টিয়া পাখিদের বাবুর্চি!

দক্ষিণ ভারতের চেন্নাইয়ের সামান্য ক্যামেরা মেকানিক তিনি। আছে ক্যামেরা সারানোর দোকান। কিন্তু শখ তাঁর খাওয়ানো। দশ বছরের বেশি সময় ধরে দিনে দুইবার করে বুনো টিয়া পাখিদের খাইয়ে যাচ্ছেন তিনি। তার নাম শেখর কিন্তু পরিচিত বার্ডম্যান নামে। থাকেন চেন্নাইয়ের রোয়াপেট্টা এলাকায়।

বছর দশেক আগে বিধ্বংসী সুনামির পর খাদ্যের আশায় গোটা দুয়েক আশ্রয়হীন টিয়া পাখি এসে হাজির হয় শেখরের বাসায়। রাঁধা ভাত থেকে  তাদেরও কিছুটা খেতে দেন তিনি। খেতে পেয়ে পাখি দুটি কাছেই বাসা বাঁধে। তাদের দেখাদেখি অন্য টিয়া পাখিরা আসতে শুরু করে।

দশ বছর পর ক্যামেরা মেকানিক ৬২ বছর বয়সী শেখরের বাড়ির ছাদ এখন যেন টিয়া পাখিদের ডাইনিং হল। চেন্নাইয়ের রোয়াপেট্টা এলাকায় এই ডাইনিং হলে রোজ সকালে এসে ভিড় করে হাজার চারেক টিয়া পাখি।

এ জন্য ভোর ৪টার সময় উঠতে হয় তাঁকে, রোজগারের ৪০ শতাংশ যায় টিয়া পাখিদের খাওয়াতে।

ভারতের ‘পাখি মানুষ’ (বার্ডম্যান) শেখর ভোর ৪টায় উঠে বালতি বালতি ভাত রাঁধেন। এরপর ছাদের দেয়াল থেকে দেয়াল অবধি কড়িকাঠের মতো করে পাতা কাঠের তক্তার ওপর সেই ভাত মুঠো মুঠো করে বিছিয়ে দেন। যেন টিয়া পাখিরা ভোজের অতিথি, ব্যাচ ব্যাচ করে তাদের খেতে দিতে হবে। শেখরের প্রতিবেশীরা বাড়ির ছাদে, সামনের রাস্তার বিদ্যুতের তারে ‘সবুজের মেলা’ দেখে মুগ্ধ হন। প্রতিবেশীদের কাছে এ এক ‘রাজকীয়’ দৃশ্য। চেন্নাইয়ের এক (অ)সামান্য ক্যামেরা মেকানিক সেই সবুজের রাজা।

তবে শেখর নিজেই বলেন, পাখিদের খাঁচায় পোরার বদলে, টিয়া পাখিরাই তাঁকে খাঁচায় পুরেছে। তাঁর কোথাও যাওয়ার উপায় নেই, সপ্তাহে সাত দিনই দিনে দুইবার করে তাঁকে এই টিয়া পাখিদের ভোজন করাতে হয়। এখন তাঁর বয়স হয়েছে, শরীরও সেটা মালুম দিচ্ছে। আর কত দিন যে এই ডিউটি করতে পারবেন, তা তিনি জানেন না।

ধীরে ধীরে কিন্তু এই পাখি মানুষটির নাম ছড়াচ্ছে, তাঁর কাজের মর্ম অনেকেই উপলব্ধি করেছেন বলে ধরে নেওয়া যায়। কাজেই শেখর যদি নিতান্ত অপারগ হয়ে পড়েন, তবে অত বড় একটা শহরে, অত বড় একটা দেশে তাঁর কাজ কাঁধে তুলে নেওয়ার মতো মানুষ পাওয়া যাবে না, এটা বিশ্বাস করা কঠিন।

শেখর নিজেই বলেছেন, ‘এ সব কিছু হলো ভালোবাসা। ’ কোন মনীষী যেন বলেছিলেন, ‘বহু রূপে সম্মুখে তোমার…?’

Sharing is caring!

Related Articles

One Comment

Back to top button