Tuesday, 11/8/2020 | : : UTC+6
Green News BD

সারাদেশের সাথে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

সারাদেশের সাথে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সড়ক প্লাবিত হওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের তৃতীয় দিনেরমত সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সকালে বান্দরবান সদরে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চলের কয়েকশতাধিক ঘরবাড়ি।

সাঙ্গু নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় খোলা ১২৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে সাত শতাধিকেরও বেশি লোকজন। অব্যাহত ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো ছেড়ে লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।

প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জানায়, গত শনিবার থেকে বান্দরবানের সাতটি উপজেলায় অবিরাম ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবান-কেরানীহাট প্রধান সড়কের বাজালিয়া, বরদুয়ারা, দস্তিদারহাট তিনটি স্থানে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক।

সড়কে ৪/৫ ফুট পানি জমে থাকায় সারাদেশের সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে তৃতীয় দিনের মত। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা। তবে মধ্যখানের কয়েকশ ফুট প্লাবিত সড়ক নৌকা, রিক্সা এবং ভ্যান গাড়ীতে করে পার হচ্ছে মানুষ।

প্লাবিত সড়কের দুপাশে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে অবিরাম বর্ষণে বান্দরবানের সাঙ্গু নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদী তীরবর্তী উজানীপাড়া, মধ্যমপাড়া, মুসলিমপাড়াসহ আশপাশের শতশত ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। জেলা সদরের মেম্বারপাড়া, ওয়াবদাব্রীজ, কাশেমপাড়া, শেরেবাংলা নগর, ইসলামপুরসহ আশপাশের নিম্নাঞ্চলের কয়েক শতাধিক ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

বন্ধ রয়েছে রুমা এবং থানচিতে সবগুলো রুটে নৌ-চলাচলও। দুর্গমাঞ্চলের দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমনে পর্যটকদের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে প্রশাসন-আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শৈলসভা পরিবহন মালিক শ্রমিকের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বন্যার পানিতে প্রধান সড়ক প্লাবিত হওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তিনদিন ধরে বান্দরবান-চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং ঢাকা রুটে সবধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাহাড় ধসের কারণে রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি এবং বান্দরবান-লামা অভ্যন্তরীন সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে টানা ভারী বর্ষণে বান্দরবানের সাতটি উপজেলায় ছোট ছোট পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড় ধসে বহুঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সদরের ইসলামপুর, কালাঘাটা, লেম্বছুড়িসহ লামা, রুমা, থানচি, আলীকদম এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়। তবে বড় ধরণের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো থেকে লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।

মৃত্তিকা পানি সংরক্ষণ কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, বান্দরবানে বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা পর্যন্ত গতচব্বিশ ঘন্টায় ১৩১ মিটি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে সকাল থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড় ধসের শঙ্কা বাড়ছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো: দাউদুল ইসলাম বলেন, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলায় আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে ১২৬টি। দুর্যোগ মোকাবেলায় সবধরণের প্রস্তুতি রয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রানও মওজুদ রয়েছে প্রশাসনে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ত্রান সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

আগস্ট 2020
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

ছবি ঘর

    WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com