বিপদগ্রস্ত প্রজাতির দুই শকুন উদ্ধার

বগুড়ার শিবগঞ্জে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত প্রজাতির দুটি হিমালয়ান শকুন উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শিবগঞ্জ পৌরসভার আকন্দপাড়া এলাকা থেকে একটি এবং সোমবার বিকেলে শিবগঞ্জ সদর ইউনিয়নের জুরি অনন্তপুর গ্রাম থেকে অন্য শকুনটি উদ্ধার করা হয়।

গতকাল বিকেলে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘তীর’-এর সদস্যরা চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য শকুন দুটিকে বগুড়ায় নিয়েছেন। শকুন দুটি সুস্থ ও সবল হলে দিনাজপুরের জাতীয় উদ্যান সিংড়ায় পাঠানো হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেলে শিবগঞ্জ সদর ইউনিয়নের জুরি অনন্তপুর গ্রামে একটি শকুনকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় সাংবাদিক উৎপল কুমার মোহন্ত রাজশাহী বন্য প্রাণী প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ ও বন বিভাগকে সংবাদ দেন। বন বিভাগ শকুনটিকে উদ্ধারের জন্য ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারকে (আইইউসিএন) দায়িত্ব দেয়। আইইউসিএনের শকুন সংরক্ষণ প্রকল্পের উত্তরবঙ্গের কনসালট্যান্ট মিজানুর রহমান শকুন আটকের খবর পেয়ে উদ্ধারের জন্য পরিবেশবাদী সংগঠন ‘তীর’ সদস্যদের দায়িত্ব দেন।

উদ্ধারকাজে অংশ নেন বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন তীরের কর্মী সাব্বির আহামেদ সাকিল, তৌফিক হাসান, রবিউল ইসলাম রাসেল ও শিবগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোফায়েল ইসলাম সাবু। শকুনটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য বগুড়ায় নেওয়া হয়েছে। একইভাবে গতকাল দুপুরে শিবগঞ্জ পৌরসভার আকন্দপাড়ায় এলাকা থেকে আরো একটি শকুন উদ্ধার করা হয়।

মিজানুর রহমান বলেন, এই দুটি শকুন হিমালয়ী গৃধিনী জাতের। এরা সাধারণত নেপালের আশপাশে এবং হিমালয়ের কাছে বসবাস করে। সেখান থেকে বাংলাদেশে আসতে অনেক সময় লাগে। এ সময় তারা খাবার না পেয়ে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। এ কারণেই তারা মানুষের নাগালে চলে এসেছে।

তিনি আরো বলেন, শকুন দুটি বগুড়ায় তীরের সদস্যদের কাছে আছে। তারা সেবা-যত্ন ও খাবার দিয়ে তাদের সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করছে। সুস্থ ও সবল হলেই আইইউসিএনের শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্র দিনাজপুরে সিংড়া জাতীয় উদ্যান পাঠানো হবে।

সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘টিম ফর এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (তীর)’ বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণে ২০১১ সাল থেকে উত্তরবঙ্গে কাজ করে আসছে।

Sharing is caring!

Related Articles

Back to top button