দক্ষিণবঙ্গে ডায়রিয়ার মূল কারণ খালের পানির ব্যবহার

রকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সমীক্ষায় উঠে এসেছে ভয়াবহ এক তথ্য। গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণবঙ্গে করোনার চেয়েও ভয়াবহ আক্রান্ত হচ্ছে ডায়রিয়াতে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৪ দিনে ২৭ জন মারাও গিয়েছে। গবেষণায় জানা যায় সেখানকার  ৯৪ শতাংশ লোক গভীর নলকূপের পানি পান করলেও ৭১ শতাংশ মানুষ দৈনন্দিন গৃহস্থলি কাজে খালের পানি ব্যবহার করে।

প্রতিষ্ঠানটি বরগুনার খালের পানির নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ল্যাবে পরীক্ষা করে খালের পানিতে মলের জীবাণুর উপস্থিতি পেয়েছে। সমীক্ষাভুক্ত এলাকায় মাত্র ২০ শতাংশ বাড়িতে গভীর নলকূপ আছে।  ২০ জন রোগীর মল পরীক্ষায় তিনজনের মলে কলেরা ও ইকোলাই জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া বিষয়‌টি সমীক্ষায় উঠে এসেছে।

এর মধ্যে খাওয়ার ও গৃহস্থলি কাজে নিরাপদ পানি ব্যবহার নিশ্চিত করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে গভীর নলকূপের সংখ্যা বাড়ানো, খাল–নদীর পানি ফুটিয়ে অথবা বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দিয়ে পানি নিরাপদ করে ব্যবহার করা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আইইডিসিআরের প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করে‌ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির সহকারী পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে আইইডিসিআরের সুপারিশমালা বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ করে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে একটি চিঠি দিয়েছি।’

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় আরো ১ হাজার ৫২৪ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৩ হাজার ৬৬৮। এর মধ্যে গত ২৩ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৬২২ জন। আর গত সাত দিনে আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৭৭৯ জন।

Sharing is caring!

Related Articles

Back to top button