চলো ঘুরে আসি মালয়েশিয়ার চল্লিশ কোটি বছরের পুরনো প্রাগৈতিহাসিক বাতু কেভস

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র বাতু গুহাসমূহ বা বাতু কেভস। মালয়েশিয়ার হিন্দু কমিউনিটির সবচেয়ে বড় উৎসব হলো থাইপুসাম। মূলত তামিল হিন্দুদের একটা পবিত্র স্থান হলো এই বাতু কেভস অর্থাৎ বাতু গুহাসমূহ।
কুয়ালালামপুর শহরের সবচেয়ে সুন্দর জায়গা বলা যায়। পাহাড়ের সামনে স্থাপন করা হয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হিন্দু দেবতার মূর্তি। মূর্তিটি প্রায় ১০ তলা বিল্ডিংয়ের সমান। পেছনে পাহাড়ে ওঠার জন্য লম্বা একটা খাড়া সিঁড়ি, সিঁড়িটিও ১০ তলা সমান। বাতু কেভসের পুরো সৌন্দর্যটাই প্রাকৃতিক পাহাড়, গাছগাছালি ও বানর। ২০০৬ সালে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্যোগে নির্মাণ হয়েছে কিছু মূর্তি।
এখানকার বিশাল আকৃতির পাহাড়ে রয়েছে একাধিক প্রাগৈতিহাসিক গুহা। গুহাগুলোতেই স্থাপন করা হয়েছে হিন্দু দেবতাদের মন্দির। স্থানীয় লোকজনের কাছে এটি মুরুগান নামে পরিচিত। গণেশের ভাই কার্তিকেরই আরেক নাম মরুগান। বাতু কেভস মালয়েশিয়ার হিন্দুদের ধর্মীয় তীর্থস্থান। এখানে ভগবান মুরুগান যাকে আমরা বাঙালিরা কার্ত্তিক দেবতা বলি তার পুজো হয়।
চল্লিশ কোটি বছরের পুরনো প্রাগৈতিহাসিক বাতু কেভস গুহা যতোট‍া ধর্মীয় তীর্থ, তার চেয়েও বেশী ট্যুরিস্ট স্পট। পূজারি ছাড়াও নানা দেশের মানুষে তাই সরগরম বাতু কেভস। কেউ মালয়েশিয়ায় বেড়াতে গেলে তাদের ভ্রমণ তালিকায় এই স্পটটা থাকেই।
যদিও মূলত এটা তামিল ভাষী হিন্দুদের তীর্থস্থান। ৪০ কোটি বছর আগে প্রাকৃতিকভাবে গঠন হওয়া এ গুহায় একসময় বসবাস করতো তেমুয়ান নামে এক আদিবাসী গোষ্ঠী। ওরা ছিলো মালয়েশিয়ার আদিমানব। উনিশ শতকে টিন খনিতে কাজ করতে আসা চাইনিজরা এ গুহার ইতিহাস একেবারেই ঘুরিয়ে দেয়। সবজি চাষের জন্য সারের প্রয়োজনে চুনা পাথরের এ পাহাড়ে এখানে ওখানে খুঁড়তে থাকে তারা। এভাবে ১৮৬০ সালেই বাতু কেভের সন্ধান পেয়ে যায় চাইনিজরা।

কিভাবে যাবেন:
এই বাতু কেভের অবস্থান কুয়ালালামপুর শহর থেকে উত্তরে গমবাক জেলায়। কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টার বা কেএলসিসি থেকে এখানকার দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার। ট্যাক্সিতে ভাড়া ওঠে ৪০ থেকে ৫০ রিঙ্গিত (১ রিঙ্গিতে ১৯ টাকা)। তবে রাঙালি অধ্যুষিত কোতারায়া থেকে বাসে এখানে আসতে ভাড়া পড়ে মাত্র আড়াই রিঙ্গিত। কেএল সেন্ট্রাল থেকে কমিউটার ট্রেনে প্রায় ৩ রিঙ্গিত ভাড়ায় এসে নামা যায় বাতু কেভ স্টেশনে।

Sharing is caring!

Related Articles

Back to top button