Monday, 25/5/2020 | : : UTC+6
Green News BD

করোনা: বাস্তবতাকে অস্বীকার করা

করোনা: বাস্তবতাকে অস্বীকার করা

আমরা এক একটা দিন পার করছি আর শঙ্কায় থাকছি আগামী দিনের সংখ্যাটা আরো কতোটা বাড়বে। কয়জন সংক্রমিত হবে, কয়জন যুক্ত হবে মত্যুর মিছিলে। মনের মধ্যে বেদনাবোধ আরো তীব্র হয়ে উঠছে, যখন ভাবছি সবাই মিলে কি আবারো হাত ধরাধরি করে খোলা মাঠে দাড়াতে পারবো আমরা! সেদিন কবে আসবে যখন আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু-স্বজন এক হতে পারবো, না কি আদৌ আর আসবেনা। সরকার চাইলেই এমন পরিস্থিতি থেকে আমাদের বের করে আনতে পারতো। কিন্তু গোয়ার্তুমি আর শ্রেণি স্বার্থ রক্ষা করতে যেয়ে পুরো পরিস্থিতিকে নাজুক অবস্থায় নিয়ে গেছে।

গত ১৯ মে ওয়ার্ল্ড হেলথ এসেম্বলি অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো। মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই ভার্চুয়াল এসেম্বিলিতে অংশগ্রহণ করেছেন এবং বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন,‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কৌশল অনুযায়ি আমরা কোভিড-১৯ জাতীয় প্রস্তুতি ও রেসপন্স পরিকল্পনা তৈরি করেছি’। কোভিড-১৯ জাতীয় প্রস্ততি ও রেসপন্স পরিকল্পনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইনে বলছে ,‘কোভিড-১৯ সংক্রমণকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করতে হবে, এই পরিস্থিতিতে সমন্বয় গড়ে তোলা ও পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য একটি উচ্চ রাজনৈতিক ফোরাম গঠন করতে হবে সকল অংশিজনের অংশগ্রহণে, মোট জনসংখ্যার ম্যাপিং করা, একটি ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট টিম করা, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা’। এখন আপনারা বলুন, গাইডলাইনে উল্লেখিত করণীয়র মধ্যে সরকার কোন কাজটি করেছে? একটি কাজও না করে দিব্যি একটি আন্তর্জাতিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে অসত্য তথ্য প্রদান করলেন! তিনি অসত্য তথ্য প্রদান করে বিশ্ব নেতাদের বিভ্রান্ত করেছেন। যেটা সত্য সরকার এখনও পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কোন পরিকল্পনা তৈরি করেনি। পরিকল্পনা অনুপস্থিত বলেই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।

মাননীয় সেতুমন্ত্রী বলছেন,‘করোনার সংকটকালে ঈদ সামনে রেখে মানুষ দলবদ্ধ হয়ে গ্রামমুখী হচ্ছে। এটি অত্যন্ত বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তেমনিভাবে আশেপাশের মানুষের জীবনে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। সরকারের নির্দেশনা মানতে হবে’। আপনারা যেসকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন তার ফলাফল যে এমনই হবে সেটা তো সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বেই বিশেষজ্ঞগণ আপনাদেরকে বারংবার সর্তক করেছেন। তাদের প্রতিটা বক্তব্য অযৌক্তিকভাবে ইগনোর করেছেন। সুতরাং এটা তো জানাই ছিলো পরিস্থিতি এমনই হবে। ট্রজেডি এখানেই যে, এমন পরিস্থিতিতেও আপনারা এখনও পর্যন্ত যে সকল আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার একটি থেকেও সরে আসেননি।

সরকার বলছে, তাদের নির্দেশনা মানতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা কেউই মানছেনা। কেন মানছেনা এটা কি বিবেচনা করে দেখেছেন মহাশয়েরা! তার কারণ সরকারের সিদ্ধান্ত, নির্দেশনা ও বাস্তবতা একটা আর একটার সাথে সাংঘর্ষিক ও স্ববিরোধী।

যেমন ধরুন নারায়ণগঞ্জ , সাভার, গাজিপুরকে বলছেন রেডজোন। রেডজোন এলাকায় আপনি লকডাউন শিথিল করে গার্মেন্ট কারখানা খুলে দিয়েছেন। বাস্তবতা কারখানা স্বাস্থ্যবিধি মানছেনা। তাহলে রেডজোন > লকডাউন শিথিল > স্বাস্থ্যবিধি না মানা। পরস্পর পরস্পরের বিরোধী, তখন তো সরকারের নির্দেশনা কার্যকর হবার বিজ্ঞানভিত্তিক কারণ নেই।

নির্দেশনা না মানার অন্যতম আরো একটি কারণ জনগণের উপর সরকারের নুন্যতম কোন কমান্ড নেই। একটি সরকারের জনগণের উপর সাধারণভাবে যে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব থাকে এখানে তার বিন্দুমাত্র ছিটে ফোটা নেই। এটা যে নাই সর্বশেষ গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সময়ও সেটা বোঝা গেছে। সরকারের পদক্ষেপ জনগণের কাছে আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

একটি রাজনৈতিক দলে দেখা যায় খুবই ভালো একটি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন হচ্ছেনা। তখন কারণ অনুসন্ধানের প্রয়োজন পড়ে কেন বাস্তবায়ন হচ্ছেনা। অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটা অন্যতম কারণ হতে পারে, যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে সেটি তাত্ত্বিকভাবে অনেক ভালো হলেও বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সরকারের নির্দেশনা না মানার ব্যাপারটিও বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আইজি সাহেব বলেছেন,‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে কেউ দেশবিরোধী অবস্থান নিলে কেউ তা মেনে নেবেনা’। এটি একটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত বিষয় মিথ্যা তথ্য তখনই বিস্তার ঘটে যখন সমাজে পর্যাপ্ত সঠিক তথ্যের অভাব ঘটে বা থাকে। ধরুন, একটি বাস দুর্ঘটনা ঘটেছে , সেই ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত কোন তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রচার করলোনা, তখন দেখা যাবে অসমর্থিত উৎস হতে তথ্য প্রচার হবে। কারণ কোন ঘটনা ঘটলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজে তথ্যের চাহিদা তৈরি হয়। যেহেতু চাহিদা তৈরি হয় সেহেতু যোগানও তৈরি হয়। সুতরাং কর্তৃপক্ষ যদি সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য দিতে ব্যর্থ হয় তবে ভুল তথ্য প্রচারিত হওয়া একটি অবশ্যম্ভাবী ব্যাপার। সমাজে ভুল তথ্য প্রবেশের জন্য মূলত যথাযথ কর্তৃপক্ষের তথ্য ঘাটতিই দায়ী। সুতরাং তথ্যের অবাধ প্রবাহ ছাড়া জেল-জলুম দিয়ে ভুল তথ্য প্রচার আটকানো যাবেনা। বরং জেল-জলুম সমাজের মধ্যে বিক্ষুব্ধতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে, যা এধরনের মহামারিকালিন সময়ে কোন ভাবেই কাম্য হতে পারেনা।

সরকারের বিভিন্ন অংশ থেকে বলা হচ্ছে, মানুষকে জোর করে ঘরে রাখা সম্ভব না। এই কথাটি কেন আসছে, কারণ মানুষকে জোর করে ঘরে রাখার জন্য যে ব্যবস্থা (তার ঘরে খাবারের নিশ্চয়তা) সেটি গ্রহণ করতে সরকার ব্যর্থ। অন্যদিকে যে আইনবলে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে বিভিন্ন জেলাগুলিতে সরকার ঘোষিত তার বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই সেই আইন লঙ্ঘন করেছে। সে আইন লঙ্ঘন করলে একই আইনে কি সে অন্যদের বেলায় কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে পারে, পারে না!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু মানুষ বলছেন, করোনায় যে পরিমান মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, মারা যাচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ বছরে সড়ক দূর্ঘটনা এবং অন্য অনেক রোগে মারা যায়। হ্যাঁ এই মুহুর্তে পরিসংখ্যানগত জায়গা থেকে সেটি হয়তো এগিয়ে। কিন্তু রোগ, সড়ক দুর্ঘটনা এগুলো ব্যক্তিগত ঘটনা, মহামারি একটি সামাজিক ঘটনা। যার কারণে মহামারি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে সামাজিকভাবে। মহামারিকে কেন্দ্র করে সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি সবকিছুতে তার প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এ কারণেই মহামারিকালীন সময়ে দূর্ঘটনায় মৃত্যু বেশি টাইপ আলোচনা উত্থাপন মহামারির স্বরুপ বোঝা ও তাকে মোকাবেলায় পদক্ষেপ গ্রহণে বাঁধা সৃষ্টি করে।

সরকার জনতুষ্টির বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে চাচ্ছে বলে মনে হয়। কিন্তু চুড়ান্তভাবে এই জনতুষ্টি কি রক্ষা করবে আমাদের!!

লেখক

আবু নাসের অনীক

সাবেক সভাপতি, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী

 

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

মে 2020
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
« এপ্রিল    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

ছবি ঘর

    WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com