Saturday, 15/8/2020 | : : UTC+6
Green News BD

করোনাভাইরাস পরীক্ষায় সারা দেশে একটিমাত্র ল্যাব!

করোনাভাইরাস পরীক্ষায় সারা দেশে একটিমাত্র ল্যাব!

করোনাভাইরাস নিয়ে কম্পিত বিশ্ব। বাংলাদেশে কারো শরীরে এখনো এই ভাইরাস শনাক্ত না হলেও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অন্যান্য দেশের মতো ঝুঁকি থাকছেই। সন্দেহ হওয়ায় বেশ কিছু মানুষের শরীর থেকে নেওয়া স্যাম্পল পরীক্ষা করা হয়েছে, যার সব ফলাফলই নেগেটিভ এসেছে। সারা দেশে মেডিক্যাল কলেজ ও জেলা হাসপাতালসহ ঢাকার তিনটি হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে সম্ভাব্য ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার জন্য। বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোতে চলছে প্রাথমিক উপসর্গ পরীক্ষার কাজ। তবে এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে ওঠা প্রশ্নকে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে একমাত্র সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) ল্যাবেই করোনাভাইরাস পরীক্ষার রি-এজেন্ট আছে। আর কোনো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তা নেই। ফলে করোনাভাইরাস পরীক্ষার সংখ্যা কোনো কারণে বেড়ে গেলে বা দেশে এই ভাইরাস কখনো শনাক্ত হলে তখন পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দেওয়া হবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা যত দূর জেনেছি, আমাদের কেবল একটি জায়গাতেই করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের সক্ষমতা আছে। সে ক্ষেত্রে আমাদের সংশয় থেকে যায়, যদি পরিস্থিতি খারাপের দিকে যায় তখন কিভাবে আমরা চাপ সামলাব? আমাদের এখনই আরো প্রস্তুতি প্রয়োজন আছে কি না সেটাও নিয়ে আমাদের সঠিকভাবে ভাবার দরকার আছে। এ ছাড়া যাঁরা এখানে বিজ্ঞানী আছেন, তাঁরাও সরকারকে এই ইস্যুতে ঠিক পথে চালাচ্ছেন কি না সেটাও প্রশ্ন হতে পারে।’

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘আরটিপিসিআর (রিয়াল টাইম পলিমারাইজড চেইন রিঅ্যাকশন) পদ্ধতি ও প্রযুক্তিতে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে আমরা কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে যে রি-এজেন্টে ব্যবহার করা হয় তা দেশে আর কারো কাছেই নেই। এ ছাড়া এটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সিডিসি আটলান্টার বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সরবরাহ হয়ে থাকে। এখনো ব্যাপকভাবে এটা অনেক দেশেই নিজস্ব উদ্যোগে চালু হয়নি। তাই বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে এভাবেই একটি দুটি প্রতিষ্ঠানে এর পরীক্ষা চলছে। অন্য কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এই পরীক্ষার রি-এজেন্ট নেই। ফলে আর কোথাও এটা পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকাই স্বাভাবিক।’

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের যেহেতু কোনো চিকিৎসা নেই, ওষুধ নেই, তাই এটি পরীক্ষা করে ধরতে পারা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। এ ক্ষেত্রে আমাদের যদি কখনো প্রয়োজন হয়, তখন ১০০-২০০ জনের স্যাম্পল পরীক্ষা করেই আর পরীক্ষার প্রয়োজন হবে না। তখন পরীক্ষা ছাড়া উপসর্গ দেখেই কেবল কিছু ব্যবস্থাপনা দেওয়া যাবে। তাই দেশের আর কোথাও এটি না থাকলেও খুব চিন্তার কোনো কারণ নেই।’

আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক ও বর্তমানে আইসিডিডিআর,বিতে কর্মরত অধ্যাপক ড. মাহামুদুর রহমান বলেন, ‘আইসিডিডিআর,বি এই রি-এজেন্ট সংগ্রহের চেষ্টা করছে। হয়তো আমাদের এখানেও এটা পাওয়া যাবে। পরবর্তীতে যদি কোনো প্রাইভেট বা সরকারি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান এই রি-এজেন্ট আনতে পারে সেটা তখন দেখা যাবে।’

এই বিশেষজ্ঞও বলেন, যদি কখনো ব্যাপকভাবে সমস্যা তৈরি হয় তখন আর এই ভাইরাসের জন্য জনে জনে শনাক্ত করার প্রয়োজন পড়বে না।

এদিকে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা জানান, এসব স্থানে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের কোনো পরীক্ষা হয় না। কেবল এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া অন্যতম উপসর্গ জ্বর আছে কি না সেটা দেখা হয়। এর পাশাপাশি পেছনের ইতিহাস জানা হয়। এর মাধ্যমে তথ্য বিশ্লেষণ করে যাদের সন্দেহ করা হয় তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সেসব জায়গায় এই ভাইরাস পরীক্ষার কোনো সুযোগ নেই। প্রয়োজনে আইইডিসিআর থেকে লোক গিয়ে স্যাম্পল এনে নিজস্ব ল্যাবে পরীক্ষা করার ব্যবস্থা রয়েছে। এভাবে এখন পর্যন্ত আইইডিসিআরে মোট ৪৯ জনের স্যাম্পল পরীক্ষা করা হয়েছে।

আইইডিসিআরের পরিচালক জানান, গতকাল পর্যন্ত আশকোনা হজ ক্যাম্পে থাকা চীনফেরত ৩০২ জনের সবাই ভালো আছেন। হাসপাতালে থাকা আটজনের অবস্থাও ভালো। তাঁরা পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এর মধ্যে কুর্মিটোলা হাসপাতালে থাকা একজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে পরীক্ষার জন্য। ড. ফ্লোরা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা করোনাভাইরাসমুক্ত আছি। বাংলাদেশে কেউ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি।’

এদিকে চীন ছাড়া অন্যান্য যেসব দেশে করোনাভাইরাসের রোগী রয়েছে সেসব দেশ থেকে বাংলাদেশে আসা মানুষের ক্ষেত্রে কোয়ারেন্টাইন ও পর্যবেক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকা নিয়েও চলছে নানা ধরনের আলোচনা। এ বিষয়ে ড. মাহামুদুর রহমান বলেন, মূল কেন্দ্র ছাড়া বাকি সবাই সেকেন্ডারি এফেক্টেড। তাই ওই সব দেশ থেকে কেউ এলেও ভয়ের কোনো কারণ নেই। কেবল প্রাথমিক তথ্য জেনে নেওয়া যেতে পারে। যদি কেউ ওই সব দেশের যে হাসপাতালে কোনো করোনাভাইরাস আক্রান্ত মানুষ ছিলেন, সেই হাসপাতাল বা সে রকম কোনো মানুষের সংস্পর্শে থেকে থাকেন তবেই কেবল কোয়ারেন্টাইনের প্রয়োজন হয়। ফলে এটা নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই।

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

আগস্ট 2020
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

ছবি ঘর

    WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com