Monday, 13/7/2020 | : : UTC+6
Green News BD

বনকর্তাদের অবহেলায় হাতির মৃত্যু

বনকর্তাদের অবহেলায় হাতির মৃত্যু

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি এলাকার একটি ধানক্ষেতের প্রায় দেড় ফিট নরম কাদামাটিতে পড়ে ছিল প্রায় ছয় টন ওজনের ৭০ বছরের বেশি বয়সী বন্যহাতিটি। হাতিটির পিছনের বাম পায়ে আগেই বাসা বাঁধে গ্যাংগ্রিন রোগ। পায়ের থাবায় (তালুতে) তিন ইঞ্চি ক্ষতের জায়গাজুড়ে ধরে পচন। ক্ষত পায়ে হাঁটতে না পারায় একরকম নিরুপায় হয়েই কাদামাটিতে থেকে আর্তচিৎকার জুড়ে দেয়।

চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যটি এশিয় হাতির জন্য পরিচিত। এটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে এশিয় হাতিদের চলাচলের জন্য একটি প্রধান রাস্তা।

জানা গেছে, হাতির চিৎকারে শুক্রবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে লোকালয়ে পড়ে যায় কোলাহল। খবর দেওয়া হয় বাংলাদেশ বন বিভাগের (ডিওএফ) বন্যজীবন বিভাগকে। ততক্ষণে সন্ধ্যা। একদিকে বৈরী আবহাওয়া, অন্যদিকে জঙ্গল। হাতির কাছে ছিল তার স্বজাতির কয়েকটি হাতি। তাই কাছে যেতে সাহস পায়নি কেউই। এভাবে অসহায় হাতিটি কাদায় পড়ে ছিল প্রায় ১৬ ঘন্টা।

এদিকে খবর পেয়েই বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা গঠন করেন মেডিকেল টিম। পরদিন শনিবার (৯ নভেম্বর) সকালে হাতির কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয় বন্যপ্রাণী বিভাগের কর্মকর্তারা। প্রায় ৮ ঘন্টার চেষ্টায় হাতিটিকে কাদামাটি থেকে শুকনো জায়গায় তুলে আনা হয়। দিনভর দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা। টানা ২৪ ঘন্টা কাদায় আর গ্যাংগ্রিনের যন্ত্রণা সয়ে পঁচনশীল রোগে আক্রান্ত হয়ে রোববার ১০ নভেম্বর ভোরে অবশেষে মারা যায় এ বন্য হাতি।

যে কারণে মারা গেল হাতিটি
হাতির পিছনের বামপায়ে গ্যাংগ্রিন নামক রোগ ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রায় তিন ইঞ্চি পুরো জায়গাজুড়ে ক্ষত হয়ে পচন ধরে যায়। লিভারে সমস্যা, হার্টের চতুর্দিকে পানি জমে যাওয়া, পেটে গ্যাস জমে যাওয়া এবং বয়স্ক অবস্থায় বাচ্চা প্রসবের কারণে দুর্বল হয়ে যাওয়াসহ গ্যাংগ্রিনের কারণে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে (ইন্টারনাল হ্যামারেজ) মারা যায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বনকর্তাদের অবহেলায় প্রাণ গেল কাদায় আটকেপড়া হাতিটির। সঠিক সময়ে উদ্ধার কাজে এগিয়ে না আসা এবং আটকা থাকার খবর পেয়েও এগিয়ে আসেনি বন্যপ্রাণী বিভাগের বিট কর্মকর্তারা। যার কারণে দীর্ঘ সময় কাদায় আটকে মারা যায় হাতিটি— এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এদিকে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য চুনতি রেঞ্জের কর্মকর্তারা জানান, গভীর গর্ত ছাড়া বন্যহাতিরা নিজে নিজেই যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম। কাদামাটি থেকে উদ্ধার হাতিটিকে শুকনো রাখতে একটি তাঁবু স্থাপন করা হয় এবং সেটাকে বাঁচানোর জন্য কঠোর চেষ্টা করেন তারা । তবে প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী বন্যপ্রাণীরা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে তাদের সার্বিক অবস্থা বুঝতে পারে। আর বন্যহাতি দীর্ঘ ১৫ দিন না খেয়ে বেঁচে থাকতে পারলেও পানি পান করা ছাড়া বাঁচতে পারে না। প্রায় প্রতিদিন একটি হাতির জন্য ২০০ লিটার পানির প্রয়োজন। তাই বন্যহাতি মৃত্যুর আগে পানির কাছাকাছি থাকতে চায়।

এদিকে অসুস্থ হাতি হাঁটতে না পেরে কাদামাটিতেই আশ্রয় নিয়েছিল। একইসাথে হাতির স্তন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, সম্প্রতি বাচ্চা প্রসব করায় হাতির শরীর খুবই দূর্বল। আর দীর্ঘ সময় খাবার না খাওয়ার কারণে আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই শুকনো জায়গায় তুলে চিকিৎসাসেবা দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরও হাতিটিকে বাঁচানো যায়নি।

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

জুলাই 2020
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

ছবি ঘর

    WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com