Saturday, 15/8/2020 | : : UTC+6
Green News BD

উল্কার আঘাতে ভয়ঙ্কর পরিণতি থেকে রক্ষা পেল পৃথিবী

উল্কার আঘাতে ভয়ঙ্কর পরিণতি থেকে রক্ষা পেল পৃথিবী

মাহবুব সুমন: গল্পটা বলছি। তার আগে ডাইনোসর বিলুপ্তির বৈজ্ঞানিক ধারনাটা বলি।

হাইড্রোজেন বাবল চেম্বার বানিয়ে তাতে পার্টিকেল ফিজিক্সের রেজোনেন্স স্টেট আবিস্কার করে বার্কলের প্রফেসর লুইস ওয়াল্টার আলভারেজ ১৯৬৮ সালে নোবেল পেয়েছিলেন। প্রফেসর আলভারেজ আর তার পুত্র ওয়াল্টার ১৯৮০ সালে ডাইনোসর বিলুপ্তির কারন ব্যাক্ষা করেন। সেটা হলো ৬৬ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর বুকে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার চওড়া পাথুরে একটা কিছু ধুমকেতু বা উল্কা আঘাত করে। সেই আঘাত এবং তার সাথে সম্পর্কিত পৃথিবীতে আলো কমে যাওয়া, সালোক সংশ্লেষণের অভাব আর জলবায়ু পরিবর্তনে খুব দ্রুত পৃথিবীর ৪ ভাগের তিনভাগ প্রান মারা যায়। কিছু একটোথারমিক প্রানী যেমন – সামুদ্রিক লেদারব্যাক কাছিম, কুমির শুধু বেঁচে ছিল। লুইস আলভারেজ আর ওয়াল্টার আলভারেজের নামানুসারে এই হাইপোথিসিস বিজ্ঞান চিন্তায় “আলভারেজ হাইপোথিসিস” নামে পরিচিত। তাদের কিছুদিন পর আলাদাভাবে গবেষণা করে ডাচ পালিওন্টোলজিস্ট ইয়ান স্মিটও ডাইনোসর সহ সেই সময়ের মহা বিলুপ্তির একই কারন প্রস্তাব করেন।

৯০এর দশকে এসে আটলান্টিকের গালফ অফ মেক্সিকোর ১৮০ কিলোমিটার চওড়া শিক্জুলাব ক্রেটার আবিষ্কারের পর আলভারেজদের তত্ব ব্যাপকভাবে প্রমানিত ও সর্বজনগৃহীত হয়। কারন এই ক্রেটারে বড় ধরনের ধুমকেতু বা উল্কা আঘাতের সবরকম প্রমান আছে। এই উল্কার আঘাতে ১০ কোটি মেগাটন টিএনটি বিস্ফোরনের সমান শক্তি নির্গত হয়। তুলনা করলে তা হিরোশিমা, নাগাসাকিতে যে বোমা ফেলা হয়েছিল তারচেয়ে ১০০ কোটিগুন বেশী শক্তিশালী।

এবার আসি আজকের গল্পে। সকালে Soumyaদার স্ট্যাটাস দেখে খানিকটা তাব্ধা খেয়ে বোকা হয়ে রইলাম কতক্ষণ। ২৯শে এপ্রিলে আর ৬ জুনে দুইটা পৃথিবী ধ্বংস করার মত আকৃতির উল্কা আমাদের গ্রহের খুব কাছ দিয়ে উড়ে গেছে😀। কানের পাশ দিয়ে শাঁই করে গুলি যাবার মতো।

ফুটবল স্টেডিয়াম সাইজের একটার নাম ২০০২এনএন৪। ৬ জুনে তা পৃথিবীর ৫১ লক্ষ কিলোমিটার দূর দিয়ে গেছে। আরেকটা ২ থেকে ৪ কিলোমিটার চওড়া, ২৯শে এপ্রিলে পৃথিবীর ৬৩ লক্ষ কিলোমিটার দূর দিয়ে গেছে। মহাবিশ্বের ব্যাপকতা আর বৈচিত্রের কাছে মিলিয়ন কিলোমিটার কিছুই না।

সারা পৃথিবীতে মোট পারমানবিক বোমা আছে প্রায় ১২০০ গিগাটন টিএনটির বিস্ফোরন ক্ষমতাসম্পন্ন। ২০ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ডে গতি নিয়ে ২ কিলোমিটার চওড়া একটা উল্কা পৃথিবীকে আঘাত করলে ১৫,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০ জুলের বেশী শক্তি নিঃসরন করবে। যা সারা পৃথিবীর সব পারমানবিক বেমার সম্মিলিত শক্তির প্রায় ১ হাজারগুন বেশী।

১৩ এপ্রিল ২০২৯ এ ১৮৫ মিটার চওড়া ৩৭০ মিটার লম্বা ২ কোটি ৭০ লাখ টন ভরের এপোফিস উল্কা পৃথিবীর ৩১ হাজার কিলোমিটারের মধ্য দিয়ে ছুটে যাবে। যদি লেগে যায়? কি হবে? যদিও বিজ্ঞানীদের ধারনা এই উল্কার পৃথিবীকে আঘাত করার সম্ভাবনা ২.৭% মাত্র। হয়তে বেঁচে যাব। দেখা যাক।

লেখক 

নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক গবেষক 

 

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

আগস্ট 2020
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

ছবি ঘর

    WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com