বৃষ্টি হলেই জলজটের কারণে রাজধানীবাসী নাস্তানাবুদ

রাজধানীতে সোমবার সকালে যেন নেমে এসেছিল সন্ধ্যা। আকাশ ছিল কালো মেঘে ঢাকা। সকাল ৭টা বাজতে না বাজতেই শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি এবং বজ্রপাত। টানা এক ঘণ্টা চলে ভারী বৃষ্টিপাত। বৃষ্টির কারণে অফিসগামী লোকজন ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে। বৃষ্টিতে অনেকে ঘর থেকে বের হতে পারেননি। রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গেছে । শহরের অলি-গলিতে কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও দেখা যাচ্ছে কোমর পানি।

এ অবস্থায় যানবাহনও চলার অবস্থায় নেই সিটি করপোরেশনের রাস্তাগুলোতে। আর কোনো যাত্রী রিকশা পেলেও সেখানে ভাড়া দিতে হচ্ছে দ্বিগুণ। পানির কারণে হেঁটে যাওয়ারও কোনও উপায় নেই। তাই বাধ্য হয়েই গাড়িতে বসে থাকতে হচ্ছে। আবার পানি ভেঙে যানবাহনগুলোতে উঠতেও পারছিলেন না বাসস্টপে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, কোথাও হাঁটুসমান পানি জমেছে, কোথাও রাস্তার পুরোটা ডুবে আছে পানিতে। শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, আরামবাগ, পুরান ঢাকার বেশকিছু স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান প্রধান সড়কগুলোতেও পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। জলজটের কারণে রাস্তায় গাড়ির দীর্ঘ সারি পড়ে গেছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে লোকজনকে। রাস্তার পাশে ড্রেন ও পানির সংযোগ লাইনের সংস্থারের জন্য খোঁড়া গর্তে পানি জমেছে। এসব গর্তে পড়ে পথচারীকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

এরই মধ্যে ধানমন্ডি ২৭-এ পানি জমে গেছে। সাভার, গাবতলী হয়ে আসা গাড়িগুলো রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে আছে। ভারী বৃষ্টিতে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে গেছে। কোথাও হাঁটু পানি, আবার কোথাও কোমর পানি জমে আছে। কালশীর দোকানি রহমান বলেন, ‘পুরা বর্ষা ব্যবসা বলতে গেলে বন্ধ। ঈদের পর কাল দোকান খুলে দুপুরে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। আজকে যে অবস্থা তাতে সারাদিনই মনে হচ্ছে দোকান বন্ধ রাখতে হবে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে আজ সকাল সোয়া ৯টায় জানানো হয়, রাজধানী ঢাকায় আজ সকাল ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

Sharing is caring!

Related Articles

Back to top button