Thursday, 17/10/2019 | : : UTC+6
Green News BD

স্কটল্যান্ডের চেয়েও বড় হিমশৈল ভেঙে পড়ল অ্যান্টার্কটিকায়

স্কটল্যান্ডের চেয়েও বড় হিমশৈল ভেঙে পড়ল অ্যান্টার্কটিকায়

বছর দুয়েক আগে বিশাল বরফের খণ্ড ভেঙে পড়েছিল আন্টার্কটিকায়। তখন জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। কয়েক দিন আগেও অনেকটা বরফ গলে যাওয়ার খবর আসে মেরুপ্রদেশ থেকে। তবে এবার আরো ভয়বাহ খবর। ৩১ হাজার ৫০০ কোটি টন ওজনের একটি হিমশৈল ভেঙে পড়ল সমুদ্রে! বিজ্ঞানীরা বলছেন, গত ৫০ বছরে এত বড় বরফখণ্ড একসঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়নি। যে বরফখণ্ডটি সমুদ্রে ভেঙে পড়েছে, তা ১ হাজার ৬৩৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছিলো। অর্থাৎ, প্রায় স্কটল্যান্ডের সমান এলাকা জোড়া ওই বিশাল বরফের খণ্ড ভেঙে পড়েছে আন্টার্কটিকায়।

ইউরোপ ও অ্যামেরিকার স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোনো একটা সময়ে ডি-২৮ নামের ওই বরফের টুকরো ভেঙে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্টার্কটিকার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত অ্যামেরি আইস সেল্ফ থেকে এটি পৃথক হয়ে গেছে। তবে হঠাৎ করে নয়, গত দশ বছর ধরে এই ভাঙনের প্রক্রিয়া চলছিল বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

মার্কিন হিমবাহ বিশারদ হেলেন আমান্ডা ফ্রিকার বলেন, ভারী তুষারপাতের কারণে অনেক সময়ে আইস সেল্ফের ওজন বেড়ে যায়। বাড়তে বাড়তে এক সময়ে অতিরিক্ত ওজন বেড়ে গেলে, তা এভাবে ভেঙে পড়ে। তিনি জানান, ডি-২৮ নামের ওই হিমশৈলের ঘনত্ব প্রায় ২১৫ বর্গমিটার এবং সেখানে যতটা বরফ রয়েছে, তার মোট পরিমাণ প্রায় ৩১৫ বিলিয়ন টন!

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল সূত্রে জানা যায়, এই হিমশৈলের ভাঙনের কারণ জলবায়ু পরিবর্তন বা বিশ্ব উষ্ণায়ন নয়। গবেষকদের দাবি, আন্টার্কটিকার পূর্বাঞ্চলে, যেখানে এই ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব সেভাবে পড়ে না। মহাদেশটির পশ্চিমাঞ্চল ও গ্রিনল্যান্ডের দিকে যেভাবে বরফ গলছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে, সেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নয় পূর্বাঞ্চল। ফলে এই হিমশৈলের ভাঙনের কারণ সম্পূর্ণ অন্য। আমান্ডা ফ্রিকার বলেন, এটা মাথায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যেন বিভ্রান্ত হয়ে মনে না করে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমনটা হয়েছে।

দ্য অ্যামেরি আইস সেল্ফ ১৯৬০ এর দশক থেকে সবচেয়ে বড় হিমশৈলগুলোর একটি। মোট ৯ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত অ্যামেরি বর্তমানে অ্যান্টার্কটিকার তৃতীয় বৃহত্তম আইস সেল্ফ। এই সেল্ফ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এত বড় হিমশৈলের অবস্থান ও গতিপথ যদি নিয়ন্ত্রণ না করা যায়, তা হলে তা জাহাজ চলাচলের জন্য বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। শুধু তা-ই নয়। বিশাল ওই আইস সেল্ফটির মাধ্যমে বেশ কিছু হিমবাহ সমুদ্রে প্রবাহিত হয়। বিশাল ওই তুষারস্তূপ সমুদ্রে ভেঙে পড়ার কারণে এখন কীভাবে সেই হিমবাহ প্রবাহের গতিপথ নির্ধারিত হবে, সেটিও এখন বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অধ্যাপক ও গবেষক ফ্রিকার অবশ্য ২০০২ সালেই এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছিলেন, আগামী ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে এই আইস সেল্ফ সমুদ্রে হারিয়ে যাবে। তিনি বলেন, আমি এতো দিন অপেক্ষা করছিলাম, কবে এমনটা হবে। কারণ আমরা জানতাম, যে কোনো সময় এটা হতে পারে। এটা হলে সর্বনাশ হয়ে যাবে, কিন্তু আটকানোর পথও আমাদের জানা নেই। বরফ নিজের নিয়মে পড়বেই, আর অ্যামেরি আইস সেল্ফ ভারী হতেই থাকবে।

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

অক্টোবর 2019
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
« সেপ্টে.    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  

ছবি ঘর