স্বর্গের ছোঁয়া পাওয়া যাবে ইন্দোনেশিয়ার রাজা আমপাত দ্বীপে

সাদা বালিময় সৈকত, রঙিন প্রবাল প্রাচীর ও সবুজাভ-নীল জল— এমনই দৃশ্য নিয়ে আপনাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য তৈরি হয়ে আছে ইন্দোনেশিয়ার রাজা আমপাত দ্বীপ। রাজা আমপাত অর্থ চারজন রাজা। প্রায় ১ হাজার ৫০০টিরও বেশি দ্বীপের সমন্বয়ে রাজা আমপাত গঠিত। এখানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ প্রজাতির মাছ ও ৬০০ প্রজাতির প্রবাল রয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও প্রবালের সমন্বয়ে এ দ্বীপটি পৃথিবীর অন্যতম বড় জীববৈচিত্র্যময় সামুদ্রিক আবাস হিসেবে গড়ে উঠেছে। পর্যটকদের জন্য ইন্দোনেশিয়ার পরবর্তী আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এ দ্বীপটির দিকেই সবার দৃষ্টি।

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বে ৬৭ হাজার বর্গ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এ দ্বীপটি ছবির মতোই সুন্দর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক দিয়ে দ্বীপটা এতটাই নিখুঁত যে, এখানে এসে ভ্রমণপিয়াসুরা অনেকটা স্বর্গের ছোঁয়া পাবেন বলেই অনেকের অভিমত। পিয়ানেমো দ্বীপপুঞ্জ পর্যবেক্ষণ শেষে কানাডিয়ান অ্যাঞ্জেলিকা রেডউইক-লিউং বলেন, তারা অসংখ্য দ্বীপে ঘুরেছেন, কিন্তু তাদের কাছে রাজা আমপাতকেই সবচেয়ে সুন্দর দ্বীপ মনে হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া সরকার এরই মধ্যে এ দ্বীপাঞ্চলটিতে পর্যটক আকর্ষণের জন্য নানা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে দ্বীপটিকে নিয়ে আসার জন্য এখানে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট নির্মাণ ও নতুন বন্দরগুলোয় বিনিয়োগ করছে দেশটির সরকার। রাজা আমপাতের রাজধানী ওয়াইসাই থেকে প্রায় ২ ঘণ্টার নৌকার পথ পাড়ি দিলে গ্রামের দেখা মেলে। এখানকার অধিবাসীরা এখনো সাদামাটা জীবনযাপন করে। কুঁড়েঘরে বিদ্যুত্হীন পরিবেশেই তাদের বসতি। এখানে রয়েছে পরিষ্কার পানিরও অভাব। সবচেয়ে নিকটতম বিদ্যালয়টিও কয়েক মাইল দূরে অবস্থিত।

তবে আমরা জানি প্রকৃতিকে ধ্বংস করে উন্নয়ন করলে হিতে বিপরিত হতে বাধ্য। চলতি বছর মার্চে পর্যটকবাহী একটি সমুদ্রতরীর সংঘর্ষে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার বর্গমিটার আদিম প্রবাল প্রাচীর ধ্বংস হয় বলে জানান বায়াক বিতিউ গোত্রের প্রধান পল মেয়র। গবেষকদের মতে, ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রবাল প্রাচীর পুনরুদ্ধারে কমপক্ষে ১ কোটি ৬২ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন।

Sharing is caring!

Related Articles

Back to top button