Sunday, 17/11/2019 | : : UTC+6
Green News BD

পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে, হুমকির মুখে শহর রক্ষা বাঁধ

পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে, হুমকির মুখে শহর রক্ষা বাঁধ

রাজবাড়ীর পদ্মা নদীর দৌলতদিয়া পয়েন্টে পানি গত সোমবার বিকেলে বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সেই সঙ্গে নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে দেখা দিয়েছে ভাঙন। হুমকির মুখে পড়েছে রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার বিকেলে হঠাৎ করে জেলা শহরের গোদার বাজারে গোলাম মোস্তফার ভাটা এলাকায় থাকা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের অংশ ধসে পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। একই সময় সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের কারণে গোদার বাজার এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধ দেড় শ মিটারের মধ্যে চলে এসেছে। ফলে হুমকির মধ্যে পড়েছে ওই বেড়িবাঁধ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাঁদের চোখের সামনে মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যে গোদার বাজার এলাকার গোলাম মোস্তফার ইটভাটা এলাকার প্রায় ৫০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। যে স্থান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে সেখানে বেশ কয়েক হাজার ইটও সাজিয়ে রাখা ছিল।

এদিকে, পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে গত রবিবার বিকেলে পুনরায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে রাজবাড়ীর জৌকুড়া ও পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌপথের ফেরি চলাচল। ফলে যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে পারাপার হচ্ছে।

রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাদ্দাম হোসেন জানান, কয়েক দিন ধরে পদ্মা নদীতে পানি বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে স্রোতের তীব্রতা। যে কারণে ফেরিসহ অন্যান্য নৌযান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী কৃষ্ণেন্দু বিকাশ সরকার জানান, নেপালে অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে গত কয়েক দিন ধরে দ্রুতগতিতে বাড়ছে পদ্মা নদীর পানি। সেই সঙ্গে রয়েছে স্রোতের তীব্রতা।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম জানান, পদ্মায় হঠাৎ পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনের বিষয়টি তাঁরা পুরোদমে নজরদারি করছেন। ইতিমধ্যেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ভাঙন রোধে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা শুরু করা হয়েছে।

বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. আবু আব্দুল্লাহ জানান, দৌলতদিয়ায় ছয়টি ফেরিঘাট রয়েছে। এর মধ্যে ৪ ও ৫ নম্বর ঘাট দুটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পন্টুনের র‌্যাম ও পকেটপথ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে ঘাট দুটি বন্ধ রয়েছে।  স্থানীয়রা জানান, গতকাল ঘাটে ফেরি পারের অপেক্ষায় আটকা পড়ে ঢাকাগামী কয়েক শ বিভিন্ন গাড়ি। এতে ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের ইউনিয়ন বোর্ড পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটারে বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের দীর্ঘ সারি হয়।

বিআইডাব্লিউটিএর আরিচা অঞ্চলের সহমহাব্যাবস্থাপক (মেরিন) মো. আব্দুস সোবাহান বলেন, ‘আশ্বিন মাসেও পদ্মার পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই। এমন অবস্থা আমার ৪৫ বছরের চাকরি জীবনে আগে কখনো দেখিনি।’

এদিকে দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। সেখানে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বিভিন্ন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। বিভিন্ন রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গ্রামবাসী ডিঙি নৌকা ও ভেলায় করে যাতায়াত করছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘বর্ষা শেষে এলাকার পানি নদীতে নেমে গিয়েছিল। কিন্তু গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে আকস্মিকভাবে ফের পানি বাড়তে শুরু করে। গতকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত চব্বিশ ঘণ্টায় সেখানে ৫ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।’

অন্যদিকে, মাদারীপুরের শিবচরের চরাঞ্চলের হাসপাতালসহ শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। ভয়াবহ ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে পাঁচটি স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, হাসপাতালসহ বহু স্থাপনা ও ফসলি জমি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চালাচ্ছে।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে প্রথম দফায় গত আগস্টে শিবচর উপজেলার চরজানাজাত, কাঁঠালবাড়ী ও বন্দরখোলা ইউনিয়নে ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দেয়। সে দফায় একটি মাদরাসা, পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি, সেতু, কালভার্ট, ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়। এ ছাড়া আড়িয়াল খাঁ নদী তীরবর্তী সন্ন্যাসীর চর ও শিরুয়াইল ইউনিয়ন দুটিও ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টাসহ কয়েক দিনের অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধিতে তীব্র স্রোতের তোড়ে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ফলে সোমবার দুপুরে ভাঙনের ব্যাপকতা বেড়ে চরাঞ্চলের দ্বিতলবিশিষ্ট কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনটির অধিকাংশ বিলীন হয়েছে।

শিবচরের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল নোমান বলেন, ‘আমরা দফায় দফায় আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি।’ পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চালাচ্ছে।

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

নভেম্বর 2019
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
« অক্টো.    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  

ছবি ঘর