হাওড়গুলোর কৃষকের মুখে স্বস্তির হাসি

এবার কালবৈশাখী ঝড় বা অগ্রিম বৃষ্টিপাত না থাকায় অনেক স্থানে নানান সমস্যা হলেও বিভিন্ন হাওর বাওড় এলাকার  চাষি পরিবারকে কোন বিপদে পড়তে হয়নি। নইলে দেখা যায় প্রচুর বৃষ্টিপাতে বা শিলায় ধানের অনেক ক্ষতি হয়ে যায় প্রতি বছর এছাড়া পাহাড়ি ঢলের কারণেও অনেক সময় তলিয়ে যায় ধান। যদিও তীব্র গরমে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানো কষ্টকর হচ্ছে। তবুও বাম্পার ফলন পেয়ে তাই হাসি কৃষকের মুখ। ফসলের ওপর বছরের জমানো স্বপ্ন এবার বাস্তবায়িত হবে এই প্রত্যাশা করছেন তারা।

জানা গেছে, হাওড়ে বোরো ধানই হলো কৃষকদের মূল সম্পদ। সেখানে বছরের ৬ থেকে ৭ মাস পানি থৈ থৈ করে। তাই হাওড়ে বোরো ধানের ব্যাপক চাষাবাদ করেন কৃষকরা। এ ফসলটির উপর নির্ভর করে কৃষকদের পুরো বছরের চলার পথ তৈরী হয়। কিন্তু বোরো মৌসুমে ঝড়বৃষ্টি বোরো ধানের জন্য হুমকী হয়ে দাঁড়ায়। এ সময়ে হাওড় পানিতে ডুবে যাওয়ার আগেই ধান সংগ্রহ করতে হয়।

২৯ এপ্রিল পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলার শতাধিক হাওরে ৯০ ভাগ বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে। এই সপ্তাহেই ধান কাটা সারা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। মৌসুম ভালো হওয়ায় এবার নির্বিগ্নে টানা ধান কাটতে পেরেছেন কৃষক। রোদের কারণে সেই ধানও সহজে শুকিয়ে গোলায় তুলতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এবারও পানি উন্নয়ন নির্মিত ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফসলরক্ষা বাঁধ কোনো কাজে আসেনি।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলায় গড়ে ৯০.৩৩ ভাগ বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে হাওর ও হাওরবহির্ভূত মিলিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত গড়ে ৭৭.৩০ ভাগ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। এবার মৌসুম অনুকূলে থাকায় দ্রুতগতিতে ধান কাটতে সক্ষম হয়েছেন কৃষক।

হবিগঞ্জ জেলাজুড়ে বোরোর বাম্পার ফলনকৃত ধান সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাওড়ে ৩৮ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। বাকী ধান কাটতে কৃষকরা অতিরিক্ত শ্রমিক ও কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। এসব তথ্য জানিয়ে হবিগঞ্জ কৃষিবিভাগ জানান, আশা করা হচ্ছে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত হাওড়ে ৮০ শতাংশ ধান কাটা হবে।

তবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া আগাম বন্যার পূর্বাভাসের কারণে হাওড়াঞ্চলে দ্রম্নত ধান কাটার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে এপ্রিল মাসের শেষদিকে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ওইসব এলাকায় দ্রুত ধান কাটার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে কৃষি অধিদপ্তর থেকে ধান কাটতে মাইকিংও করা হচ্ছে।

 

Sharing is caring!

Related Articles

Back to top button