হালদা থেকে রেকর্ড পরিমান ডিম সংগ্রহ

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী থেকে এবার রেকর্ড পরিমাণ মাছের ডিম সংগ্রহ করেছেন স্থানীয়জেলেরা। নদী থেকে এবার সাড়ে ২৫ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, যা২০০৬ সালের পর সর্বোচ্চ হালদার দূষণ রোধ, মা মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং বালু উত্তোলন বন্ধ হওয়ায় মা মাছবেশি ডিম ছেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ স্থানীয়রা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, “২০০৬ সালে ৩২৭২৪ কেজি ডিম পাওয়া পর এবারই সর্বোচ্চ ২৫৫৩৬ কেজি ডিম মিলল। ২০০৭ সালে ২২৩১৪ কেজি ডিমপাওয়া গিয়েছিল। সে হিসেবে ১৪ বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি।

হালদা দূষণকারী এশিয়ান পেপার মিল হাটহাজারী পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট এক বছর ধরে বন্ধ থাকা, মানিকছড়িতে তামাক চাষ৭০ শতাংশ বন্ধ হওয়া, মা মাছ রক্ষায় টানা অভিযান এবং করোনাভাইরাসের চলমান লকডাউনের শুরুতে কর্ণফুলী তীরেরশিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় (হালদা গিয়ে কর্ণফুলীতে মিশেছে) এবার ভালো ডিম পাওয়া গেছে। আম্পানের কারণে গত দুদিনহালদায় সাগরের নোনা পানির আধিক্য ছিল। আজ সকালেও ছিল। জোয়ারের সময় সেটা কমায় তখন বেশি ডিম পাওয়া গেছে।

এই পরিমাণ ডিম থেকে কত কেজি রেণু উৎপাদিত হবে জানতে চাইল . মনজুরুল বলেন, “সরকারি হ্যাচারি মাটির কুয়োরতথ্য সংগ্রহ করে সেটা রেণু ফোটার পরই বলা যাবে। এজন্য একটি কমিটি আছে। সেই কমিটি সেটা জানাবে পরে।

প্রতিবছর এপ্রিলমে মাসে অমাবস্যা, পূর্ণিমার জোতে ডিম ছাড়ে মা মাছ। ১৯ মে থেকে ভারি বর্ষণে আশায় বুক বাঁধে হালদাপাড়ের ডিম সংগ্রহকারীরা। ২১ মে নমুনা ডিম ছাড়ে মা মাছ। শুক্রবার সকাল ৭টায় মা মাছ ডিম ছাড়া শুরু করে।

Sharing is caring!

Related Articles

Back to top button