Wednesday, 29/1/2020 | : : UTC+6
Green News BD

আত্মীয় ছাড়া অন্যরাও কিডনি দিতে পারবে

আত্মীয় ছাড়া অন্যরাও কিডনি দিতে পারবে

শুধু রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়ই নয়, এখন থেকে মানবিক বিবেচনায় সহানুভূতিশীল হয়ে যে কেউ যে কাউকে কিডনি দিতে পারবে। তবে মাদকাসক্ত ও কিডনি বেচাকেনা করে এমন কোনো ব্যক্তির কিডনি নেওয়া যাবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট এ রায় দেন।

‘অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, ১৯৯৯’-এর ২ (গ), ৩ ও ৬ ধারা কেন সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করা হয়। বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী খোন্দকার নীলিমা ইয়াসমিন। সরকার পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুদ্দিন খালেদ।

২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট এই রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। ফাতেমা জোহরা নামের এক নারী ২০১৫ সালে তাঁর মেয়ে ফাহমিদাকে একটি কিডনি দান করেন। তা সত্ত্বেও মেয়ের কিডনি অকেজো হয়ে যায়। এরপর কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য দাতা পেলেও আইনগত বাধায় মেয়ের কিডনি সংযোজন করতে না পারায় তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

চলতি বছরের ২৮ আগস্ট এক শুনানিতে কিডনি প্রতিস্থাপনের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামত জানতে চান হাইকোর্ট। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ)

প্রোভিসি ও বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলমের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। অপর ছয় সদস্য হলেন কিডনি ফাউন্ডেশনের চিফ কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. হারুন-উর-রশিদ, বিএসএমএমইউয়ের নেফ্রোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আসিয়া খানম, বিএসএমএমইউয়ের ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম খুরশিদুল আলম, বারডেম হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মির্জা এম এইচ ফয়সাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম এবং জাতীয় কিডনি ডিজিজেস ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল হুদা।

গত ৭ নভেম্বর কিডনি প্রতিস্থাপন বিষয়ে সাত সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কমিটি আদালতে তাদের মতামত দেয়। মতামতে তারা বলে, আত্মীয় নয় এমন কারো কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন নেই। আইনের বাইরে অন্য কারো কিডনি প্রতিস্থাপনের সুযোগ তৈরি হলে দেশের দরিদ্র মানুষের জীবন সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। ধনীরা বাণিজ্যিকভাবে এর ব্যবহার শুরু করবে। এতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচারের মাত্রা বাড়বে।

তবে বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামতের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন বিষয়ে বিদ্যমান আইন সংশোধন হওয়া প্রয়োজন। কারণ এই আইনে নিকটাত্মীয় ছাড়া অন্য কারো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের সুযোগ রাখা হয়নি। তাই একজন সুস্থ মানুষ চাইলে অন্য কাউকে তার অঙ্গ দান করতে পারবে—এমন আইন থাকা উচিত।

পরে আদালত রায়ের তারিখ ধার্য করেন। গতকাল হাইকোর্ট ওই রায় প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর আদালতের পর্যবেক্ষণ বা রায়ের অন্যান্য বিষয় জানা যাবে।

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

জানুয়ারী 2020
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
« ডিসে.    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

ছবি ঘর