Sunday, 17/11/2019 | : : UTC+6
Green News BD

দেশি পাঙ্গাশের কৃত্রিম প্রজননে সাফল্য

দেশি পাঙ্গাশের কৃত্রিম প্রজননে সাফল্য

বিলুপ্তির শঙ্কায় পড়া দেশি প্রজাতির মিঠা পানির পাঙ্গাশ মাছের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কৌশল উদ্ভাবনে সফলতা পেয়েছেন একদল গবেষক। এস এম মাহবুবুর রহমানের মালিকানাধীন ভোলা মনোসেক্স তেলাপিয়া হ্যাচারিতে এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। সে সুবাদে এখন থেকে কৃত্রিম প্রজননে পোনা উৎপাদনের মাধ্যমে দেশীয় পাঙ্গাশ বেঁচে থাকবে বদ্ধ জলাশয়েও।

গবেষণাদলের প্রধান ছিলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুর রহমান আরিফীন। তাঁর গবেষণা সহকারী রহমত উল্লাহ, আলমগীর কবীর ও হ্যাচারি টেকনিশিয়ান ফারুক হোসেন। এই গবেষণার কাজে সহযোগিতা করেছে ওয়ার্ল্ড ফিশের এফটিএফ বানা প্রকল্প ও মৎস্য বিভাগ।

দেশীয় পাঙ্গাশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Pangasius pangasius। মিঠা পানি ও আধা লোনা পানির জলাশয় বিশেষ করে নদী ও মোহনায় মাছটি পাওয়া যায়। এরা প্রাণিকণা ও ছোট ছোট শুককীটজাতীয় খাবার এবং ছোট ছোট শামুক খেয়ে বেঁচে থাকে। একসময় মাছটি বাংলাদেশের সর্বত্র পাওয়া যেত। কিন্তু আবাদি জমিতে কীটনাশক ও সার প্রয়োগ, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণসহ নানা কারণে বাসস্থান ও প্রজনন ক্ষেত্র নষ্ট হওয়ায় এই মাছের প্রাচুর্য অনেকটাই কমে গেছে। ২০১৫ সালে আইইউসিএন মাছটিকে বিপন্নপ্রায় প্রজাতির তালিকাভুক্ত করে। এ অবস্থায় দেশীয় পাঙ্গাশ মাছকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে গবেষণাকাজ শুরু করেন একদল গবেষক। দীর্ঘ গবেষণার পর তাঁরা দেশে প্রথমবারের মতো মাছটির কৃত্রিম প্রজনন ও পোনা উৎপাদনের কলাকৌশল উদ্ভাবনে সফলতা পেলেন।

গবেষকদল সূত্রে জানা গেছে, একটি পরিপক্ব (সাড়ে চার থেকে পাঁচ কেজি) দেশীয় স্ত্রী পাঙ্গাশ মাছের ডিম ধারণক্ষমতা এক লাখ ২০ হাজার থেকে সাড়ে তিন লাখ। প্রজননকাল জুলাই থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত।

মাহবুবুর রহমান তাঁর হ্যাচারিতে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমের উল্লেখ করে বলেন, ভোলার মেঘনা নদীর মোহনা থেকে ভাটার সময় দেশীয় পাঙ্গাশ মাছের পোনা সংগ্রহ করা হয়। একেকটি পোনার ওজন ছিল ১৫ থেকে ১৮ গ্রাম। পোনা সংগ্রহের পর ছোট পুকুরে মজুদ করে নির্দিষ্ট মাত্রায় খাবার প্রয়োগের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ বছর প্রতিপালন করে প্রজনন উপযোগী ব্রুড মাছ তৈরি করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, একই বয়সের পুরুষ মাছের চেয়ে স্ত্রী মাছ আকারে বড়, ওজনও বেশি। প্রজনন মৌসুমে পরিপক্ব পুরুষ ও স্ত্রী মাছ পুকুর থেকে সংগ্রহ করে হ্যাচারির ট্যাংকে আট থেকে দশ ঘণ্টা পানির ঝরনাপ্রবাহে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে যথাক্রমে ১ঃ১ অনুপাতে একক মাত্রার হরমোন ইনজেকশন প্রয়োগ করে হাউসের মধ্যে রাখা হয়। প্রয়োজনীয় অক্সিজেন নিশ্চিত করার জন্য ঝরনার মাধ্যমে পানিপ্রবাহ অব্যাহত রাখা হয়।

এই সফলতা সম্পর্কে গবেষণাদলের প্রধান আরিফুর রহমান আরিফীন বলেন, বিপন্নপ্রায় পাঙ্গাশ মাছের কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন কৌশল উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশে কোথাও এমনটা সম্ভব হয়নি।

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

নভেম্বর 2019
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
« অক্টো.    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  

ছবি ঘর