তীব্র শীতেও ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা

উত্তরের উদ্বৃত্ত ধান উৎপাদনের জেলা নওগাঁর মাঠে মাঠে বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষক। জেলার ১১টি উপজেলার অবারিত ফসলের মাঠ জুড়ে ধান রোপণে কৃষকদের যেন দম ফেলার সময় নেই।

জমিতে পানি সেচ, বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন এবং সেই চারা তৈরি জমিতে রোপণের কাজ চলছে পুরোদমে। নওগাঁর বদলগাছী আঞ্চলিক আবহাওয়া সূত্রে জানা গেছে বৃহস্পতিবার নওগাঁয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০দশমিক ৭ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শামসুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন, যদিও চলতি বোরো মওসুমে জেলায় বোরো চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৬শ ২৫ হেক্টর জমিতে। বিগত আমন মওসুমে কৃষকরা ধানের ভালো দাম পাওয়ার ফলে বোরো মওসুমে এ লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ৮৫ হাজার ৬শ ৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। চলতি মওসুমে কৃষকরা হাইব্রিড এবং উন্নত ফলনশীল উফশী জাতের ধান রোপণ করছেন। হাইব্রিড জাতের মধ্যে সিনজেনটা-১২০৩ ও ছক্কা এবং উফশী জাতের মধ্যে কাটারী, ব্রি-ধান ২৮, ব্রি-ধান ২৯, ব্রি-ধান ৫০, ব্রি-ধান ৮১, জিরাশাইল ইত্যাদি জাতের ধান রোপণ করছেন জেলার কৃষকরা।

জেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, চলতি মওসুমে জেলায় মোট ১ লাখ ৮০ হাজার ৬, ২৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ১১ হাজার ৭শ ১০ হেক্টর এবং ১ লাখ ৬৮ হাজার ৯শ ১৫ হেক্টর উন্নত ফলনশীল উফশী জাতের। চালের আকারে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ ৫৮ হাজ্রা ৬শ ৯৬ মেট্রিক টন। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ৬২ হাজার ৭শ ৬৬ মেট্রিক টন এবং উফশী জাতের ৬ লক্ষ ৯৫ হার্জা ৯শ ৩০ মেট্রিক টন।

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আতাইকুলা গ্রামের কৃষক আবেদ আলী বলেন, চলতি বোরে মৌসুমে ২০বিঘা জমিতে, ব্রি-ধান ২৮, ব্রি-ধান ২৯ জাতের ধান রোপণ করছি। গত আমন মওসুমে ধানের দাম কিছুটা ভালো ছিল। আশা করছি বোরে ধানের দামও ভালো পাবে। তবে শীতের কারনে ধান রোপণের কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকরা যাতে ধানের ন্যায্য মূল্য পায় সেজন্য সরকার একটু যেন আরও বেশি করে আমাদের দিকে নজর দেয়। কৃষকরাই কিন্তু দেশের প্রাণ। আমরা যেন ন্যায্য মূল্য আগামীতে পাই এটাই আশা করছি সরকার বাহাদুরের কাছে।

নওগাঁ সদর উপজেলার বর্ষাইল ইউনিয়ন এর কসবা গ্রামের কৃষক আজিজুল হক, আমার ১০ বিঘা জমিতে , ব্রি-ধান ৮১, জিরাশাইল জাতের ধান রোপণ করেছি। কিন্তু এবার নওগাঁতে খুব শীত ও ঘন কুয়াশা যার কারণে ধানের চারা উত্তোলন ও রোপণ করতে শ্রমিকদের সমস্যা হচ্ছে। তার পরও যেহেতু ধার রোপণের সময় এখন তাই তীব্র শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করেই ধান রোপণ এর কাজ সম্পন্ন করতে হচ্ছে।

উপজেলা ভিত্তিক বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা হচ্ছে, নওগাঁ সদর উপজেলায় হাইব্রিড জাতের ৩ হাজার ১শ ২৫ হেক্টর ও উফশী জাতের ১৪ হাজার ৮শ ৩০ হেক্টরসহ মোট ১৭ হাজার ৯শ ৫৫ হেক্টর। রানীনগর উপজেলায় হাইব্রিড জাতের ৭৫ হেক্টর ও উফশী জাতের ১৮ হাজার ১শ ২৫ হেক্টরসহ মোট ন১৮ হাজার ২শ হেক্টর।

আত্রাই উপজেলায় হাইব্রিড জাতের ৩ হাজার ৮শ ৫০ হেক্টর ও উ‘ফশী জাতের ১৫ হাজার ৩৫ হেক্টরসহ মোট ১৮ হাজার ৮শ ৮৫ হেক্টর। বদলগাছি উপজেলায় হাইব্রিড জাতের ২৪৫ হেক্টর ও উফশী জাতের ১০ হাজার ৭শ ৪৫ হেক্টরসহ মোট ১০ হাজার ৯শ ৯০ হেক্টর।

মহাদেবপুর উপজেলায় হাইব্রিড জাতের ২৮০ হেক্টর ও উফশী জাতের ২৬ হাজার ৩শ ২০ হেক্টর। পত্নীতলা উপজেলায় হাইব্রিড জাতের ১৩০ হেক্টর ও উফশী জাতের ১৯ হাজার ২শ ৬০ হেক্টর। ধামইরহাট উপজেলায় হাইব্রিড জাতের ১ হাজার ৩শ ৪৫ হেক্টর ও উফশী জাতের ১৪ হাজার ৬শ ৬০ হেক্টর।

সাপাহার উপজেলায় হাইব্রিড জাতের ১০ হেক্টর ও উফশী জাতের ৫ হাজার ৪শ ৪৫ হেক্টর। পোরশা উপজেলায় হাইব্রিড জাতের ৫২৫ হেক্টর ও উফশী জাতের ৭ হাজার ৫শ ২০ হেক্টর। মান্দা উপজেলায় হাইব্রিড জাতের ২ হাজার ১শ ১৫ হেক্টর ও উফশী জাতের ১৭ হাজার ৭শ ৩৫ হেক্টর এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় হাইব্রডি জাতের ১০ হেক্টর ও উফশী জাতের ১৯ হজার ২শ ৪০ হেক্টর।

Sharing is caring!

Related Articles

Back to top button