Monday, 25/5/2020 | : : UTC+6
Green News BD

ক্যাপিটালিজম, পরিবেশ দুষন বা জীবাশ্ম জ্বালানী নয়, সমস্যার নাম – মানুষ

ক্যাপিটালিজম, পরিবেশ দুষন বা জীবাশ্ম জ্বালানী নয়, সমস্যার নাম – মানুষ

ভিলেন বাস করে একটা আমার ভেতর। মাঝে মাঝেই সে ভিলেন বলে উঠেপরিবেশ নিয়ে কাজ করে কিছু হবেনা। কারন সারাদুনিয়ার পরিবেশ আন্দোলনগুলা সব ক্যাপিটালিজমের দখলে। তারাই ৯৯ ভাগ পরিবেশ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়।  প্রত্যেকটাবড় পরিবেশ আন্দোলন গ্রুপের পেছনে বিপি, এক্সন মবিল, জেনারেল মটরস, টয়োটা, সিটি ব্যাংক, রকফেলার, রথচাইল্ড, কোহ্ব্রাদার্স।  তারা কয়লা বিদ্যুৎ বন্ধ করে ক্লিন এনার্জির নামে গ্যাস বা পারমানবিক বিদ্যুৎ করে। কিংবা বন পুড়িয়ে গ্রিন এনার্জিরনামে বায়োফুয়েল বানায়। হাজার হাজার একর জায়গা দখল, আদিবাসী উচ্ছেদ করে সোলার বা উইন্ড পাওয়ার প্লান্ট বানায়।কিংবা গাছ কেটে বায়োমাস এনার্জি বানায়। যারে বলে তারা গ্রীন এনার্জি। গাছই যদি কাটা হয়, বনই যদি পুড়িয়ে ফেলা হবে, আদিবাসী উচ্ছেদই যদি করা হবে তাহলে সেটা কিসের পরিবেশ আন্দোলন? কিসের কি তাহলে উপায়?

নবায়নযোগ্য শক্তি, সোলার, উইন্ড করে কিছু হবেনা কারন এটাও ক্যাপিটালিজমের দখলে। তারা হাজার হাজার একর জমিদখল করে, বন কেটে, মানুষ প্রকৃতির বারোটা বাজিয়ে বেইজ লোড পাওয়ার প্ল্যান্টের মত করে অর্থাৎ একজায়গায় শতশত বাহাজার মেগাওয়াটের নবায়নযোগ্য শক্তি বাস্তবায়ন করছে। অথচ নবায়নযোগ্য শক্তি এভাবে করার জিনিসই না। পুঁজিবাদেরপ্রয়োজনে ডিস্ট্রিবিউটেড এনার্জি সিস্টেমকে বেইজলোড পাওয়ার প্ল্যান্টের মত করে বানানো হচ্ছে। এই নবায়নযোগ্য শক্তিএকদিকে পুঁজিবাদের রক্ষা কবজ হচ্ছে। আরেক দিকে সকল ক্ষেত্রে এনার্জি কনসাম্পশান বিন্দুমাত্র না কমিয়ে, লাইফস্টাইল, ভোগ, অপচয় কিছু মাত্র পরিবর্তন না করে নবায়নযোগ্য শক্তি দিয়ে আগের মত অনাচারের জীবনের যাপনের সুবিধা করেদিচ্ছে। লাভ কি এরকম নবায়নযোগ্য শক্তির বাস্তবায়নে?

ভোগ কমানোর ডাক দিয়ে লাভ নাই কারন ৭৭৮ কোটি মানুষের মৌলিক ভোগ যেমনখাদ্য উৎপাদন, বস্ত্র তৈরি, বাড়িঘর, শিক্ষা চিকিৎসা সরঞ্জাম বানানোর জন্য কম করেও যে পরিমাণ রিসোর্স দরকার তাও যোগান দিতে পৃথিবীর মত থেকে টাগ্রহ দরকার। আজকে যদি মানুষ হতো ২০০ কোটি। তাহলে এই ২০০ কোটি মানুষ ভোগ কমালে একটা প্রভাব পড়তো। কিন্তু ৭৭৮কোটি মানুষ যা খুব দ্রুত ৯০০ কোটি হতে যাচ্ছেতারা যদি মিনিমাম ভোগেও থাকে তাহলেও বাকি জমি, বাতাস, বন, সাগর, নদী, জীববৈচিত্রের কোনো ভবিষ্যত নেই।

কোনো ভাল কাজ করার জন্য অর্গানাইজেশন ফর্ম করার চেষ্টা করে লাভ নাই। কারন মানুষ প্রজাতিটা চতুর, বেয়াদব আরলোভি। এদের স্বভাব বদলাবে না। লাইফ স্টাইল বদলাবে না। তাদের বাটপারি, লোক ঠকানো, এরোগেন্সি, বেয়াদবি, মিথ্যাকেধুলা ধুসর বর্ননা, সুন্দর সুন্দর শব্দ দিয়ে সত্যের মতো করে বর্ননা করে মানুষকে প্রতারণা করা থামবে না। তারা দূর্নীতিকে একটামিনিমাম গ্রহনযোগ্যতা দিয়ে দেয়। গোষ্ঠিগত ভাবে করাপশানগুলোর এক্সিকিউশান হয়। যাতে করে মেজরিটির মতামত থাকায়কিছু অসততা কখোনো খারাপ কাজ হিসেবে গন্যই হয়না।

মূল সমস্যাটা আসলে মানুষ নিজেই। কোনো একটা জায়গায় একটা নির্দিষ্ট প্রান সংখ্যায় সে জায়গার রিসোর্স অন্যান্য প্রানবৈচিত্র্যের সংখ্যার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন হতে হয়। যদি কোনো কারনে একটা নির্দিষ্ট প্রজাতির সংখ্যা অনেক বেড়ে যায় তাহলে সেটাবাকি সবার জন্য টিকে থাকার ঝুঁকি তৈরি করে। পৃথিবীর বাকি সকল কিছুর জন্য মানুষ হলো সেই ক্ষতিকর জীব। মানুষই বাকিসবকিছুর জন্য ভাইরাস। করোনা বা সামনে আসছে এরকম যে কোনো মহামারিই এন্টি ভাইরাস।

প্রকৃতি বহুবার মানুষকে নানান রোগ, বালাই, দূর্যোগ দিয়ে সিগনাল দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবারই মানুষ কোনো না কোনো একটাসমাধান বের করে আবার আগের মতো তার সব বদমায়েশি করতে থাকে। একটা খুব শ্যালো উদাহরণ দেই। কনডম বা কনডমেরমত জিনিস অনেক শত বছর ধরে মানুষ ব্যবহার করছে। কিন্তু মনে আছে এইডসের ভয়ানক বিস্তার রোধ করার জন্য ম্যাসিভস্কেলে কনডমের ব্যবহার শুরু হয়। অর্থাৎ বলতে চাচ্ছি জন্ম নিয়ন্ত্রণে কনডমের যত ব্যবহার তারচেয়ে এর বেশী ব্যবহার STD প্রতিরোধে। তারপর বায়ু দূষনের কারনে মানুষকে মাস্ক পরতে হলো। এটা ধরা যাক মুখের উপর আরেকটা কনডম। এখনভাইরাস প্যানডেমিকের কারনে মাথার উপরে কভার, হাতে গ্লাভস, মুখে মাস্ক, সারা গায়ে পিপিই। প্রকারান্তরে মানুষ এখন সারাশরীর কনডমে ঢেকে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। এগুলা মানুষের উপর প্রকৃতির শাস্তি সাবধান বানী। সে ক্রমাগত মানুষের ফ্রিমুভমেন্টে বাধা তৈরি করছে। কিন্তু মানুষ কি এসব বার্তা থেকে কোন শিক্ষা নিচ্ছে?

না নিচ্ছে না। যে মানুষ সে মানুষই থাকবে। তার ভোগ, তার কু রাজনীতি, ক্ষমতা লিপ্সা, তার চিটারি, বাটপারি, এরোগেন্সি, বদমায়েশী নিয়েই চলবে। যেমনঃ জলবায়ু পরিবর্তনকয়লা বা জীবাশ্ম জ্বালানির জন্য যতটা হয়েছে তারচেয়ে শতগুন বেশীহয়েছে মানুষের সীমাহীন ভোগ, লোভ, সম্পদ আহরণ, লাইফস্টাইল পুঁজিবাদী অর্থনীতির কারনে। এগুলা ঠিক না করে সেকয়লাকে দায়ী করে নবায়নযোগ্য শক্তি বাস্তবায়ন করছে। ভাবটা এমন তার লাইফস্টাইল, ভোগ আর পুঁজিবাদের যেন কোনদোষই নাই। আবার এখন যেমন করোনা ভাইরাস নতুন আজাব হিসেবে হাজির হয়েছে। এখানেও মানুষ ঔষধ, ভ্যাকসিন, প্রতিষেধক বানিয়ে আবার আগের জীবনে ফেরত যাবে। এই অসভ্য প্রজাতির কিছুতেই বোধোদয় হবেনা। উপলব্ধি আসবেনা।

তো আমার ভেতর যে ভিলেন বাস করে সে ভিলেন কয়েক বছর আগে থেকেই বারবার শব্দ করে বলে উঠতোকিছু একটা হোক, কোনো একটা ভয়াবহ দূর্যোগ বা মহামারি আসুক। যা সমগ্র মানব জাতীকে খুব দ্রুত পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করবে। বাকীরা প্রানবৈচিত্র্য থেকে যাক। এতে যদি আমি মারা যাই, আমার সঙ্গি, সন্তান, বাবা, মা মারা যায় তাও যাক। তবু পৃথিবী অসভ্য একটাপ্রজাতীর হাত থেকে রক্ষা পাবে। যা তার বাকী কোনো প্রজাতিকে বাঁচতে দিচ্ছেনা।    

ছবিঃ তার বাসস্থান কেটে ফেলার সময় একটা ওরাংওটাংয়ের প্রতিবাদ মানুষদের থামানোর আপ্রান চেষ্টা।

লেখক

মাহবুব সুমন

নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক গবেষক

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

মে 2020
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
« এপ্রিল    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

ছবি ঘর

    WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com