ধান সংগ্রহ অভিযানে হতাশ কৃষকরা

ধান বেচার ‘কৃষক অ্যাপে’ নিবন্ধনের জন্য কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। তো এ কার্ড নিয়ে এর আগেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। ফলে অ্যাপেও ওই প্রশ্নগুলো থেকে যাচ্ছে।

যশোর সদর উপজেলায় এবার অ্যাপের মাধ্যমে ধান কেনা হবে। এই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খালিদ সাইফুল্লাহ জানান, কার্ডধারী কৃষকের সংখ্যা প্রায় ৬৮ হাজার। যেখানে মোট কৃষক ৮৮ হাজার।

কার্ডধারীদের মধ্যে কতজন প্রকৃত কৃষক, তাৎক্ষণিকভাবে তা যাচাই করা যায়নি। তবে ধান সংগ্রহ গত ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও যশোরে গতকাল সোমবার পর্যন্ত শুরু হয়নি। এ ব্যাপারে সাধারণ কৃষকরাও এখনো কিছু জানেন না। যশোর সদর উপজেলার পতেঙ্গালী গ্রামের মাঠে গত বৃহস্পতিবার ধান কাটছিলেন কৃষক আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জানান, তাঁর কৃষি কার্ড রয়েছে। ২২ কাঠা জমিতে তিনি ধান রোপণ করেছেন। ফলনও হয়েছে ভালো। অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরকারের ধান কেনার প্রসঙ্গে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সরকার ডিজিটাল পদ্ধতিতে অ্যাপের মাধ্যমে ধান কিনবে এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’ একই মাঠে এক বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছেন কৃষক কার্ডবিহীন আলী হোসেন। তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোন দিয়ে সরকারের কাছে ধান বেচতি পারলি তো আমাগের ভালো। তবে এসব বিষয়ে আমার জানা নেই।’ যশোর সদর উপজেলার অন্য গ্রামগুলোর কৃষকরাও এ বিষয়ে জানেন না বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

কৃষক মোবাইল ফোনে অ্যাপটি ডাউনলোড করে কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। ধানের নাম, জমির পরিমাণ, কী পরিমাণ ধান বেচতে চান, তা জানিয়ে আবেদন করবেন। পরে বরাদ্দের আদেশ ও মূল্য পরিশোধের সনদ সম্পর্কিত তথ্য এবং কোন তারিখ, কোন গুদামে যেতে হবে সেসব তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে কৃষক জানতে পারবেন। আবেদনকারী বেশি হলে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হবে। তবে কৃষকের স্মার্ট ফোন না থাকলে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে গিয়ে তিনি এ সেবা নিতে পারবেন।

যশোর খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৪ নভেম্বর যশোর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তাদের এ অ্যাপের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এখানে যশোর সদর ও ঝিনাইদহ সদর উপজেলার প্রায় ১৩৫ জন উদ্যোক্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নেবেন।

চলতি আমন মৌসুমে এবার যশোর জেলায় ১৫ হাজার ২৩০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে যশোর সদর উপজেলায় কেনা হবে দুই হাজার ৮২৬ মেট্রিক টন।

যশোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. লিয়াকত আলী বলেন, ‘৭ ডিসেম্বর থেকে কৃষকরা অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন ও বেচার আবেদন শুরু করতে পারবেন এবং আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ ডিসেম্বর। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তারা অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন ও আবেদনে কৃষকদের সহযোগিতা করবেন। আর আবেদন শুরুর তারিখের আগেই সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে কৃষককে এ বিষয়ে জানাতে গ্রামে গ্রামে মাইকিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

Sharing is caring!

Related Articles

Back to top button