Monday, 25/5/2020 | : : UTC+6
Green News BD

করোনা: যা কিছু বলি সেটাই ষড়যন্ত্র

করোনা: যা কিছু বলি সেটাই ষড়যন্ত্র

আওয়ামী লীগের সাঃ সম্পাদক মাননীয় সেতুমন্ত্রী বলেছেন, ‘সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে একটি স্বার্থান্বেষীমহল সরকারের বিরুদ্ধে তথ্য লুকোচুরির কাল্পনিক উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে আপনার ধরনের বক্তব্যে বোঝা যায় সরকার এবং সরকারের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানকে আপনি এক করে ফেলছেন। কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বলে, সরকার তার অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বা আলাদা। সরকারের নির্দেশনাক্রমে বিধি মোতাবেক তার কার্যাবলী পরিচালিত হয়। অনেক সময় নির্দেশনার বাইরেও স্বাধীনভাবে কর্মকান্ড পরিচালনা করে। এই কর্মকান্ডের মধ্যে নানাধরনের অসঙ্গতি এবং একই সাথে যথেচ্ছাচারও দেখা যায়। সরকারের কাজ হলো তার অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে অসঙ্গতি দুর করা এবংসঠিকভাবে কাজ পরিচালনার নির্দেশনা প্রদান করা।

তথ্য লুকোচুরির যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে সেটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কেন্দ্রিক। সরকারের উচিত ছিলো জনগনকে এই মর্মে আশ্বস্ত করা, যে অভিযোগ আসছে সে বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখবে। কিন্তু সেটি না করে সরকার উল্টো তার নিজের ঘাড়ে আভিযোগটি নিয়ে নিচ্ছে। অর্থাৎ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নামক প্রতিষ্ঠানটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভুমিকা রাখতে ব্যর্থ, সরকার তাকে ফাংশন করতে দিচ্ছেনা, যেমনভাবে ইতিপূর্বে অধিদপ্তর আইইডিসিআর কে দেয়নি।

পরিস্থিতি এমন হলে, সরকার এবং তার অধস্থন সকল প্রতিষ্ঠান মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। তখন  রাষ্ট্রে সুশাসন বলে কোনশব্দের অস্তিত্ব থাকেনা। কারণ জনগণ যে সময় রাষ্ট্রের অধীনস্থ কোন প্রতিষ্ঠানের দিকে আঙ্গুল তুলে তখন প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিমভাবে বা সত্য কে পাশ কাটিয়ে তার পজেটিভিটি তুলে ধরার জন্য সরকার মরিয়া হয়ে ওঠে, অধস্তন প্রতিষ্ঠানের দায়দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে জনগনকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করায়। একই সাথে বিভিন্ন ধরনের নিবর্তনমূলক আইন তৈরি করে জনগনের কন্ঠ রোধ করতে চায়।

সেতুমন্ত্রী আরো বলছেন,‘এরই মধ্যে যারা মারা গেছেন, ঢালাওভাবে বলা হচ্ছে সবাই করোনায় মারা গেছেন। প্রকৃতপক্ষে মৃত্যুরপর পরীক্ষা করে দেখা যাচ্ছে পজিটিভ নেগেটিভ দুটোই আসছে। এসব মৃত্যু নিয়েও অনেকে মিথ্যাচার করছেন।প্রথমতো, মন্ত্রী যা বলছেন সেগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের হয়ে কথা বলছেন। কারণ বিষয়ে কথা বলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষতারা। দ্বিতীয়তো, ঢালাওভাবে মৃত্যুর কথা আসলে কোথাও আলোচনা হয়নি।

সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে মার্চ থেকে ১২ মে পর্যন্ত ৯২৯ জন রোগী করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন (সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) এর মধ্যে ৯২৯ জনেরেই নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হয়নি। যদিসেটা করার পরেও এই অভিযোগ উত্থাপিত হতো তবে সেটা ভিন্ন আলোচনা। বরং সরকার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে এই মর্মেজবাব চাইতে পারতেন কেন ৯২৯ জনের প্রত্যেকেরই পরীক্ষা করা হলোনা। সরকার বিষয়ে নিশ্চুপ থেকে এর মধ্যে ষড়যন্ত্র খোঁজার জন্য ব্যাকুল হয়ে গেছে। সরকারকে বিপাকে ফেলে ক্ষমতা দখল করবে ষড়যন্ত্রকারীরা!! সত্যিই সেলুকাস, কী বিচিত্র এইদেশ!

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘আরো কিছু বৃদ্ধি পেতেও পারে তবে এই বৃদ্ধি ক্ষতিকর কিছু হবেনা  জানতে মন চায় কতোটুকু বৃদ্ধি পেলে আপনারা এটাকে ক্ষতিকর হিসাবে ধর্তব্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করবেন!! যেমনঘোষণা দিতে পারেন ১৭ কোটির মধ্যে নুন্যতম ৫০লাখ বা তারো বেশি! আপনারা যারা সবকিছুকে শুধুই সংখ্যা মনে করছেন তাদের উদ্দ্যেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরী বিষয়ক পরিচালক ডঃ সাইরায়ান বলছেন,‘ মনে রাখবেন মানুষ পশু না  অবশ্য এটি বিবেচনা করার স্তরে আপনারা আছেন বলে মনেহয়না। আপনাদের নির্লিপ্ততা বলে দেয়যা ঘটে ঘটুক!’ এমন একটা মুডে আছেন আপনারা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রতিদিন মৃত্যুর যে সংখ্যা ঘোষণা করা হয় সেটি নিয়েও বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।  গণমাধ্যমের অনুসন্ধানকৃত তথ্যের সাথে অনেক অমিল।  অমিলের ব্যাখ্যায় তারা বলছেন, হাসপাতালে মারা যাওয়া রোগী ছাড়া অন্য কোন হিসাব তাদের কাছে নেই।  অথচ হাসপাতালের বাইরেও অনেক রোগী তাদের নিজ বাসায় মৃত্যুবরণ করছেন। তাদের কাছে সেই হিসাব থাকার মেকানিজম নাই কেনো, সেটা জানতে না চেয়ে এখানেও ষড়যন্ত্রের ত্বত্ত প্রয়োগ করছেন সরকার। ঢামেকে গত ১২ দিনে করোনা উপসর্গ নিয়ে ১৩৩ জন মারা গেছে। মৃত্যু পরবর্তিতে পরীক্ষা করে জানা গেছে এর মধ্যে কোভিড১৯ আক্রান্ত ২৩ জন। কিন্তু সংকটের জায়গা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া প্রত্যেকের টেস্ট করা হয়নি। বিষয়েও সরকার তার অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহিতার আওতায় না এনে ষড়যন্ত্র খুজঁছেন!

গাজিপুরে নতুন করে আরো ১১ গার্মেন্ট শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারা কারখানায় কাজ করা অবস্থাতে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন এবং তারপর পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ হয়। প্রশ্ন হচ্ছে তারা যে গার্মেন্ট কারখানায় কাজ করতেন সেই কারখানা গুলোর বর্তমান স্টাটাস কি বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কোন কথা বলছেনা, কিন্তু বিষয়টি যখন সামাজিক মাধ্যম গনমাধ্যমে প্রকাশ হবে সরকার সংশ্লিষ্ট বিভাগ কে জবাবদিহিতার আওতায় না এনে তখনই আবার সেই ষড়যন্ত্র বিষয়টিকেই ফেরি করেবেড়াবে। এটাই হচ্ছে ট্রাজেডি।

আইইডিসিআর এর উপদেষ্টা ডাঃ মুশতাক হোসেন বলছেনজরুরি প্রয়োজনের জন্য যেসব দোকানপাট খোলা ছিলসেটা ঠিকছিল। কিন্তু ঈদের জন্য দোকান খোলা হয়েছে এটা প্রত্যাহার করতে হবে। লকডাউন ফিরিয়ে আনতে হবে। এতোদিন যা সনাক্তহয়েছে প্রকৃতভাবে তার সংখ্যা আরো ৩০৪০ গুন বেশি দেশে মোট আক্রান্তের ৫৭ শতাংশ ঢাকা শহরে। ভাবুন এই শহরের বর্তমান চিত্র! শহর তার পূর্বের রুপে ফিরে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপদেষ্টা কমিটির আট জন সদস্য মনে করেন, ঈদের আগে পরে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সান্ধ্য আইন ভাবা যেতে পারে। আপনাদের দৃষ্টিতে অবশ্য এসব মন্তব্য অর্থহীন।এটাও ভাবতে পারেন ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে এমন কথা বলছেন বিশেষজ্ঞগণ!

জনসংখ্যা অনুপাতে করোনা টেস্টে বিশ্বে বাংলাদেশের এই মুহুর্তে অবস্থান ১৫১ তম (ওয়ার্লডোমিটার) যেখানে বিশেষজ্ঞদেরপক্ষ থেকে প্রতিনিয়তো বলা হচ্ছে টেস্ট বৃদ্ধির বিষয়ে, সেখানে পরীক্ষার অবস্থা দিন যতো যাচ্ছে ততোই নাজুক হয়ে পড়ছে।রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে এপ্রিল থেকে পর্যন্ত সংগৃহীত নমুনার ২৩ শতাংশরও বেশি পাওয়া গেছে অকার্যকর হিসাবে।  যে সমস্ত পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে নতুন করে আরটিপিসিআর মেশিন আমদানি করে এনে দেওয়া হয়েছে এগুলো অধিকাংশই পুরানো ২০০৯ মডেলের, যা দিয়ে দিনে পরীক্ষা করা যায় ৯০ টি সেম্পল। এর বেশি করতে গেলেই তখন ভুল ফলাফল আসাশুরু হয়। অথচ নতুন মডেলের মেশিন দিয়ে দিনে মোট ২৭০ টি সেম্পল টেস্ট করা সম্ভব। নতুন মডেল আমদানি না করে পুরানো মডেলের কেন কেনা হলো প্রশ্ন তুললেই সেটা হবে ষড়যন্ত্র!

আইজি সাহেব গতকাল দুপুরে সভা করে বলেছেন,‘ ঈদে গ্রামের বাড়ি যেতে দেওয়া হবেনা  উনি যখন ভিডিও কনফারেন্স করছেন তখন হাজার হাজার মানুষ ঈদ করার উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে বের হয়েছেন।  টেলিভিশনের চ্যানেলে দেখা গেলো ফেরিতে মানুষ গিজ গিজ করছে। পুলিশ সদস্যদের তৎপরতা একেবারেই দেখা যায়নি।  দেখতে না পাবার যৌক্তিক কারণ আছে। কর্তব্য পালন করতে যেয়ে ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন হাজার ৬২১ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন জন। অথচ তাদের দায়িত্ব পালনের সময় এখনও পূর্নাঙ্গ সুরক্ষা ব্যবস্থা  নিশ্চিত করা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই তারা দায়িত্ব পালনে রিলাকটেন্ট হয়ে গেছেন। এর জন্য তাদেরকে দায়ি করা সমুচিত নয়।

সমগ্র দেশটার যখন এমন নাজুক পরিস্থিতি তখন সাধারণ মানুষকে গৌন করে আবারো পোষাক কারখানার মালিকদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ইডিএফ থেকে লাইবর প্লাস শতাংশ সুদে কোটি ডলার পর্যন্ত ঋণ দেবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সার্কুলারদিয়েছে। দেশকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে!!

কোভিড১৯ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ বলেন,‘গত মে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়, দোকানপাট খোলা মসজিদে নামাজ পড়া চলমান থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে। আমাদের পক্ষ থেকে বৈজ্ঞানিকবিশ্লেষণ দিয়ে বলা হয়েছে, দেশে সংক্রমণের হার উর্ধ্বমুখী। কারণে বলা হয়েছে, লকডাউন আরো শিথিল করা হলে, সংক্রমণআরও বাড়বে ওনাদের কোন কথাই অবশ্য আপনাদের ধর্তব্যের মধ্যে পড়েনা একমাত্র গার্মেন্ট মালিকদের বক্তব্য ছাড়া। কিবিস্ময়কর বিষয়, দেশের জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে সেই মুহুর্তে সরকারের প্রধান পরামর্শক ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতেও আগামী বাজেটে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্যর পরিবর্তে মেগা প্রজেক্টকে! এরপরও কেউ যদি বলে সরকার জনবান্ধব নয় তবে তাকে চিহ্নিত করা হবে ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক লকডাউন শিথিল করা প্রসঙ্গে গতকাল পুনরায় বলেন,‘মহামারি নিয়ন্ত্রণে এসেছে কিনা, সংক্রমণ বাড়লে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বাড়তি চাপ নিতে সক্ষম কিনা, রোগী তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে এবং সংক্রমণ বৃদ্ধি চিহ্নিত করতে সক্ষম কিনা, তা নিশ্চিত করতে হবে কিন্তু আমাদের অবস্থা কি? আমরা কি এসবের মধ্যে একটাশর্তও নিশ্চিত করেতে পেরেছি? সন্দেহাতিতভাবে উত্তর হবেনা ভাইরোলজিষ্ট অধ্যাপক ডাঃ নজরুল ইসলাম বলেন,‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিথিলতার সুযোগ দেয়া হয়েছে সংক্রমণ কমার পর। আমরা বাড়ার মধ্যেই সুযোগ দিলাম

লেখার শুরুতে আমি আলোচনা করেছি, এমনটা না হয়ে এমনটা হতে পারে বা হওয়া উচিত। কিন্তু আমি জানি এটা হবেনা। এটাহতে হলে রাষ্ট্রকে হতে হয় নুন্যতম কল্যাণকর আমাদের রাষ্ট্র তার ধারে কাছেও নাই। সরকারকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই আজ আপনারা যা করছেন এর মাসুল আপনাদেরকে দিতেই হবে। ইতিহাস প্রতিটা কৃতকর্মের ফল ফিরিয়ে দেয়। প্রতিদিন বিবৃতিতে যেকথা বলছেন, মনে রাখবেন এই প্রত্যেকটা কথাই অনন্তকাল ধরে বাতাসে ভেসে বেড়াবে। প্রজন্ম থেকে প্রজান্মতরে মানুষের জীবননিয়ে ছিনিমিনি খেলার জবাব আপনাদেরকে একদিন দিতেই হবে।

লেখক

আবু নাসের অনীক

সাবেক সভাপতি, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

মে 2020
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
« এপ্রিল    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

ছবি ঘর

    WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com