Tuesday, 11/8/2020 | : : UTC+6
Green News BD

সুন্দরবন তো কেবল সম্পত্তিও নয়; এটা আমাদের প্রাণ

সুন্দরবন তো কেবল  সম্পত্তিও নয়; এটা আমাদের প্রাণ

কাল রাত থেকে মনে মনে একজন নিখাদ আওয়ামী লীগার বা সরকার সমর্থক খুঁজছি, যিনি সুন্দরবন রক্ষার পক্ষে সোশাল মিডিয়ায় চলমান প্রবল জনমতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বলতে পারেন— পশুর নদীর তীরে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না অথবা কয়লার জাহাজ ডুবে গেলে সুন্দরবনের নদী-খালের পানি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

কিন্তু না, এরকম কাউকেই খুঁজে পাওয়া গেলো না। কোনো মন্ত্রী হুংকার দিয়ে বললেন না যে যেসব দেশে সুন্দরবন নেই, তারা কী বেঁচে থাকে না। আনিস আলমগীরের মত কোনো সাংবাদিক বাংলা ট্রিবিউনে কলাম লিখলেন না এই বলে যে বাঘ, সাপ ইত্যাদি হিংস্র জীবজন্তুকে বাঁচাতে গিয়ে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে পিছিয়ে আসতে হবে কেন? মোহাম্মদ আরাফাত বা তার মত কেউ টেলিভিশনে বললেন না— আল্ট্রা সুপার ক্রিটিকাল প্রযুক্তি দিয়ে আমরা আম্ফানকে রুখে দিয়েছি।

অর্থাৎ মানুষ যখন সত্য পরিস্থিতিটা বুঝতে পারে এবং মুখ খুলে সেটা বলে— তখন সরকার এবং তাদের স্তাবকদের পক্ষে মিথ্যা প্রচার অসম্ভব হয়ে যায়। অথচ তীব্র আস্ফালনে সংসদে দাঁড়িয়ে আনু মহাম্মদকে টোকাই বলা হয়েছে, সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলন করায় জাতীয় কমিটির বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। অথচ গুজব যা-কিছু সব তারাই ছড়িয়েছেন।

রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে যখন প্রথম কথাবার্তা বা আন্দোলন শুরু হয়, তখনকার পরিস্থিতি আজকের মত ছিল না। শুধু রামপালের স্থানীয় লোকেরা এবং আন্দোলনকারীরা বাদে এই প্রকল্পের বিরোধিতা করার মত মানুষ খুব একটা ছিল না। রামপাল মোংলায় সরকারি দলের লোকেরা বিশেষত তৎকালীন স্থানীয় এমপি খালেক তালুকদার তীব্র ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। এদিকে আমাদের বন্ধুস্থানীয় অনেকের সাথেও তর্ক করতে হচ্ছিলো। বিদ্যুৎ তো লাগবেই, কয়লা বিদ্যুৎ সস্তায় হবে, রামপালে কয়লা পরিবহন সহজ হবে, সবকিছুতেই বিরোধিতা করা আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে ইত্যাদি ইত্যাদি যুক্তি মোকাবেলা করতে হচ্ছিলো। সরকারি প্রোপাগান্ডা তো ছিলই, সেই সাথে বড় বড় বিজ্ঞাপনী সংস্থাকেও রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের পক্ষে প্রচারনায় নামানো হয়েছিল। গত রাত থেকে সত্যিই খুব আফসোস হচ্ছে আমার, এরকম জনমত গোড়ার দিকে তৈরি থাকলে এই প্রকল্প ঠেকিয়ে দেয়া যেতো।

তবে সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি, কোনো সময়ই শেষ হয়ে যায় না। যদিও এই চরম স্বৈরাচারি সরকার জনমতকে থোড়াই কেয়ার করে। রামপালের মানুষ প্রতিবাদ করে বা ভোট দিয়ে অনাস্থা জানাবে তারো কোনো উপায় নেই। কিন্তু তারপরও দেশের মানুষ যদি কথা বলা অব্যাহত রাখে, প্রতিবাদ প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত হয়, ঠেকিয়ে দেয়া যাবে সুন্দরবন ধংসকারী ও চরম জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী রামপাল প্রকল্পকে। তবে এখন কাজ আরো অনেক বেশি। শুধু রামপাল প্রকল্পই কেবল নয়, সুন্দরবনের আশেপাশে তিনশ বিশটি শিল্প কারখানা স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ট্যাংরাগিরি ম্যানগ্রোভ বন যাকে ২য় ‍সুন্দরবন বলা হয়, তার কাছে ৪০০ মেগাওয়াটের আরেকটি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মিত হচ্ছে। ভবিষ্যতের কথা বাদই দিলাম, শুধু আম্পানের গতিপথ ঘুরিয়ে সুন্দরবন আমাদের যে অংকের ক্ষতি থেকে রক্ষা করেছে তার দাম এসব প্রকল্পের লাভালাভের হিসাবের অনেক উর্দ্ধে।

তবে শুধু লাভালাভের বিচারইতো কেবল নয়, সুন্দরবন তো কেবল সম্পদ বা সম্পত্তিও নয়; এটা আমাদের প্রাণ। সুন্দরবনকে বাঁচানো তাই প্রাণ বাঁচানোর লড়াই।

 

লেখক 

বাকী বিল্লাহ

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

আগস্ট 2020
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

ছবি ঘর

    WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com