ফটিকছড়িতে বন্যায় হাজার একর বীজতলা নষ্ট, দিশেহারা কৃষকরা

গত সপ্তাহের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ফটিকছড়ির হাজার একর বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এতে দিশে হারা হয়ে পড়েছে ফটিকছড়ির কৃষকরা।

সরজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, বন্যায় সবচেয়ে বেশী বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সমিতিরহাট, রোসাংগীরি, সুয়াবিল, দৌলতপুর, জাফতনগর, বখতপুর,নানুপুর, কাঞ্চন নগর, লেলাং, ধুরুং, রাঙ্গামাটিয়া, পাইন্দং, ভুজপুর, হারুয়ালছড়ি, নারায়ণহাট ইউনিয়নে। এসব ইউনিয়নের হাজার হাজার কৃষকের কান্নায় মাঠ ঘাট ভারী হচ্ছে।

সুয়াবিল এলাকার কৃষক জয়নাল আবেদীন জানান, বন্যার পানিতে প্রায় এক সপ্তাহ ডুবে থাকায় নষ্ট হয়ে গেছে আউশ ধানের চারা। তিন আড়ি পাইজম ধানের বীজতলা।

রোসাংগীরির কৃষক গোলাম মওলা জানান, এখন চারা রোপনের সময় হওয়ায় বীজতলা পুরো নষ্ট হয়েছে। উচ্চফলনশীল ধানের বীজ গুলো কেজি ৪৫০ টাকা করে ক্রয় করা। তার উপর ৭০০ টাকা মজুরীর শ্রমিক দিয়ে বীজতলা গুলো তৈরী। এখন আবার নতুন তৈরী করে এ চারা লাগাতে মৌসুম পার হয়ে যাবে।

সমিতিরহাটের কৃষক আইয়ুব আলী জানান, অধিকাংশ কৃষক দরিদ্র। তারা ঋণ নিয়ে জমি আবাদ করেছিল। কিন্তু বীজতলা তৈরীর মাত্র ১৫ দিনে মাথায় বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে বোরো ধানের বীজতলা।

এই এলাকার কৃষি উপ-সহকারী জিয়াউল হক জিয়া বলেন, বন্যার পানিতে ২০-২৫ দিন আগে বুনা প্রায় ৩ একর বীজতলা নষ্ট হয়েছে। কৃষকদের এখন নতুন করে বীজতলা তৈরী করতে হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লিটন দেবনাথ বলেন, বন্যা পরবর্তী কৃষি ও কৃষকের ক্ষয় ক্ষতির তালিকা তৈরীর কাজ চলছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে এই উপজেলায় প্রায় হাজার একর বীজতলা নষ্ট হয়েছে। আমরা স্বল্প সময়ে উৎপাদনশীল বীজ বপনে কৃষককে পরামর্শ দিচ্ছি।

Sharing is caring!

Related Articles

Back to top button