Sunday, 15/12/2019 | : : UTC+6
Green News BD

পদ্মার গ্রাসে গৃহহীন হয়ে পড়েছে সহস্রাধিক পরিবার

পদ্মার গ্রাসে গৃহহীন হয়ে পড়েছে সহস্রাধিক পরিবার

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মায় পানি কমছে। পাশাপাশি বাড়ছে স্রোত ও নদীভাঙনের তীব্রতা। ভাঙন তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটসহ পাশের বিভিন্ন গ্রাম এলাকায়। সেখানে ভাঙন হুমকিতে আছে ৩ নম্বর ফেরিঘাটসহ লঞ্চঘাট। পাশের মজিদ শেখেরপাড়া গ্রামের আর মাত্র ৫০ মিটার ভাঙলেই যেকোনো সময় ওই লঞ্চঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। গত সাত দিনে পদ্মার গ্রাসে গৃহহীন হয়ে পড়েছে আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের সহস্রাধিক পরিবার। উপায় না পেয়ে তাদের অনেকেই উপজেলা এলাকার বিভিন্ন বেড়িবাঁধ, মহাসড়ক ও রেলপথের ঢালে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোর শত শত সদস্য খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।

গতকাল সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলা এলাকায় পদ্মা নদীতে প্রবল স্রোত বইছে। পাশাপাশি ভাঙন তাণ্ডব চলছে দৌলতদিয়া ঘাটসহ পাশের সিদ্দিক কাজীরপাড়া, মজিদ শেখেরপাড়া ও নতুনপাড়া এলাকায়। সেখানে প্রবল স্রোত ও পানির ঘূর্ণিপাকে মুহূর্তেই পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ঘরবাড়িসহ অসংখ্য গাছপালা। রাক্ষুসী পদ্মার এমন তাণ্ডবের মুখে গ্রামগুলোর অবশিষ্ট বাসিন্দারা যার যার ঘরবাড়ি ভেঙে, গাছপালা কেটে, পূর্বপুরুষের ভিটামাটি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে। এ সময় নদীভাঙা পরিবারসহ গ্রামবাসী অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের বর্ষায় দৌলতদিয়া ফেরিঘাটসহ পাশের সিদ্দিক কাজীরপাড়া, মজিদ শেখেরপাড়া ও নতুনপাড়া গ্রাম এলাকায় ভাঙন দেখা যায়নি। কিন্তু পরে আকস্মিকভাবে পদ্মায় পানি ও স্রোত বেড়ে গত ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ব্যাপক ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

এরই মাঝে পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে দৌলতদিয়া ১ ও ২ নম্বর ফেরিঘাটসহ ওই তিন গ্রামের অর্ধেক অংশ। নদীভাঙা অনেক মানুষ উপজেলা এলাকার বিভিন্ন বেড়িবাঁধ, মহাসড়ক ও রেলপথের ঢালে আশ্রয় নিয়েছে খোলা আকাশের নিচে। তারা মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। টার্মিনালে থাকা লঞ্চচালকরা জানান, যেকোনো সময় দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে পদ্মায় প্রবল স্রোত ও পানির ঘূর্ণিপাকের কারণে লঞ্চ চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় চার দিন ধরে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া বন্ধ রয়েছে লঞ্চ সার্ভিস। বিআইডাব্লিউটিএর আরিচা অঞ্চলের উপপরিচালক (ট্রাফিক) ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত এই নৌপথে সব লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে।’

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) গোয়ালন্দ অফিসের কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী জানিয়েছেন, পদ্মার পানি কমতে শুরু করেছে। গতকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার পানি কমে বিপত্সীমার ১১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট অফিস সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ফেরিঘাটের ১ ও ২ নম্বর ঘাট দুটি এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ওই ঘাট দুটির সংযোগ সড়কের ৫০ মিটার অংশ ভেঙে গেলে সচল থাকা ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ঘাট তিনটিও ভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, সদর, পাংশা, কালুখালী ও গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদীর প্রায় ১৭ কিলোমিটার এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।

এদিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আটকা পড়ে আছে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ ঢাকাগামী শত শত বাহন। এতে ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের ইউনিয়ন বোর্ড পর্যন্ত রাস্তার এক পাশে ওই গাড়িগুলোর দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়ে আছে।

বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লা বলেন, ‘গত রবিবার সকাল থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় মোট ১০টি ফেরি সার্বক্ষণিকভাবে সচল রয়েছে। কিন্তু তীব্র স্রোতের কারণে ফেরিগুলো স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। পারাপারে সময় অনেক বেশি লেগে যাওয়ায় ফেরির ট্রিপসংখ্যাও কমে গেছে। পাশাপাশি ঢাকাগামী বিভিন্ন গাড়ির চাপ বেড়ে দৌলতদিয়া ঘাটে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

ডিসেম্বর 2019
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
« নভে.    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

ছবি ঘর