Monday, 13/7/2020 | : : UTC+6
Green News BD

রঘুরাজপুর, উড়িষ্যার একটি শিল্পগ্রাম

রঘুরাজপুর, উড়িষ্যার একটি শিল্পগ্রাম
পুরী থেকে মাত্র চোদ্দ কিলোমিটার দূরে ছোট্ট গ্রাম রঘুরাজপুর। এই গ্রামেই লুকোনো আছে সৃষ্টির গুপ্তধন। হস্তশিল্পের নানা রকম জিনিস হয় এখানে। ভারতের বন্ধু Sharmistha Das ফোনে বললো এই জায়গায় পারলে একবার যেও। ওড়িশি নৃত্যর বিশ্বখ্যাত শিল্পী কেলুচরণ মহাপাত্রের জন্মস্থান এই গ্রাম। এখানে আনুমানিক ২০টি শিল্পী-পরিবার বসবাস করেন। তাঁরাই বংশানুক্রমিক নিজেদের এই অমূল্য শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আমাদের জেনেভা ক্যাম্পের মত মনে হলো অনেকটা, ওদের ওখানে দেখা যায় বিয়ের কাপড়ে কারচুপির কাজ করে।
 
আমরা সেদিন একটা টোটো ভাড়া করে জগন্নাথের মাসিবাড়ি, পিশিবাড়ি, গুরুবাড়ি মন্দির দেখে চলে গেলাম এই গ্রামে। বিভিন্ন ধর্মীয় মন্দির আর এর আশেপাশের গিজগিজে দোকান থেকে একদম আলাদা রঘুরাজপুর। যাবার পথে সারি সারি নারিকেল গাছ বিমোহিত করে। আর এই গ্রামে ঢুকলেই সবার প্রথমে যেটা নজর টানে সেটা হল ছোট ছোট বাড়িগুলির দেয়ালে দেয়ালে আঁকা অসাধারণ সমস্ত ছবি। কোথাও আঁকা শ্রীকৃষ্ণের জীবন কাহিনির নানান দৃশ্য, কোথাও হনুমান, কোথাও গণেশ, কোথাও বা আঁকা সুন্দর সুন্দর নকশা। সব বাড়িরই সামনের ঘরে থরে থরে সাজানো রয়েছে অসাধারণ সব রকমারি হস্তশিল্পের জিনিস | ঘরে ছড়ানো ছেটানো অবস্থায় দেখতে পাবেন রঙ, তুলি, আরও সমস্ত শিল্পকার্যের সরঞ্জাম | তবে অধিকাংশই ধর্মীয় পটচিত্রই মনে হলো আমার কাছে।
 
সম্ভবত দ্বাদশ শতাব্দীতে এর উত্পত্তি হয়েছিল। পুরীতে জগন্নাথদেবের প্রধান দুটি উত্সব স্নানযাত্রা এবং রথযাত্রা। স্নানযাত্রার সময় জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রাকে একশো আট ঘড়া জলে স্নান করানো হয়। এর ফলে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁদের দর্শন পাওয়া যায় না। এছাড়া রথযাত্রার সময় তাঁরা মাসির বাড়ি যান, তখনো মন্দিরে দেখা যায় না। তাই সাধারণ মানুষের দর্শনের জন্যে জগন্নাথদেবের পরিধেয় বস্ত্রের উপর তাঁদের তিন ভাই বোনের ছবি আঁকার প্রচলন হয়। পটচিত্রের বিষয়বস্তু শুধুই জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা নন। এঁরা ছাড়াও বিষ্ণুর দশাবতার, রামায়ণ, মহাভারত এবং পুরাণের নানান ঘটনা পটচিত্রের বিষয়বস্তু হিসেবে স্থান পায়।
 
সাধারণত তসর বা অন্য কোনো কাপড়ে পটচিত্র আঁকা হয়। ‘পট্ট’ অর্থাত্ বস্ত্র এবং ‘চিত্র’ অর্থাত্ ছবি। পটচিত্র হল কাপড়ের ওপর আঁকা ছবি। কাপড় ছাড়া শুকনো তালপাতার উপরেও আঁকা হয়। আঁকার জন্যে ব্যবহৃত হয় লোহার পেন। আর নারকেল ছোবড়া দিয়ে তৈরি করা হয় ঘোড়া, হরিণ, নারকোল গাছ, বাবুই পাখির বাসার মত নানা ছোটখাট জিনিস। সুপুরির ওপর রঙ করে আঁকা হয় নানা ছবি। ফেলে দেওয়া নারকেলের মালাকে আবার জুড়ে তার উপর কাদার প্রলেপ লাগিয়ে সাদা রঙ করা হয়। এছাড়াও দেখতে পাবেন কাচের বোতলের উপরে করা নানা রকমারি নকশার বাহার। ইচ্ছেমত কিনেও নিতেও পারেন আপনার পছন্দের জিনিস।
 
এই পটচিত্রগুলি আঁকার জন্যে শুনলাম প্রাকৃতিক রঙই ব্যবহার করা হয়ঃ
১) শাঁখের গুঁড়ো থেকে তৈরি করা হয় সাদা রঙ।
২) কেরোসিন তেলের ল্যাম্পের ওপর টিনের পাত বা প্লেট রেখে তাতে পড়া কালি থেকে তৈরি হয় কালো রঙ।
৩) নানা রকম পাথরের গুঁড়ো থেকে অন্যান্য রঙ তৈরি হয়।
৪) শাকসবজি থেকেও তৈরি করা রঙ ব্যবহার করা হয়।

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

জুলাই 2020
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

ছবি ঘর

    WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com