Wednesday, 29/1/2020 | : : UTC+6
Green News BD

অবহেলা-অযত্নে বেহাল দশা গাইবান্ধার ২০টি নদীর

অবহেলা-অযত্নে বেহাল দশা গাইবান্ধার ২০টি নদীর

অবহেলা-অযত্নে মরতে বসেছে গাইবান্ধার ভেতর দিয়ে বয়ে চলা বেশ কয়েকটি নদী। কোনো কোনোটি সারা বছর থাকে পানিশূন্য। শুধু বর্ষা বা বন্যায় ব্রহ্মপুত্র, যমুনা বা তিস্তা যখন ফুলে-ফেঁপে ওঠে, তখন বোঝা যায় এগুলো নদী। জেলায় একসময় প্রবাহিত নদীর নাম খুঁজে বের করতে রীতিমতো গবেষণা করতে হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছেও এ সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। আর এসব নদী ভরাট হয়ে শুকিয়ে নালায় পরিণত হওয়ার কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে প্রকৃতি। জীববৈচিত্র্যের ওপর পড়ছে ব্যাপক প্রভাব।

একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে, গাইবান্ধায় নদীর সংখ্যা ২০টি। বড় নদ-নদী বলতে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও তিস্তা। এসব নদীতে এসে মিশেছে ছোট ছোট কিছু নদী। এর মধ্যে আছে ঘাঘট, করতোয়া, আলাই, মানস, আখিরা আর কাটাখালী। আরো কিছু নদী আছে। তবে বর্তমানে এগুলোর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া ভার। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জের নলেয়া, ল্যাংগা, গাঙ্গনাই, হলহলি, কালাপাণি, জিঞ্জিরাম, মরা ঘাঘট, মরুয়াদহ, মাসানকুড়া, বাঙালি, মরা বাঙালি, ত্যানা ছিঁড়া, শাখা তিস্তা, মৎস্য, মরা বাগুনা, বানজানি, সরাই প্রভৃতি। এগুলোর অবস্থা মরণাপন্ন। লোকে এগুলোকে এখন খাল বলেই চিহ্নিত করে। তলদেশ ভরাট হওয়ায় নদীর বুকে ধানসহ অন্য ফসল চাষ করছে আশপাশের লোকজন। নদীতে পানি না থাকায় কৃষিক্ষেত্র এবং মানুষের জীবনাচরণে তার প্রভাব পড়ছে। তাতে বিপাকে পড়েছে মৎস্যজীবীরা। নৌ চালকরাও বেকার হয়ে পড়েছে। নদী ও কৃষি সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ছোট নদীগুলো রক্ষা করা না গেলে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা যেমন সম্ভব নয়, তেমনি মানুষের জীবনের ওপরও পড়বে এর বহুমাত্রিক প্রভাব।

সুন্দরগঞ্জের নদী বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সংগঠক সাদেকুল ইসলাম দুলাল বলেন, সুন্দরগঞ্জের ল্যাংগা বা মরুয়াদহ নদী কালের বিবর্তনে এখন খাল হিসেবে পরিচিত। নিয়মিত খননের মাধ্যমে এ নদীগুলো পুনরুজ্জীবিত করা গেলে ফসল ও মাছের জন্য উপযোগী হবে। নদী নিয়ে কাজ করা উন্নয়ন সংগঠক এম আবদুস সালাম বলেন, এই অঞ্চলের ছোট নদীগুলো হারিয়ে যাওয়ায় জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্বদ্যািলয়ের শিক্ষক নদী গবেষক ড. তুহিন ওয়াদুদ জানান, অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণ ও নদীতীর দখল করে স্থাপনা তৈরির ফলে বৃষ্টি বা অন্য সব প্রাকৃতিক পানির প্রবাহ নদী পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, বিএডিসি ও এলজিইডি দু-একটি নদী খনন শুরু করেছে। তবে পাউবো ঘাঘট, আলাই, আখিরা, নলেয়া, মরা বাঙ্গালী, ত্যানা ছিঁড়া নদী খননে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

জানুয়ারী 2020
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
« ডিসে.    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

ছবি ঘর