Sunday, 5/7/2020 | : : UTC+6
Green News BD

পঙ্গপাল আসছে! প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন

পঙ্গপাল আসছে! প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন

১। বিশেষ প্রজাতির হাঁস যেগুলা পঙ্গপাল খায় সেগুলা এবং সাধারণ হাঁসের উৎপাদন বাড়ান এখনই। হাঁসের ফার্ম গুলো করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাঁদের সহজ শর্তে ঋণ ও বাচ্চা সাপ্লাই করে দ্রুত উঠে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিলে তারাই কাজটা এগিয়ে নিবে। দরকার হলে চীন থেকে বিশেষ প্রজাতির হাঁসের বাচ্চা আনুন। পঙ্গপাল না আসলেও এই কাজগুলো করে রাখতে কোন ক্ষতি নেই, এগুলা আমাদের মাইক্রো অর্থনীতিকে সচল রাখতেও ভূমিকা রাখবে।

২। এয়ার স্প্রে সহ অন্য যা যা দরকারি এখনই তার কারিগরি প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। সেনা ও বিমান বাহিনীর সাথে প্রস্তুতি নিয়ে আলাপ শুরু করেন।

৩। অন্যান্য দেশের যারা পঙ্গপাল প্রতিরোধে কিছুটা সফলতা দেখিয়েছে তাঁদের সাথে কূটনৈতিক চ্যানেলে সম্পর্ক তৈরি করে রাখেন।

৪। টেকনোলোজি ট্রান্সফারের দরকার হলে তা এরেঞ্জ করতে শুরু করেন।

৫। সম্ভাব্য পঙ্গপাল আক্রমণের সাথে আক্রান্ত এলাকার সবজি, ফল ও অন্য ফসলের হারভেস্ট সুরক্ষার প্রস্তুতি নেন। আগাম হারভেস্টের জন্য কৃষকদের তথ্য সরবারহ করুন। সম্ভাব্য আক্রমণের শুরুর এলাকা গুলো ফোরকাস্ট করে সেসব এলাকার কৃষকদের আগাম তথ্য দিয়ে আগাম হারভেস্টের শ্রমিক প্রস্তুত করে রাখতে সহায়তা করুন। এখানে হারভেস্টিং শ্রমের জন্য তাঁদের কিছু আর্থিক সহায়তা লাগতে পারে।

৬। আক্রান্ত এলাকায় কিভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চালনা হবে তার প্রস্তুতি নিন। এবার আল্লাহ্‌র ওয়াস্তে আপনাদের সর্বভূক দলীয় বঙ্গপালের হাতে ত্রাণের চাল উঠায়ে দিয়েন না।

৭। পেশাদার জিয়াইএস ইমেইজ প্রসেসিং করে আক্রান্ত এলাকার ম্যাপ তৈরি করা যাবে। পঙ্গপাল আক্রমণের সাথে সাথে, প্রস্থানের পরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সরেজমিন সমীক্ষার পাশাপাশি জিয়াইএস ইমেইজ প্রসেসিং এর মাধ্যমেও অতি দ্রুত করা সম্ভব হবে।

টেকনোলোজি ব্যবহারের কথা বলতে গেলেই ভয় ধরে, না জানি এর উছিলায় আবার শত কোটি গচ্ছা যায় দেশের যদিও জিয়াইএস ইমেইজ প্রসেসিং এর কাজটা মাত্র ৫-১০ লাখ টাকার। তবে খাওয়া খাওয়ির চিন্তা বাদ দিলে প্রযুক্তির বোধগম্য ব্যবহারে কৃষি, কৃষক ও অর্থনীতি সুরক্ষা দেয়া যায় কম খরচেই।

লোকাস্ট ওয়াচ সাইটে পঙ্গপালের হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। (লিংকে)। আমাদের কৃষি ও দুর্যোগ বিভাগ গুলো যাতে সেখানে নিয়মিত নজর রাখে।

করোনার মত ‘বাঘ আইসা পড়লে’ অবস্থা দেখে ব্যবস্থা নেয়ার হিনমান্যতা, বকাওয়াজ আর লোকদেখানো দৌড়াদৌড়ি না করে করে এখন থেকেই কার্যকর প্রস্তুতি নেন।

সম্ভাব্য পঙ্গপাল প্রতিরোধে আন্তরিক হোন। সম্ভাব্য পঙ্গপাল যাতে আরেকবার নতুন লুটেরা বঙ্গপাল তৈরি করে না যায়! করোনার পরে বাংলাদেশের কৃষক গুলা বড়ই কষ্টে আছে! ত্রাণের নামে যা গেছে তার প্রায় সবই বঙ্গপাল খেয়ে ফেলসে!

 

ফুটনোট-
অনেকেই বলছেন পঙ্গপাল খাওয়া হালাল। তবে এতে আক্রান্ত এলাকায় ক্ষতির সম্ভাবনা কিছু মাত্র কমার কোন কারণ নাই। মিলিয়ন মিলিয়ন পোকামাকড় আক্রান্ত গাছপালা মাঠ ফসল থেকে কে ধরবে, কিভাবে ধরবে, কে খাবে নিয়ে আলোচনা করতে হবে। আমি নিশ্চিত যে, হালাল হলেও বাংলার মানুষ পোকা মাকড় খাবে না। নদীবিধৌত সমতলের মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পঙ্গপাল খাবার হিসেবে ঢুকার কোনই সম্ভাবনা নাই। প্রোটিন সোর্স হিসেবে বিদেশে বিক্রি করা যেতে পারে, সেজন্য ফুড প্রসেসিং টেকনোলোজি লাগবে তাও করোনা পরবর্তি সময়ে এসব চলবে না। তবে হাঁস মুরগির খাবারের সংপূরক প্রোটিন হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পঙ্গপাল কোন জীবাণু বহন করে আনছে কিনা সেগুলা সঠিকভাবে পরীক্ষা নীরিক্ষা করতে হবে।

তাই বলি, পরিবেশ ও অর্থনীতি বান্ধব আগাম প্রস্তুতির বিকল্প নাই। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও বলছে, ৪০ মিলিয়ন পঙ্গপাল প্রতিদিন তিন মিলিয়ন মানুষের সমপরিমাণে খাবার গ্রহণ করে। সাধু সাবধান!

 

লেখক

ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক গবেষক

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

জুলাই 2020
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

ছবি ঘর

    WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com