Wednesday, 3/6/2020 | : : UTC+6
Green News BD

 করোনা ভাইরাস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(who)’র নির্দেশিকা

 করোনা ভাইরাস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(who)’র নির্দেশিকা

করোনা ভাইরাস কি?

করোনা ভাইরাস অনেকগুলা ভাইরাসের এক বিশাল পরিবার যা সাধারণ ঠাণ্ডা, সর্দি জ্বর থেকে শুরু করে জটিল মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম বা মার্স (MARS) এবং সিভিয়ার একিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম বা সার্স (SARS) হতে পারে।  করোনা ভাইরাস ডিজিস বা কভিড ১৯ (Coronavirus disease COVID-19) করোনা ভাইরাসের একটা নতুন ধরণ যা ২০১৯ এ প্রথম দেখা যায় চীনের উহানে এবং উহান থেকে বাকি পৃথিবী ছড়িয়ে যায়।

করোনা একটি জু-নটিক (Zoonotic) ভাইরাস অর্থাৎ এটি পশু পাখি থেকে মানুষ বা মানুষ থেকে পশু পাখিতে সংক্রমনিত হতে পারে।  আগে দেখা গেছে সার্স করোনা ভাইরাস বিড়াল থেকে মানুষে আর মার্স করোনা ভাইরাস উট থেকে মানুষে সংক্রমনিত হয়েছিল।  তবে কভিড১৯ বা করোনা ভাইরাস১৯ যেটা এখন সারা বিশ্বব্যাপি রোগ ছড়াচ্ছে তা পশু পাখি থেকে সংক্রমনিত হয়েছে এমন তথ্য প্রমান এখনো পাওয়া যায়নি।

রোগের লক্ষনঃ

  • শ্বাস যন্ত্রের বিভিন্ন ইনফেকশন সহ জ্বর
  • সর্দি,
  • কাশি,
  • পুরা শ্বাস নিতে না পারা,
  • শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া,
  • বেশী অসুস্থ হয়ে নিউমোনিয়া হওয়া,
  • কিডনি নষ্ট হওয়া এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

সংক্রমনের বিস্তার কমানোর জন্য বারবার হাত ধুতে হবে, সর্দি ও কাশি থাকলে মুখ ঢেকে নাক টানা বা কাশি দেয়া বা হাঁচি দিতে হবে।  এসময় মুখে মাস্ক পরা নিরাপদ।  অক্রান্ত হলেও মাস্ক পরতে হবে।  শ্বাসযন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা যেমন সর্দি, কাশি থাকলে তাদের কাছ থেকে দূরে থাকা উচিৎ।

 

করোনা ভাইরাস অক্রান্তের লক্ষণগুলা কি কি?

 

কভিড১৯ বা করোনা ভাইরাস অক্রান্তের সবচেয়ে কমন লক্ষন হল জ্বর, শুকনা কাশি, গা ম্যাজম্যাজ করা, ক্লান্তি, অবসাদ, নাক বন্ধ হয়ে থাকা, সর্দি, গলা ব্যাথা, পায়খানা নরম বা পাতলা হওয়া। এই লক্ষণগুলা প্রথমে অল্প অল্প থাকে তারপর বেড়ে যায়। অনেকের এই ভাইরাসে সংক্রমনিত হওয়া সত্ত্বেও কোন ধরণের লক্ষন বা অসুস্থতা দেখা যায়না। শতকরা ৮০ ভাগ অক্রান্তের ক্ষেত্রে বিশেষ কোন চিকিৎসা (জ্বরের সাধারণ চিকিৎসা ও সেবাযত্ন) ছাড়াই সুস্থ হয়ে যায়। প্রতি ৬ জনে ১ জন করোনা ভাইরাসে অক্রান্ত হয়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে যায় এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। বয়স্করা এবং যাদের আগে থেকে এজমা, ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা আছে তারা এই রকম বেশী অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন। সেজন্য যারই জ্বর, সর্দি, কাশি হবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিৎ।

 

নতুন করোনা ভাইরাস বা কভিড১৯ কিভাবে ছড়ায়?

 

অন্য যে করোনা ভাইরাসে অক্রান্ত হয়েছে তার কাছ থেকে লোকজন করোনা ভাইরাসে অক্রান্ত হবেন। অক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি, কাশি দিলে বা নিঃশ্বাস ছাড়লে তার সাথে ছোট ছোট জলীয় বা পানির কনা বেরিয়ে আসে। এই সব পানির কনার ভেতর দিয়েই করোনা ভাইরাস ছড়ায়। এইসব পানির কনায় যেসব ভাইরাস থাকে তা অক্রান্ত ব্যক্তির আশে পাশের কোন বস্তু বা দেয়াল, কাঠ, ধাতব হাতল, পাত্রে পড়লে সেখানে ভাইরাসটি ৭ থেকে ৮ দিন বেঁচে থাকে। তখন অন্য কেউ সেই জিনিসগুলা স্পর্শ করলে তার হাতে এই ভাইরাস লেগে যায় ও পরবর্তীতে সেই হাত দিয়ে যখন নাক, মুক, কান, মাথা, চোখ স্পর্শ করা হয় তখন ভাইরাসটি সুস্থ মানুষের শরীরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। আবার অক্রান্ত ব্যক্তির নিঃশ্বাস, হাঁচি, কাশি, সর্দির কাছাকাছি থাকা লোকজনের নিঃশ্বাসের সাথেও এই ভাইরাস সুস্থ শরীরে ঢুকে যায়। এই কারনে সবসময় কমপক্ষে ১ মিটার বা সাড়ে তিনফুট থেকে ৪ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে কথাবার্তা বলা নিরাপদ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO করোনা বিষয়ে বিস্তারিত গবেষণা কার্যক্রম মনিটর ও পর্যবেক্ষণ করছে। সামনে এ বিষয়ে আরো তথ্য দেয়া হবে।

 

করোনা ভাইরাস বা কভিড১৯ কি বাতাসে ছড়াতে পারে?

এখন পর্যন্ত যত গবেষণা হয়েছে তা থেকে দেখা যাচ্ছে কভিড১৯ ভাইরাসটি থুতু, সর্দি, কাশি, হাঁচি থেকেই ছড়াচ্ছে। সে কারনে যত্রতত্র থুতু ফেলা, হাঁচি, কাছি, সর্দি ঝাড়া সম্পূর্ণ বাদ দিতে হবে।

যার শরীরে কোন লক্ষন নাই তার হাঁচি, কাশি, সর্দি, থুতু থেকে কি করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে?

করোনা ভাইরাস কভিড১৯ প্রধানত ছড়াচ্ছে নিঃশ্বাসের সাথে বেরিয়ে আসা জলীয় কনা, হাঁচি, কাশি, থুতু, সর্দির মাধ্যমে। যার শরীরে অক্রান্তের কোন লক্ষন নাই তার কাছ থেকে এই রোগ অক্রান্তের সম্ভাবনা খুবই কম। তবে দেখা গেছে করোনা অক্রান্ত কিছু কিছু মানুষের অসুস্থতার পরিমাণ খুবই কম। অক্রান্তের শুরুর দিকে হয়তো হালকা একটা কাশি দিল, বা জ্বর সর্দি কিছুই হল না বা এই লক্ষণগুলা কম থাকে তখন অনেকে কম লক্ষণকে পাত্তা দেন না, ভাবেন যে কিছুই হয় নাই। এই চিন্তাটা বিপদজনক হতে পারে।

অক্রান্ত ব্যক্তির মলমুত্র থেকে করোনা ভাইরাস কভিড১৯ ছড়াতে পারে কিনা?

অক্রান্ত ব্যক্তির মল মুত্র থেকে করোনা ভাইরাস কভিড১৯ ছড়ানোর ঝুঁকি কম। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে অক্রান্ত ব্যক্তির মলে এই ভাইরাস আছে, তবে এটা সবক্ষেত্রে না। করোনা ছড়ানোর মুল রাস্তা শ্বাসযন্ত্র এবং এ থেকে নির্গত নিঃশ্বাস, থুতু, হাঁচি, কাশি, সর্দি। তবে সাধারণ সাবধানতা অবলম্বন করা ভাল, তা হল প্রতিবার মল মুত্র ট্যাগ করার পর এবং কোন কিছু খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

আমার করোনা ভাইরাস কভিড১৯ অক্রান্তের সম্ভাবনা কতটুকু?

করোনা ভাইরাস অক্রান্তের ঝুঁকি ও সম্ভাবনা নির্ভর করছে আপনি কোথায় আছেন এবং সেখানে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে কিনা এই দুই জিনিসের উপর।  বেশিরভাগ জায়গায় বেশিরভাগ মানুষের করোনা অক্রান্তের সম্ভাবনা এখনো অনেক কম।  তবে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা করোনা ভাইরাস কভিড১৯ অক্রান্তের অক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে।  যেসব মানুষ করোনা অক্রান্ত এলাকায় আছেন, ছিলেন বা ভ্রমন করেছেন তাদের করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশী।  সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রতিনিয়ত নানান নির্দেশনা দিচ্ছেন এই বিষয়ে। সেগুলি মেনে চলতে হবে।  যে কোন বড় সভা, সমাবেশ, জমায়েত এড়িয়ে চলা উচিৎ সবার।  এসব যায়গা থেকে সবচেয়ে বেশী করোনা ভাইরাস ছড়ায়।  এই ভাইরাসটাকে একটা নির্দিষ্ট এলাকায় আটকে রাখা সম্ভব যদি মানুষ নিয়ম কানুন মেনে চলে।  তবে এটাও ঠিক ভাইরাসটি একবার বেরিয়ে পড়লে খুব দ্রুত গতিতে ছড়ায়।  সে কারনে কোথাও যাওয়ার ক্ষেত্রে এমনকি অতি প্রয়োজনীয় হলেও পুনর্বিবেচনা করা জরুরী।

এটা মনে রাখা ভাল যে শিশু ও তরুণদের করোনা ভাইরাস অক্রান্ত হলেও তেমন কোন ভয়ানক অসুস্থতা হবেনা।  সেজন্য করোনা নিয়ে অধিক চিন্তিত হবার দরকার নাই। তবে প্রতি ৫ জনে ১ জন সিরিয়াস অসুস্থ হয়ে যায় এবং তার ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লাগে।  আমাদের সাবধান থাকতে হবে একই সাথে সাবধানতার নিয়মকানুন নিজে অনুসরন করা ও কাছের সকল বন্ধু প্রিয়জন যাতে এই নিয়মগুলা অনুসরণ করে সেই দিকে নজর দিলে করোনা মোকাবেলা সহজ হবে।

 

করোনা ভাইরাসে বেশী অসুস্থ হবার সম্ভাবনা কার বা কাদের?

কার বা কাদের বেশী অসুস্থ হবার সম্ভাবনা সেটা নিয়ে এখনো প্রচুর গবেষণা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত দেখা গেছে বয়স্ক মানুষ যেমন ৬০ থেকে ৬৫ এর বেশী বয়স যাদের তারা আর যাদের আগে থেকে কোন শারীরিক অসুস্থতা আছে যেমন উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের অসুখ, ডায়বেটিস আছে তাদের এই ভাইরাসে অক্রান্ত হলে বেশী অসুস্থ হবার সম্ভাবনা আছে।

করোনা ভাইরাস কভিড১৯ চিকিৎসায় এন্টিবায়োটিক কতটুকু কার্যকরী?

 ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোন এন্টিবায়োটিক কার্যকরী নয়। এন্টিবায়োটিক কাজ করে ব্যাকটেরিয়া ঘটিত যে কোন ইনফেকশানে। করোনা একটি ভাইরাস ঘটিত রোগ, ফলে এটাতে এন্টিবায়োটিকের কোন কাজ নেই। করোনা ভাইরাস অক্রান্তের চিকিৎসায় সেকারনে কোন এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা লাগবেনা তবে অসুস্থের যদি সাথে কোন ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশান থাকে তখন শুধুমাত্র বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক দেয়া যেতে পারে নতুবা নয়।

কোন ঔষধ বা থেরাপি কি করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হতে পারে?

কিছু প্রথাগত চিকিৎসা বা বাসায় বানানো ভেশজ ব্যবহার করলে করোনার ভাইরাস কভিড১৯ রোগের উপসর্গগুলো থেকে আরাম পাওয়া যাবে তবে এখন পর্যন্ত কোন ঔষধ করোনা ১০০ ভাগ দূর করতে সক্ষম এমন প্রমান পাওয়া যায়নি। WHO এই মুহূর্তে কোন ঔষধ বা এন্টিবায়োটিক রিকমেন্ড করছেনা। বেশ কিছু ঔষধ ও থেরাপির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে যার কার্যকারিতার উপর নির্ভর করে WHO সামনে নির্দেশনা দিবে। চোখ রাখুন WHO এর ওয়েবসাইটে।

করোনা ভাইরাস কভিড১৯ এর কোন ভ্যাকসিন কি বের হয়েছে?

 আজকে পর্যন্ত (২০ মার্চ ২০২০) কোন এন্টি ভাইরাস বা ভ্যাকসিন বা ঔষধ আবিস্কার হয়নি। অক্রান্তদের সেবাযত্ন দরকার। বেশী অসুস্থদের হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে। ভয়ের কিছু নাই এই কারনে যে বেশিরভাগ অক্রান্তই সুস্থ হয়ে যান।

সম্ভাব্য ভ্যাকসিন ও কভিড১৯ রোগের চিকিতসার জন্য বেশ কিছু ঔষধ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে আছে এবং WHO সেগুলাতে সক্রিয় অংশগ্রহন সহ পর্যবেক্ষণ করছে। এই ভাইরাস সংক্রমন ঠেকানো ও রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল প্রচুর হাত ধোয়া, মুখ ঢেকে হাঁচি, কাশি দেয়া, যেখানে সেখানে থুতু না ফেলা, অক্রান্ত স্থানে বা ব্যক্তির সংস্পর্শে না যাওয়া, অক্রান্ত হলে ঘরে থাকা, বেশী অসুস্থ হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া ও হাসপাতালে যাওয়া।

নিজেকে রক্ষা করার জন্য কি আমার মাস্ক পরা উচিৎ?

শুধুমাত্র যদি করনা অক্রান্তের লক্ষন থাকে, বা কাশি, সর্দি থাকে এবং কোন করোনা অক্রান্ত রোগীর দেখাশোনা করতে হয় সেক্ষেত্রে মাস্ক পরা লাগবে অন্যথায় নয়। ডিসপোজেবল মাস্ক একবার ব্যবহার করা উচিৎ। আপনি যদি করোনা অক্রান্ত না হয়ে থাকেন বা করোনা ভাইরাস অক্রান্ত কাউকে দেখাশোনা করছেন না তাহলে আপনি মাস্ক ব্যবহার করলে সেটি এই মুহূর্তে একটা গুরুতর অপচয়। পৃথিবী জুড়ে মাস্কের ভীষণ সংকট চলছে। সেকারন WHO এর পক্ষ থেকে চারপাশে সবাইকে এই বিষয়ে বিবেচকের আচরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মাস্ক পরার সময় হাত পরিস্কার করে নিতে হবে, একবার ব্যবহারের পর এক মাস্ক দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা ঠিক না। আর ব্যবহারের পর মাস্ক খুলে মুখ বন্ধ ময়লার বিনে ফেলতে হবে অথবা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। তারপর আবার হাত ধুয়ে নতুন মাস্ক পরিধান করতে হবে।

করোনা ভাইরাস১৯ শরীরে প্রবেশ করার কত দিনের মধ্যে লক্ষন দেখা যায়?

কারো শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করার পর ১ দিন থেকে ১৪ দিনের মধ্যে অসুস্থতার লক্ষন দেখা যাবে। তবে সবচেয়ে বেশী সম্ভাবনা ৫ দিনের মধ্যেই লক্ষন দেখতে পাবার।

পশু পাখি থেকে করোনা ভাইরাস১৯ অক্রান্ত  হয় কিনা?

করোনা ভাইরাস  ভাইরাসের একটা বড় পরিবার। এর কোন কোনটা পশু থেকে ছড়িয়েছিল আগে। যেমন সার্স করোনা ছড়িয়েছে বিড়াল থেকে, মার্স করোনা ছড়িয়েছে উট থেকে। করোনা ভাইরাস১৯ পশু থেকে ছড়ায় কিনা সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোন তথ্য প্রমান পাওয়া যায়নি। বাড়িতে পোষা কুকুর বিড়াল থেকে করনা১৯ ভাইরাস ছড়ানোর কোন প্রমানও পাওয়া যায়নি।

তবে পশু পাখির কাছাকাছি গেলে বা পশু পাখির বাজার গেকে বা এদের যত্ন করা, খাবার দাবার দিতে গেলে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন করা উচিৎ, মুখে মাস্ক পরা ভাল।

কোন কিছুর উপর এই ভাইরাস কতদিন বেঁচে থাকে?

কোন একটা সারফেসে করোনা১৯ ভাইরাসটি কত সময় বেঁচে থাকে তা এখনো নিশ্চিত না। কিন্তু এটা অন্যান্য করোনা ভাইরাসের মতই আচরণ করছে, তা থেকে বলা যায় যে এই ভাইরাস কোন একটা সারফেসে কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত বেছে থাকতে পারে। নির্ভর করছে সারফেস টা কি? প্লাস্টিক হলে ৭ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

আপনার যদি মনে হয় কোন একটা সারফেস করোনা১৯ ভাইরাসে অক্রান্ত তাহলে তা বিভিন্ন রকমের স্যানিটাইজার বা সাবান পানি দিয়ে পরিস্কার করে ফেলুন। তারপর আপনার নিজের হাত ভাল করে একই পদ্ধতিতে জীবাণুমুক্ত করুন। আর নাক, মুখ চোখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।

করোনা অক্রান্ত কোন এলাকা থেকে আসা কোন জিনিস বা প্যাকেট খোলা, ধরা কি নিরাপদ?

হ্যাঁ। কোন একজন অক্রান্ত ব্যক্তির প্যাকেটটি বা জিনিসগুলোতে ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা কম, আবার পরিবহণ হওয়া একটা প্যাকেট বা বস্তু থেকে করোনা অক্রান্ত হয়েছে কেউ সেরকম ঘটনাও নাই বলেই চলে।

আরো যা যা জানার আছেঃ

 

  1. ধূমপান, একাধিক মাস্ক পরিধান করা, এন্টিবায়োটিক সেবন করোনার জন্য উপকারতো করেই না বরং ক্ষতিকর।
  2. যদি ইতিমধ্যে করোনা অক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে শ্বাসযন্ত্রের ভেতরের ইনফেকশান সারা শরীরে এলকোহল বা ক্লোরিন স্প্রে করলে চলে যাবেনা।
  3. নিউমনিয়ার ভ্যাকসিনে করোনা দূর হয়না।
  4. লবন পানি দিয়ে বারবার নাক মুখ ধুলে করোনা১৯ ভাইরাসের ইনফেকশন থেকে বাঁচা যায়না। আরাম পাওয়া যায় খানিকটা।
  5. রসুনে প্রচুর এন্টি মাইক্রোবিয়াল আছে। কিন্তু করোনার বিরুদ্ধে রসুন কার্যকরী এরকম কোন প্রমান পাওয়া যায়নি। তবে রসুন খেলে আরাম পাবেন।
  6. করনা ভাইরাসে সকল বয়সের মানুষ অক্রান্ত হয়।

 

নতুন করোনা ভাইরাস COVID19 এর হাত থেকে বাঁচার সাধারণ সাবধানতাঃ

 

হাত ধোয়া

 ঘন ঘন সাবান ও পানি দিয়ে ভাল করে হাত ধোয়া অথবা এলকোহল বেজড কোন একটা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত জীবাণু মুক্ত করা।

কারনঃ সাবান পানি দিয়ে হাত ধুলে অথবা এলকোহল বেজড হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিস্কার করলে হাতে থাকা ভাইরাস মারা যায়।

 অন্যদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখাঃ

কেউ সর্দি, কাশিতে অক্রান্ত হলে তার করোনা ভাইরাস সনাক্ত হোক বা না হোক তার কাছ থেকে ৪ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে কথাবার্তা, মিটিং সম্পন্ন করুন।

কারনঃ কারো সর্দি কাশি হলে তার নাক ও মুখ দিয়ে খুবই ছোট ছোট জলীয় কনা বের হয়ে আসে যেগুলোতে রোগের জীবাণু থাকে।  কাছাকাছি থাকা লোকজনের নিঃশ্বাসের সাথে সেসব কভিড১৯ সহ সেসব জীবাণু অন্যজনের শরীরে ঢুকে পড়ে। সেজন্য কথা বলার সময় দূরত্ব বজায় রাখা নিরাপদ।

চোখ নাক মুখ হাত দিয়ে স্পর্শ করা এড়িয়ে চলুনঃ

ঘরে বাইরে নানান কাজে হাত বিভিন্ন জায়গায় স্পর্শ করতে হয়।  ফলে করোনা সহ সকল জীবাণু হাতেই বেশিরভাগ থাকে এবং হাত থেকেই অন্যান্য জায়গায় ছড়ায়। সেজন্য হাত দিয়ে নাক, মুখ, কান স্পর্শ করা যাবেনা।

হাঁচি, কাশি, সর্দি দেয়ার সময় সাবধানতা অবলম্বন করুনঃ

হাঁচি কাশি সর্দি থেকে করোনা ভাইরাস ছড়ায়। সেজন্য হাঁচি কাশি সর্দি আসলে হাত ভাঁজ করে কিংবা কোন টিস্যু কাগজে মুখ ঢেকে হাঁচি কাশি সর্দি ফেলতে হবে। পরে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে এবং যদি টিস্যু কাগজ ব্যবহার করা হয় তাহলে সেটা রাস্তায় বা যেখানে সেখানে না ফেলে ময়লার বিনে ফেলে মুখ বন্ধ করে রাখতে হবে।

কোন স্থানে, এলাকায় করোনা ভাইরাস আছে শোনা গেলে সেখানে যাওয়া থেকে বিরত থাকুনঃ

কোন কোন স্থানে করোনা অক্রান্ত হয়েছে বা ভাইরাস ছড়িয়েছে তা খবর রাখুন।  নিত্য নতুন তথ্য পেতে চোখ রাখুন WHO এর ওয়েব সাইটে।  সেসব এলাকায় যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। আপনি যদি ৬০ এর চেয়ে বেশী বয়স্ক হন অথবা আপনার যদি ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা থেকে থাকে তাহলে আপনার অক্রান্ত হওয়া এবং ভয়ানক অসুস্থ হয়ে যাবার সম্ভাবনা খুব বেশী।

জ্বর কাশি শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত স্বাস্থ্য সেবা গ্রহন করুনঃ

জ্বর হলে বা শরীর খারাপ লাগলে দ্রুত ডাক্তার বা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরামর্শ গ্রহন করুন। প্রয়োজন ছাড়া ঘর বাহির হবেন না। একেবারে না বের হলে বেশী ভাল। যদি করোনা সন্দেহ হয় এবং পরীক্ষায় প্রমানিত হয় তাহলে ভয়ের কিছু নাই, আপনি সুস্থ হয়ে যাবেন, তবে জাতে করে এটা অন্য কারো শরীরে না ছড়ায় সেজন্য অন্যদের কাছ থেকে নিজেকে আইসলেটেড বা সেলফ কোয়ারেন্টাইনে রাখার বেবস্থা করুন দ্রুত জরুরী ভিত্তিতে।

করোনা ভাইরাস অক্রান্ত এলাকায় ইদানিং ভ্রমন করে থাকলে নীচের নির্দেশনা মেনে চলুনঃ

  • উপরের নির্দেশনা মেনে চলুন
  •  আপনার যদি হালকা গা ম্যাজম্যেজে ভাব, হালকা জ্বর, কাশি, সর্দিও থাকে তাহলে সুস্থ হওয়ার আগে পর্যন্ত বাসায় থাকুন। জরুরী ভিত্তিতে নিকটবর্তী স্বাস্থ্য কেন্দ্র, হাসপাতাল বা ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহন করুন। কারন এই সর্দি, জ্বর, কাশি ভাইরাস সংক্রমনের কারনে হতে পারে। সেকারনে যত দ্রুত নিজেকে আইসোলেট বা বিচ্ছিন্ন করবেন তত এই ভাইরাসের সংক্রমন কম হবে।

তথ্য সুত্রঃ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।  লিংকঃ https://www.who.int/

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

জুন 2020
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
« মে    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  

ছবি ঘর

    WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com