আমাদের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য খৈয়াছরা ঝরনা

গ্রীষ্ম-বর্ষায় এইদেশে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় আমরা ভ্রমনবিমুখ হয়ে উঠি। কিন্তু উচাটন মন কি ঘরে আটকে থাকতে চায়?

যারা সত্যিকারের ভ্রমনপিয়াসু তারা পথ বের করে নেয় এমন সব জায়গা যেখানে গরম সহিষ্ণু ভ্রমণ করা যাবে। হ্যাঁ এই গ্রীষ্ম-বর্ষায় আমিও এই ধরণের ট্যুরগুলোকেই চয়েজ করে নিয়েছিলাম। এর ভেতর ছিল সীতাকুন্ডে সহস্রধারা ঝরনা, আড়াইহাজারের জলকেলি, ষোলঘরের কলকেলি আর এই ছুটিতে আমরা চলে গেলাম চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বাংলাদেশের খুবই সুন্দর ঝরনা খৈয়াছরা ঝরনা। যা দেখতে হলে বয়স হতে হবে ১৫-৪৫ ।

খৈয়াছরা নাম অনেকদিন শুনেছি, এর মাতাল করা জলপ্রপাত দেখে ঘুমিয়েও স্বপ্ন দেখেছি আমিও যাব। নেট ঘেটে এই ঝরনার আদ্যপান্ত জেনে অবশেষে সাহস করেই গত ২৯ তারিখ বহু ঝামেলা করে টিকেট কালেক্ট করে উঠে পড়েছি শ্যামলী পরিবহনে। প্রায় ৯ ঘন্টা জার্নি বাই বাসে আমরা পৌঁছালাম একে খাঁন বাস স্টপিজে। নেমে পড়লাম সেখানেই কারণ পরেরদিন ভোর ৬টায় আমরা মিরসরাই যাব এটাই প্ল্যান। যথাবিহিত সেখানেই রাত্রি যাপন করলাম, আশেপাশে পূজার ঢাক-ঢোলের আওয়াজে কৈবল্যধামে পূজা দেখলাম।

পরদিন চট্টগ্রামে-নোয়াখালী ডাইরেস্ট বাসে আমরা রওনা দিলাম মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া বাজার বাসস্ট্যান্ড। সেখানে নেমে একটা অটোতে চলে গেলাম রেললাইন পাকা রাস্তা যতদূর আছে। এটা ১.৪ কি.মি। বাকি পথ হাঁটা। আবহাওয়া খুবই সুন্দর , রোদ নেই। অনেকটা পথ আসার পর দেখলাম সেখানে অনেক খাবারের দোকান আছে। ছোট ছোট টিনের বাড়ি এগুলো, সেখানে ওয়াসরুম আছে। ঝরনায় ভিজে এসে যে দোকানে দুপুরের খাবার খাবেন ঝরনায় যাবার আগে সেখানে বলে গেলে সেখানেই কাপড় চেঞ্জ করতে পারবেন। ব্যাগ সেই দোকানেই রেখে যেতে পারবেন। আর জুতাও সেখানে রেখে গেলেই ভাল। সকালের নাস্তা সারলাম সেখানেই। ডিমভাজা, নুডলস আর চা। পথিমধ্যে লেবুর সরবত আর কলা খেলাম।
তারপর শুরু হলো বাঁশের সাঁকো, গ্রামীন পিচ্ছিল পথ, কাঠের সাঁকো, পাহাড়ের কোলঘেঁষে কাষ্ঠললতা, মোটা নাইলনের দড়ি আঁকড়ে অসম্ভব সুন্দরকে কাছ থেকে দেখার জন্য নিরন্তর বন্ধুর পথে যাত্রা। পথেমধ্যে অনেক জায়গায় ঝরনা থেকে নেমে আসে ঝিরিপথ পেরুতে হয়, সেই পথ কিন্তু অমসৃন। বড় বড় পাথরের নূড়ি। সেগুলোও ভয়াবহ পিচ্ছিল, শেওলা পড়া। কঠিন সেই পথ, প্রায় ৩ কি.মি পেরিয়ে আমরা পৌঁছে আকাঙ্খিত সুন্দর সান্নিধ্যে।

ঝরনা আর বৃষ্টিতে সেখানে মহামিলন ঘটেছে আমাদের ভ্রমণের। ফেরার পথ আরো ভয়াবহ রুপে আমাদের বরণ করলো, সেটা থাক কল্পনায়…

Sharing is caring!

Related Articles

Back to top button