Sunday, 5/7/2020 | : : UTC+6
Green News BD

শতবর্ষী বৌদ্ধমন্দির ও প্রাচীন বটগাছ বাঁচাতেই উদ্যোগ নেয়া জরুরি

শতবর্ষী বৌদ্ধমন্দির ও প্রাচীন বটগাছ বাঁচাতেই উদ্যোগ নেয়া জরুরি

পানছড়ি উপজেলার শতবর্ষী বৌদ্ধমন্দির চেংগী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙ্গনে মন্দিরের চারপাশের বটতলাও প্রায় বিলীনের পথে। আট-দশটি বটবৃক্ষের মধ্যে এখন রয়েছে মাত্র চারটি। প্রাচীনতম মন্দিরটি বাঁচাতে ও প্রাচীন বটগাছগুলো বাঁচাতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এখনই নেওয়া দরকার

এলাকায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণে বালুর প্রয়োজনীয়তার নামে অবৈধভাবে যথেচ্ছ প্রক্রিয়ায় চেঙ্গী নদীর বালু তুলছে ঠিকাদারের লোকজন। অভিযোগ রয়েছে, মূলত মন্দিরের নিকটবর্তী চেঙ্গী নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণেই পানছড়ির শতবর্ষী মন্দিরটি হুমকির মুখে পড়েছে।  গত ১৫ দিন ধরেই নদীর পাড়ে মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চললেও প্রশাসন নির্বিকার ভূমিকায় রয়েছে। মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক প্রবীণ শিক্ষক মংসাথোয়াই চৌধুরী বলেন, ‘গত কয়েক বছরে খরস্রোতা চেঙ্গীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে দেড় একরের বেশি জমি। নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে ছয়টি বটগাছ। বর্তমানে অবশিষ্ট যে মন্দির আছে এভাবে বালু উত্তোলন করলে অচিরেই সব বিলীন হয়ে যাবে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।’

ইতিহাস বলে , ১৮০০ সালের আগে থেকে পানছড়িতে শুরু হয় মারমা সম্প্রদায়ের বসবাস। ওই সময় এলাকায় ছিল না কোনো বৌদ্ধবিহার। তাই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় কার্যাদি সম্পন্ন করার জন্য ১৯১৫ সালে পানছড়ির চৌধুরীপাড়া (বর্তমানে কলেজ গেট এলাকা) চেংগী নদীর পাড়ে একটি মন্দির নির্মাণ করা হয়।  ১৯১৫ সালে নির্মাণ করা মন্দিরটি আদু গের মগিনী ১৯৩৫ সালে নতুনভাবে সংস্কার করেন।আদু গের মগিনীর হাতে তৈরি মন্দিরটির নামকরণ হয় ‘মহাম্রাই মুনী মন্দির’। সেই আমলে চেংগী নদী এত প্রশস্ত ছিল না। তখন ছিল ছোট একটি ছড়ার মতো যার দুপাশ ছিল ঝোপ-জঙ্গল। আর মন্দির এলাকা ঘিরে রেখেছিল প্রায় ১০টির মতো বটবৃক্ষ। সেই বটবৃক্ষের ছায়াতলে একসময় চৈত্র মাসে জমে উঠত বুদ্ধমেলা। মাসের অধিক সময় ধরে থাকত মেলার আসর। মেলা উপভোগ করার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এসে জড়ো হয়ে মেলাকে করে তুলতেন প্রাণবন্ত। কিন্তু কালের আবর্তে আজ সবই শুধু স্মৃতি। শুধু সাক্ষী হয়ে আছে মহাম্রাই মুনী নামে শতবর্ষী বৌদ্ধমন্দির।

মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা আদু গের বংশধর দুই ছেলে ও এক মেয়ে আজ বেঁচে নেই। তবে আদু গের মেয়ে আবাইতু মারা গেলেও তাঁর পাঁচ ছেলে-মেয়ের মধ্যে একমাত্র মেয়ে পাইচেং চৌধুরী (৯৫) এখনো বেঁচে আছেন। বর্তমানে তাঁরা এবং তাঁদের বংশধরেরা মন্দিরের দেখাশোনা করে থাকেন। বিশেষ করে পাইচেং চৌধুরীর মেয়ে নাইম্রাসাং চৌধুরী প্রতিদিন দেখাশোনা ও পূজা অর্চনা করেন। তাছাড়া ফুল চোয়াং (পূজা), হারিকেন ও মোমবাতি সারারাত ধরে মন্দিরকে আলোকিত করে রাখে। দায়ক-দায়িকারা এটি রক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন।

 

 

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

জুলাই 2020
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

ছবি ঘর

    WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com