Saturday, 15/8/2020 | : : UTC+6
Green News BD

পাটশিল্পে ব্যর্থতা ডান ও বামের সম্মিলিত অপব্যবস্থাপনার ফসল

পাটশিল্পে ব্যর্থতা ডান ও বামের সম্মিলিত অপব্যবস্থাপনার ফসল

ফাইজ তাইয়েব আহমেদ: সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত সব পাটকল বন্ধ ঘোষণা করেছে। পাটকল বন্ধের কয়েকটি দিক আলোচনা করবো।

একজনপ্রিয় পপুলিস্টিক ভিউ। লোকসান হচ্ছে তাই বন্ধ, রাষ্ট্রের সেইভ।

রাষ্ট্রায়ত্ত করনের ১ম বছর থেকেই লোকসান শুরু হয় সর্ববৃহৎ আদমজী পাটকলে। তবে অভিযোগ আছে স্বাধীনতা যুদ্ধের পরেবাংলাদেশ থেকে প্রস্থানের সময় ভারতীয় সেনারা আদমজী সহ বহু পাটকলের অতি মূল্যবান যন্ত্রপাতি ব্যাপকহারে চুরি করেনিয়ে গেছে।

আওয়ামীলীগ বাম দলগুলোর চরম সমালোচনার মুখে একটি কঠিন প্রক্রিয়ায় আদমজী বন্ধ করে তার আংশিক জায়গায়আদমজী ইপিজেড স্থাপন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার, এতে শিল্পমন্ত্রী নিজামীর ভূমিকা ছিল। শুধু বন্ধেরআগের বছরেই ১৮০০ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছিল মিলটি, যা সেই সময়ে জাতীয় রাজস্ব আয়ের প্রায় ১০% এর কাছাকাছিছিল। ইপিজেড হওয়ায় নতুন শিল্প বহু শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায়, অর্থনীতিবিদরা সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল বলেই মনেকরেন। (মামুন রশীদ, জুলাই ০৪, ২০২০, বণিকবার্তা)

লোকসান, চুরি আর কাজে ফাঁকি দেয়া, শ্রমিক ইউনিয়নের দৌরাত্বদুর্বিত্তপনার কারনে লোকাসানি মিল বন্ধের গ্রহণযোগ্যতাআছে অর্থনিতীতে। এখানে ডেভেলপমেন্ট পার্টনারদের প্রত্যক্ষ প্রভাবও আছে। বর্তমানে দেশে যে পাট পাটজাত পণ্যউৎপাদিত হয় তার ৯৫ শতাংশই বেসরকারি পাটকলে উৎপাদিত হয়। ফলে পাটকল বন্ধের নতুন সিদ্ধান্ত খুব জনপ্রিয়।

—————————–

দুইঅপব্যবস্থাপনা, চুরি লুট বন্ধ করো, শিল্প নয়।

—————————–

নতুন করে কোটি লোক যখন বেকারত্বের ঝুঁকিতে তখন পাটকল বন্ধ করা শ্রমবাজারে কি একটা ভয়ংকর বার্তা পৌঁছাচ্ছে না? শিল্প বন্ধ করে কর্মসংস্থান আগাবে কিভাবে? আদমজীতে ইপিজেড হয়েছে বলে ব্যাপারটা ভিন্ন। কিন্তু এককালে বিশ্বের সর্ববৃহৎমুস্লিম কটন মিল সহ বাকি মিলগুলোতে দেখা গেছে, শিল্পএর যন্ত্রাংশ তো বটেই, আবাসিক ভবনের দরজা জানালা পর্যন্ত চুরিকরা হয়েছে (আজাদ সাহেবকে দেয়া হয়েছে পরে) বন্ধ হওয়া বহু শিল্পেই নতুন শিল্প হয়নি, বরং সেগুলা পরিত্যাক্ত। ভৌতকাঠামোগুলোকে বাঁচানোর চেষ্টাও হয়নি।

আবার কথা হচ্ছে, চুরি লোকসান শুধু পাটকলে হচ্ছে? দলীয় দুর্বিত্তদের কুইক রেন্টাল আর ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে, ১০ হাজারমেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বসিয়ে রেখে, বিদ্যুৎ খাতকে হাজার কোটি ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে বছরে। সরকারের প্রায় সবপ্রতিষ্ঠান লোকসানে। কে চুরি করছে না এই সময়ে, কে চুরি করেনি এই দেশে? চুরি লুট বন্ধ না করে, পুরো শিল্পই বন্ধ কেন? লোকসানের কারনেই যদি বন্ধ হয়, কুইক লোকসানের আসল খাত গুলো বন্ধ হচ্ছে না কেন?

—————————–

তিনকরোনার সময়ে শ্রমবাজারে ভুল বার্তা।

—————————–

করোনার কারনে দারিদ্র্য বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে প্রায়, নতুন করে প্রায় কোটি লোক বেকারত্বের ঝুঁকিতে, এমন সময় সরকার যদিপাটকল বন্ধ করে ৩০ হাজার শ্রমিক ছাটাই করে তাইলে মার্কেটে কি মেসেজ যায়? সরকারের তো সব অর্থনৈইতিক কর্ম কান্ডেরমূল শ্লোগান হওয়া দরকার কর্ম সুরক্ষা। সরকারই যদি গণ ছাটাই আর শিল্প বন্ধ করে তাইলে বেসরকারিরাতো এক অংকের সুদেঋণ নিয়ে আরো আগে শিল্প বন্ধ করে পাচারে লিপ্ত হয়ে নিজেরাও পালাবে। ইতিমধ্যেই তৈরি পোশাক সহ রপ্তানীমূখী খাতেছাটাইয়ের মচ্ছব শুরু হয়েছে। ঠিক এই সময়ে শ্রম বাজারে কি মেসেজ পাঠাচ্ছে সরকার?

—————————–

চারফিরে দেখা। পাটকলের ব্যবস্থাপনাগত সমস্যা।

—————————–

১৯৭২ থেকেই আদমজী সহ প্রায় ৭০টি রাষ্ট্রীয় সাহায্যে প্রতিষ্ঠিত কিন্তু ব্যক্তি পরিবারিক মালিকানাধীন লাভজনক পাটকলকেঅতি দ্রুততার সাথে রাস্ট্রয়াত্ব করার ভয়ংকর হীন্মান্যতা দেখানো হয়। এখানে শ্রমিকদের উপর দলীয় নিয়ন্ত্রণের রাজনৈতিকইচ্ছা প্রবল ছিল, ছিল লোপাটের ব্যাপক ধান্ধা।

তাই মালিক পক্ষ গুলোর সাথে মিউচুয়াল নিষ্পত্তি না করে, পরিচালানা কাঠামো তৈরি না করে, নেতৃত্ব তৈরি না করে, অপারেশন্সপ্রসেস ঠিক না করে, জোর করে অধিগ্রহণের পর দলীয় চামচা বুদ্ধীজীবি দুর্বিত্তদের বেছে বেছে সেখানে বসিয়ে শ্রমিক নিয়ন্ত্রণ লুটের ফাঁদ পাতা হয়েছে। এইধরনের নির্বোধ কাজে তৈরি হতে যাওয়া সমস্যাগুলো সরকারকে ধরিয়ে দিবার, কিংবা প্রতিবাদকরার মত বুদ্ধিজীবী রাজনৈতিক দল তখন কমই ছিল।

শিল্প ব্যবস্থাপনা জ্ঞান, কৌশলগত অবকাঠামো, শিল্প কারখানার মেইন্টেনেন্স শ্রম বাজারের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ইত্যাদিতেরাজনৈতিক দুরদর্শিতা দেখাতে সেসময় বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বাম দলগুলো চরম ব্যর্থ হয়েছিল। পশ্চাৎপদএবং বিদেশ নির্ভর বামদল গুলো পাটকল রাস্ট্রয়াত্বকরনে একচেটিয়া সমর্থন জুগিয়েছিল। এইসব আত্মঘাতী রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সিদ্ধন্তের পুনঃ মূল্যায়ন বাম দলগুলো কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে করেছি কিনা জানা নেই।

শ্রমিক লীগ রাজনৈতিক ব্যবস্থাপকদের অতি চুরি, ভুয়া বিল, ভুয়া শ্রমিক দেখিয়ে বেতন তোলা, আগুন লাগানোর নাশকতা, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সাথে গোলামী চুক্তি সহ সর্বনাশা অপব্যবস্থাপনার  সব কারনে স্বাধীনতার ১ম বছর থেকে টানাউৎপাদন কমতে শুরু করে। (এস মুজিবউল্লাহ, সেপ্টেম্বর , ১৯৮০, দৌনিক ইত্তেফাক, বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর, মুনীর উদ্দীনআহমদনভেল পাব্লিশিং হাউজ। বহু পত্রিকার কলাম বইতে পাটকলে মজিব আমলের দুর্বিত্তপনার প্রতিবেদন এসেছে)আদমজী সহ প্রায় প্রতিটি পাটকল অধিগ্রহণের ১ম বছরেই লোকসানে যায়, ১৯৭২ ৫কোটি দিয়ে শুরু, ১৯৭৪ তা সাড়েএগার কোটিতে পৌঁছে। দুর্বিনীত দুর্নীতির প্রতিষ্ঠান বিজেএমসি হাতে ৪৮ বছরের মধ্যে ৪৪ বছরই লোকসানে ছিল সরকারি পাটখাত।দলীয়করণ প্রাধান্য পাওয়ায় দুর্নীতির উর্বর ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে আমাদের পাটকল গুলো। ফলে বন্ধ করার সিদ্ধান্তওজনপ্রিয়তা পেয়েছে বটে!

—————————–

পাঁচপাটকলের অন্যান্য সমস্যা গুলো

—————————–

১। বাংলাদেশের পাটকলের প্রধান কয়েকটা সমস্যা ম্যানেজার শ্রমিক নেতাদের চুরিদুর্নীতি।

২। পণ্যের কোন ডিজাইন ভ্যারিয়েশান নাই। ইনোভেশান নাই। পণ্য হিসেবে সুতা সাধারণ ছালা বিক্রির অতি ঝোঁক।

৩। সেলস ফলোআপ নাই, কাস্টমার স্যাটিস্ফিকশান সার্ভে নাই।

৪। দেশীয় আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা মাফিক পণ্য তৈরির বোধ নেই।

৫। চুরিতে মেশিনারি নষ্ট, মেইন্টেনেন্সে মনোযোগ নেই। এটা তো বিচ্ছিন্ন কিছু না, সব সরকারি প্রতিষ্ঠানেরই সমস্যা।

৬। ১৭০০ টাকার পাট ২২০০ টাকা দিয়ে কেনা হয়, কৃষককে ঠকিয়ে দলীয় দালালদের পকেট ভারি করা হয়, অথচ চাইলেইডিজিটাল পেমেন্টে কৃষক থেকে ডিরেক্ট ইন্টারফেইসে আদ্রতা পরীক্ষা করে পাট কেনা যায়।

৭। পাট দিয়ে তৈরি সুতা ঘুষ/কমিশন খেয়ে কম দামে সেট করা দেশি দালাল বিদেশী কাস্টমারদের কাছে বিক্রি করা। এতেবেসরকারি পাটকলও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাইস ওয়ারের বিপদে পড়ে।

৮। শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের দৌরাত্ব, কাজে ফাঁকি, দুর্নীতি দালাল সংযোগ। বাম সংঘঠন গুলো শ্রমিক অধিকার নিয়েআন্দোলন করে কিন্তু এই বিষগুলোতে নিরব থাকে।

কথা হচ্ছে, এই সমস্যা গুলো সবার জানা, এগুলা সমধান যোগ্যও ছিল। এগুলা সাধারণ শ্রমিকরা করেছে না, করছে দলীয়াপান্ডারা। আমি মনে করি পলিটিক্যাল ইচ্ছা থাকলে যে কোন পাটকলই লাভে থাকবে, এটা জাস্ট পলিটিক্যাল উইলের ব্যাপার।যারা চুরি করে পাটকল লোকসানে রেখেছে তারা সরকার গুলোর সেট করা লোকই।

—————————–

ছয়গোল্ডেন হ্যান্ড শেইকের প্রসেস ভুল বন্টন অসম

—————————–

শ্রমিক নেতারা যারা এতদিন কাজ না করে চুরি করলো, তারা অর্ধ কোটির বেশি করে বিশাল টাকা পাবে। শ্রমিকদের বলা হচ্ছে১১১৩ লাখ দিবে, কিন্তু ডিরেক্ট ইন্টারফেইসে, ডিজিটাল পেমেন্টে দেয়া হবে কিনা তার নিশ্চয়তা নেই।

কয়েক বছরের হয়রানি আর ঘুষের পরে শ্রমিকরা লাখ পাবেন হয়ত, তবে এই ৩০৩৫ হাজার শ্রমিক প্রান্তিক দরিদ্র্য হতেযাচ্ছে আগামী বছরের মধ্যেই। ইনারা বেসরকারিতে কাজ পাবে না, তরুণ সেমি দক্ষ শ্রমিকের অভাব নেই, যেহেতুগার্মেন্টস খাতে ছাটাই হচ্ছে। অন্য দিকে গ্রামে কৃষি মাটি কাটার কাজও করতে পারবে না। এইজন্য কারখানা বন্ধ না করে, শ্রমিক ছাটাই না করে, শিল্প শ্রমিক দক্ষতাকে শেয়ারড সরকারিবেসরকারি মালিকানায় কাছাকাছি শিল্পে মাইগ্রেট করাই উত্তম।

এখন যে গোল্ডেন হ্যান্ডশেইক দেয়া হবে, এটার ৫০% লস। এই টাকা দলীয় লোক ছাড়া কারো কাজে আসবে না। একদিকেপ্রসেস ঠিক নাই, অন্যদিকে টামিংও ঠিক নাই।

—————————–

সাতগুরুত্বপূর্ণ বারগেইন পাওয়ার হাতছাড়া

—————————–

২৫ টির সবগুলোই একিসাথে ছেড়ে দেয়ায় সরকারের হস্তান্তরের বারগেইন পাওয়ার কম থাকবে। কারন তাকে একটা বিশাল লটছাড়তে হবে, আগ্রহী ভালো ক্রেতার চেয়ে বিক্রয় প্রার্থী মিলের সংখ্যা বেশি। সাধারণত বেসরকারি মালিক্রা জমির মালিকানা, সহজ শর্তের ঋণ ভিন্ন শিল্পের অনুমতি চায়। যেহেতু অনেক মিল ক্যান্ডিডেট তাই সরকারের ব্যবসায়ী নেতারা যেনতেন দামেমিল কিনে নেয়ার চেস্টা তদবির চাপ তৈরি করবে। আওয়ামীলীগ রাস্ট্র লুটের যে মডেল তৈরি করেছে, পাটকল সচল রাখার যেকৌশলগত ব্যর্থতা তারা দেখিয়েছে, তাতে এটা আমুলক নয় যে, তারা নিজেরাই দলীয় লোকেদের পানির দামে পাটকল তারসম্পদগুলো ধরিয়ে দিবার আয়োজন করেছে।

একটা একটা করে হস্তান্তর করলে সরকারের নেগোসিয়েশন পাওয়া থাকতো। এভাবে লটে না তুলে পাটকল গুলোর জমি শ্রমিকরক্ষা করে, শিল্প বহুমূখী করে ছোট আকারে স্পেশাল ইপিজেড তৈরির উদ্যোগ নেয়া যেত, এতে ভাল বারগেইন করে শ্রমিকদেরকর্ম রক্ষার শর্তেই ভালো দামে মিল হস্তান্তর করা যেত।টার্মস এন্ড কন্ডিশানের একটা ভালো স্টান্ডার্ডস দাঁড়িয়ে গেলে সেটাকেরেফারেন্স ধরে অন্য গুলোর জন্য তা ফলো করা যেত।

—————————–

আটপাটপণ্য হতে পারতো রপ্তানি বহুমুখীকরণের হাতিয়ার

—————————–

একটা কৌশলের মধ্যে নতুন পাট পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার ধরা, নলেজ ক্রিয়েট টারন্সফার, ট্রেনিং এবং এমপ্লয়মেন্ট সুরক্ষাকরে সুসময়ে পাটকল টেকসই করনের অথবা বেসরকারি করনের কাজ করা যেত ধীরে ধীরে। আমাদের বেসরকারি কোম্পানিগুলোই সরকারি পাটকল কিনতে চায়, তাদের অনেকেই লাভে। চায়না সরকারি পাটকলে বিনিয়োগ করতে চেয়েছে।

সাস্তেইনেবল লিভিং জনপ্রিয় হওয়ায় পাট পাটজাত পণ্যের কদর কিন্তু বাড়ছে। পাট পণ্যে গত ১০ বছরের গড়ে বৈদেশিক মুদ্রাআয়ের হার বেড়েছে। কভিড১৯ পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারের পাটের চাহিদা বাড়ছে, এমন একটি সম্ভাবনাময় সময়ে রাষ্ট্রায়ত্তপাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরাও।

ডঃ মোবারক স্যার পাটখড়ি থেকে সোনালী পলিথিন বানাইলেন, কিন্তু বাংলার জৈব পলির কিছুই হল না, ইন্ডিয়া আর চায়নাবায়ো পলি ব্যাগ দিয়ে ইউরোপ আমারিকার বাজার দখল করে বসে আছে। স্যার কিংবা সরকার নিজেও কিছু করলো না, কাউকেকরতেও দিল না। বিএনপির এত সমালোচনা করলো, উপরন্তু এখন নিজেরাই উল্টো রথে। ২৫টি পাটকল একযোগে বন্ধ।

বেসরকারি পাটকলের একটা বড় গন্তব্য ছিল ভারতীয় বাজার, সেখানে এন্টিডাম্পিং নীতিমালা করায় আমাদের পাটশিল্পক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সরকার এই নিয়েও বন্ধুরাস্ট্রের সাথে কাজ করছে না।

কিন্তু পাটকল বন্ধের কাজটা করা হল ঠিক যখন দেশে কর্ম সুরক্ষার খুব দরকার ছিল। তাও বন্ধ হল সব গুলো একসাথে! একদিকে কর্ম রক্ষার দিক থেকে এটা ভুল মেসেজ দিচ্ছে, অন্যদিকে বিকাশমান পাট শিল্পের স্ট্রাটেজি ঠিক না করে, পাট চাষীদেরপণ্যের গন্তব্য ঠিক না করে একযোগে এমনটা করাও সঠিক হয়নি, কেননা এই সবগুলা পাটকলই লোকসানি ছিল না, দুচারটালাভেও ছিল, সেখানে আরো দক্ষতা আনা যেত।

আগেই বলেছি, আদমজীকে ইপিজেড করার মধ্যমে তার কিছুটা গতি হলেও অন্য পাটকল গুলোর কপাল খোলেনি, খুলেছেদলীয় ব্যবসায়ীদের। বিএনপি বেসরকারি পাট খাতের আকার বৈদেশিক রপ্তানি বাড়িয়েছে। তবে শিল্পমন্ত্রী মতিউর রাহমাননিজামী আমলে ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের নারী কর্মসংস্থানের ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। শিল্প পরিচালনায় অনভিজ্ঞ শেখমুজিবুর রহমান সরকার পাটকল পরিচালনা ব্যবস্থাপনার প্রসেস তো ডেভেলপ করেইনি, উল্টো আওয়ামলীগ নেতাবুদ্ধিজীবীরাই পাটশিল্প লুটের মূল কারিগর ছিল। বর্তমানের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতে পাটেরবাজার কৌশলগতকরার উদ্যোগ নেয়ার পরিবর্তে এসেছে এন্টি ডাম্পিংং নিষেধাজ্ঞা। সারাজীবন তারা পাটকল বন্ধের কথা বলে এখন নিজেরাইসবকটি পাটকল বন্ধ করে রাজনৈতিক বেহায়াপনা দেখালো। আর আমাদের বাম! দীর্ঘমেয়াদে আবকাঠামো ভালো রাখারকৌশলগত জ্ঞানহীনতায়, ব্যবস্থাপনা অনভিজ্ঞতায়, অর্থনৈতিক নীতিকৌশলে অজ্ঞ থেকে শুধু আওয়ামী লীগের লেজুড়বৃত্তিকরে গেছে কিংবা কুসুম কুসুম বিরোধিতা করেছে সময়ে সময়ে। শুধু বিএনপি আমলেই এই বিরোধিতায় ধার ছিল, তবে সেখানেটেকসই ব্যবস্থাপনাগত কৌশলগত দাবি ছিল না। বাম ডানের এই সম্মিলিত লুট লেজুড়বৃত্তি আর অজ্ঞতাই আজকেরআতিকায়, বিশালাকার সরকারি পাটশিল্পের মৃত কংকাল। অথচ বাংলার পাটশিল্পই পঞ্চাশ ষাটের দশকে ২য় শিল্পবিপ্লবেএশিয়া বিশ্বের গৌরবময় এক অধ্যায় ছিল।

লেখক : গবেষক লেখক

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

আগস্ট 2020
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

ছবি ঘর

    WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com