয়, অনেক সময় গাছ জ্বলে যাওয়ার মতো দেখায়। নিশ্চিত হতে আমাদের নমুনা পরীক্ষা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাঁশ সাধারণত অন্য অনেক গাছ থেকে বেশি অক্সিজেন ছাড়ে বাতাসে। এটাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা উচিত।’

তাই এমন প্রজাতির বাঁশ সংরক্ষণের বদলে ধ্বংসের চেষ্টা অনেকটাই ক্ষতিকর । এই বিষয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি বলে মনে করি।

Sharing is caring!

Related Articles

Back to top button