দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাটের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প

পদ্মা নদীর দুই পাড়েই দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাটের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করা হবে। এ সম্প্রসারণের আওতায় নতুন ফেরিঘাট ভবন, ছয়টি লঞ্চ ও ফেরি পন্টুন, যানবাহন পার্কিং স্থান, অ্যাপ্রোচ সড়ক, লঞ্চ টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। পাটুরিয়া ফেরিঘাটটি আগের জায়গায় থাকবে; তবে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটটি দুই কিলোমিটার ভাটিতে আগের গোয়ালন্দ ঘাটে চলে যাবে। এসব উন্নয়ন করতে সরকার প্রায় এক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

বছরের দুই ঈদের সময় এই দুটি ফেরিঘাটে শত শত বাস-ট্রাক, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পারাপারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। মূলত ফেরিঘাটের অপ্রতুলতা, ফেরিসংকট, যানবাহন পার্কিংয়ের অভাবে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত সড়কে যানজট থাকে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এসব সমস্যার কিছুটা সমাধান হবে।

নৌ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ৯২৩ কোটি টাকার পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া-গোয়ালন্দে আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ নদীবন্দর আধুনিকায়ন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে বাস্তবায়নকারী সংস্থা নৌ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। ১৬ আগস্ট প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পটি সম্পর্কে ইতিবাচক মতামত দেওয়া হয়। শিগগিরই এটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত। প্রকল্পটি চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অননুমোদিত বরাদ্দহীন প্রকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত আছে।

এই প্রকল্পের আওতায় দুই ফেরিঘাটে মোট ৮ হাজার ৪০০ বর্গমিটারের টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হবে। ৮৫ হাজার বর্গমিটারের পার্কিং স্থান থাকবে। এ ছাড়া দুই পাড়ে নদীশাসন করা হবে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ১৩৭ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে।

Sharing is caring!

Related Articles

Back to top button