Monday, 10/5/2021 | : : UTC+6
Green News BD

মারাত্মক ক্ষতিকর গাছের বিস্তার হচ্ছে সারাদেশেই

মারাত্মক ক্ষতিকর গাছের বিস্তার হচ্ছে সারাদেশেই

ইউক্যালিপটাস আর আকাশমনির নানান ভ্যারাইটির গাছ খরার সৃষ্টি করে। এছাড়া বাংলাদেশের অবস্থান সাব-ট্রপিক্যাল রিজিয়নে হওয়ায় এদেশের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের সঙ্গে সুপরিচিত স্থানীয় গাছ জন্মাতে পারেনা। ইউক্যালিপটাস  আর আকাশমনি বা একেশিয়া গাছ আশপাশের প্রায় ১০ ফুট এলাকার ও ভূগর্ভের প্রায় ৫০ফুট নিচের পানি শোষণ করে আকাশে উঠিয়ে দেয়। এই গাছ রাতদিন ২৪ ঘণ্টাই পানি শোষণ করে বাতাসে ছাড়ে। এর ফলে মাটিতে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এই গাছের কাঠের গুণাগুণও তেমন ভালো নয়, তবে দ্রুত বর্ধনশীল গাছ হওয়ায় মানুষ এখন এই গাছ লাগানোয় আগ্রহী হয়ে উঠছে পরিবেশের কথা চিন্তা না করেই।

উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জেলা বগুড়া থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশে এবং ক্ষেতের ভেতরে লম্বা একহারা যে গাছ দেখা যায় সেগুলো হলো ইউক্যালিপটাস আর একেশিয়া। খোঁজ নিয়ে জানা যায় বিঘায় বিঘায় আবাদী জমি, পুকুরের চারপাশে ব্যপক হারে চলছে ইউক্যালিপটাস এর চাষ। বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে একে একে তেতুলিয়া, ঠাকুরগাঁও, পীরগঞ্জ, রংপুর, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, নওগাঁ, বগুড়াতে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। এবং আশ্চর্যজনকভাবে একটি গাছের প্রাধান্য এই সব কটি জেলায় বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়ে থাকে, সেটি ইউক্যালিপটাস আর একেশিয়া।
আশ্চর্যের ব্যাপার হলো বেশির ভাগ মানুষই এই ইউক্যালিপটাস এর ক্ষতিকর দিক জানা সত্ত্বেও এ বিষয়ে উদাসীনতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন।  বৃক্ষকথা থেকে কৃষককে প্রশ্ন করি ,  কেনো তিনি ইউক্যালিপটাস এর চারা লাগাচ্ছেন। তিনি বলেন, তার প্রতিবেশী জমির আইলে ইউক্যালিপটাস লাগিয়েছেন, ফলে তার কোনো শস্য হচ্ছে না, তিনিও বাধ্য হয়ে ইউক্যালিপটাস লাগাচ্ছেন। যেহেতু শস্য হচ্ছেই না এই গাছই লাগান তিনিও।
আসলে মানুষ সাময়িক লাভের আশায় ইউক্যালিপটাস বা একেশিয়া লাগাতে উৎসাহী,  যে যে কারণগুলো এই সমস্ত গাছ লাগাতে আগ্রহী করছে কৃষকদের তা হলোঃ
 ১. আমরা এর ক্ষতিকর দিকসমূহ জানি না।
২. সরকার কেনো আইন করে সব ক্ষতিকর গাছ কেটে ফেলছে না।
৩. এই গাছ দ্রুত বর্ধনশীল, তাই কয়েক বছরে অনেক টাকা পাওয়া যায়।
৪. সবাই এই গাছ লাগাচ্ছে তাই আমিও লাগাই কারণ আমার জমিতে ফসল হচ্ছে না।
৫. ইউক্যালিপটাস বা একেশিয়ার  কাঠ বিক্রি করা তুলনামূলকভাবে সহজ।
 এছাড়া এর মধ্যে ইউক্যালিপটাসের ক্ষতিকর  বিশেষ দিক হলো এই গাছটিতে অধিক পরিমাণে তেল থাকায় এটা বেশ দাহ্য এবং খোদ এর আবাসভূমি অস্ট্রেলিয়াতে একে অগ্নি সৃষ্টিকারী হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়।

বাংলাদেশ সরকার ২০০৮ সালে ক্ষতিকর গাছ হিসেবে ইউক্যালিপটাসের চারা রোপণ ও বিপণন বন্ধ করতে বললেও স্বল্প সময়ে কাঠ বিক্রি করে লাভের আশায় উত্তরবঙ্গ হয়ে পড়ছে আরো শুষ্কতম। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে ইউক্যালিপটাস গাছের জায়গায় কাঁঠাল, জাম, নিম বা এ ধরণের গাছ রোপণের পরামর্শ দিয়েছে। তবে ইউক্যালিপটাসের রোপণ নিষিদ্ধ করার পরেও গাছটির বিস্তার সেখানে বাড়ছে।

ছবিসূত্রঃ সৈয়দ তারিক

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

মে 2021
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

ছবি ঘর

    WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com