সম্পাদকীয়

বনসাই করার মানসিকতাকে অনেক গভীর ভাবে দেখার চেষ্টা করছি। এ নিয়ে অনেক বির্তক হয় বনসাই প্রেমিকদের সাথে। এই বিতর্ক কিছুটা স্বাস্থ্যকর অনেকটা বিরক্তকর। মূল কারন প্রকৃতিকে বিভিন্নভাবে মানুষ বোঝার চেষ্টা করেছে। যেমনঃ

১) প্রকৃতি যখন বিরূপ হয় তখন মানুষ তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে আবার প্রকৃতিকে তার নিয়ন্ত্রনে এনে শাসন করার চেষ্টা করেছে। আমরা যদি মহেঞ্জদারো এবং হরপ্পার কাহেনী জানি তাহলে দেখবো সিন্ধু নদীর বাঁধ দিয়ে রাজা আরেকটি জনগোষ্টির জীবন কে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল। অন্যদিকে প্রকৃতি তার নিজ রুপে আবার গঙ্গা বইয়ে দিল। তেমনি প্রকৃতির ভাষা বুঝতে না পেরে পৃথিবীর বহু জনগোষ্টি বিলীন হয়ে গেছে। সুতরাং প্রকৃতির ভাষা বুঝা খুব জরুরী। নগর সভ্যতা বরাবরই এই প্রকৃতির সাথে একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে টিকে থাকার চেষ্টা করেছে। যা অতিপ্রাকৃতিক হওয়ার চেষ্টা।

২) আমরা এই একবিংশ শতকে বুঝতে পারলাম মিছে এই দৌড়াদৌড়ি করি কার মায়ায় এটি লালনের গান ঠিক সেই রকম প্রকৃতির শিক্ষা ছাড়া বা তার ছাত্র হতে না পারলে – বিষম এ অন্ধকার। তারপর থেকে এই environmental science শুরু হলো।

৩) গাছ আগে না মানুষ আগে – বিবর্তনবাদ প্রানী নিয়ে এবং তার বংশ নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেছে। কিন্তু গাছের জন্ম ও তার বংশ নিয়ে আলোচনা ও গবেষনা অনেকটা মানুষের জ্ঞানপূর্ব।

৪) গাছ কে আমাদের জন্মান্তর উত্তরসুরী বলতে পারি। তারা আমাদের জন্য কার্বন নেয়, মানে বিষ নেয়। আমাদের প্রান দেয় মানে অক্সিজেন ছাড়ে।

৫) আজ যারা বনসাই করছেন, তারা মানব প্রজন্ম ধ্বংস করতে চান। গাছকে মানুষের চেয়ে ছোট করতে চান, কিন্তু এই প্রবনতা প্রকৃতি শাসন বিরুদ্ধ। মানুষ প্রকৃতির সব চেয়ে ক্ষমতাধর প্রানী এটা জানে, তবে অবশ্যই স্রষ্টা নয়, সৃষ্টির অংশ মাত্র।

৬) ফেরাঊন চেয়েছিল সবকিছু জয় করতে,পারেনি, আলেকজান্ডার চেয়েছিল পৃথিবী জয় করতে তাও পারেনি, চেংগিস চেয়েছিল তাও পারেনি, হিটলার চেয়েছিল তাও পারেনি।

৭) পৃথিবীকে জয় করতে পারবে প্রকৃতির দাসত্ব বরন করে। প্রকৃতি তার সন্তানের কাছে তার দায়িত্ব দেয়।

৮) বনসাই যারা করছেন তাদের বলি গাছ লাগান, গাছে গাছে ভরিয়ে দিন। সুনীলের ভাষায় বলতে হয়- “নাদের আলি, আমি আর কত বড় হবো ? আমার মাথা এই ঘরের ছাদ ফুঁরে আকাশ স্পর্শ করলে তারপর তুমি আমায় তিন প্রহরের বিল দেখাবে ?

৯) মানুষের ও গাছ হতে ইচ্ছে করে, ইচ্ছে করে দেখে নিতে প্রকৃতির লীলাখেলা।

১০) গাছের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে আপনার কিছু হবে না। নতুন প্রজন্মকে পতঙ্গের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। একদিন মানুষ পতঙ্গ হবে – আপনি তাই চান?

Sharing is caring!

Related Articles

2 Comments

  1. সম্পাদক সাহেব একটু পড়াশুনা করে, জেনে ও বুঝে তথ্যসমৃদ্ধ লিখুন । এসব অযুক্তি -কুযুক্তি দিয়ে মানুষকে কেন বিভ্রান্ত করছেন ? প্রকৃতির সবকিছুই মানুষের জন্য । শহরে এক টুকরো খালী জায়গা সোনার চেয়ে দামী , সেখানে বৃক্ষ রোপন করার সুযোগ কোথায় ? ইট বালুর বাড়িতে একটু সবুজ মিনিয়েচার পরম যত্নে রাখলে পরিবেশে কার্বন ডাই অক্সাইড বেড়ে যায় আপনাকে কে বলেছেন ? অবাধে বৃক্ষ নিধন হচ্ছে আপনি বরং ঐদিকে তার বিরুদ্ধে একটু কলম চালান । দেখবেন তাতে মানুষ ও পরিবেশ উভয়ই উপকৃত হবে ।শুধুমাত্র একজনই বনসাই করার মানসিকতাকে অনেক গভীরভাবে দেখার চেষ্টা করছে না, মোটামুটি ২০০০ হাজার বছর ধরে এটা নিয়ে ভাবা হচ্ছে সারা পৃথিবীব্যাপী । একজন বনসাইকে না চাইলে তাতে এ শিল্প থেমে যাবে না । এই শিশুসুলভ ভাবনা ভেবে অনর্থক পুলকিত হতে চাইলে কে আপনাকে ঠেকাবে ?

    1. জনাব ধন্যবাদ । পৃথিবীতে দুই শ্রেনী থাকবেই । এক হৃদয় হীনার কাছে হৃদয়ের কি দাম আছে । আপনি বনসাই করেন ।
      বনসাই চাষ করেন । তার বিপক্ষে মতামত থাকবে এটাই স্বাভাবিক । জ্ঞানের প্রাথমিক স্তর হচ্ছে অন্যকে মুর্খ ভাবা। আপনি জ্ঞানি
      জ্ঞান বিতরণ করেন । শুধু অনূরোধ চাপাতি দিয়ে কোপাবেন না । আমাদের কথা বলতে দিন ।

Back to top button