দক্ষিণবঙ্গের নোনাজলের এক উদ্ভিদ কাঁকড়া

কাঁকড়া নিয়ে লিখব আজ। তবে এ কাঁকড়া জলের কাঁকড়া নয়, নয় সুস্বাদু কোন সামুদ্রিক কাঁকড়া। চাইলেই খুন্তি কড়াইয়ের টুংটাং আওয়াজ তুলে রসনায় তৃপ্ত হওয়া যাবেনা। ইনি দক্ষিণবঙ্গের নোনাজলের এক উদ্ভিদ, কাঁকড়া নামে সমাদৃত।
♦সুন্দরবনের অনেক গাছের মধ্যে কাঁকড়াও একটি গাছের নাম। এর ফুলের বৃতিগুলো সাঁতারু কাঁকড়া (Portunus pelagicus)-র মতো দেখায় বলে এই গাছের নাম হয়েছে ‘কাঁকড়া’।
♦তিন প্রজাতির কাঁকড়া গাছ পাওয়া যায় বাংলাদেশের সুন্দরবনে।
♦বকুল কাঁকড়া (Bruguiera gymnorrhiza),
♦লাল কাঁকড়া (Bruguiera parviflora)
♦ চম্পা কাঁকড়া (Bruguiera sexangula)।
♦কাঁকড়া গাছের পরিবারের নাম : Rhizophoraceae।
♦পোস্টের ছবির গাছটি বকুল কাঁকড়ার। এটি একটি মুখ্য বাদাগাছ।
♦সুন্দরবনের কাঁকড়া গাছ:
কাঁকড়া সুন্দরবনের একটি সুন্দর দৃশ্যমান বৃক্ষ। যেখানে কাঁকড়া বন আছে সে বন দেখলে অপুর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মন ভরে যায়। কাঁকড়া গাছের ডালপালা ছাতিম গাছের মত, তবে সংখ্যায় নগণ্য। কাণ্ড সোজা সুপারি গাছের মত দেখায়, একটু পর পর চক্রাকারে কিছু ডালপালা আছে। মাথায় এক গুচ্ছ ডালপাতা আছে। দেখলে মনে হয় যেন গাছের মাথায় একটি সবুজ ছাতা বসে আছে। কালাবগীর কাছের কাঁকড়া বন ও করমজলের কাছে কাঁকড়া বাগান দেখলে অপরূপ সৌন্দর্যে ভ্রমণকারীরা বিমোহিত হয়ে যায়। কাঁকড়া একটি চিরসবৃজ বৃক্ষ। এ বৃক্ষ ৩০ মিঃ পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। কাঁকড়া গাছের বাকল ধুসর হতে বাদামী রঙের হয়। এ গাছে বেটে বায়বীয় প্রোপ মূল আছে। জুলাই-আগষ্ট মাসে কাঁকড়া গাছে ফুল আসে এবং আগষ্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ভ্রূণ গাছ হতে ঝরে পড়ে। ফল গাছে থাকতে বীজ অংকুরিত হয়। কাঁকড়া আলো ভালোবাসে। তবে বাল্য জীবনে বেশি হালকা আলো পছন্দ করে। কাঁকড়া চারার বৃদ্ধি প্রায় ৩-৪ বছর কম হয়। তারপর বৃদ্ধি খুব দ্রত হয়। কাঁকড়া গাছের কাঠ লালচে বাদামী ও অত্যন্ত শক্ত। এ কাঠ বিম, খুটি, বৈদ্যুতিক খুটি, চিরাই কাঠ ও জ্বালানী কাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কাঁকড়া গাছের বাকল হতে ট্যানিন তৈরী হয়।
লেখাঃ মাধবীলতা

Sharing is caring!

Related Articles

Back to top button