Monday, 17/2/2020 | : : UTC+6
Green News BD

ধামরাইয়ে অবৈধ বোর্ড মিলের বিষাক্ত বর্জ্যে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

ধামরাইয়ে অবৈধ বোর্ড মিলের বিষাক্ত বর্জ্যে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

ঢাকার ধামরাইয়ে গ্রামাঞ্চলে গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন বোর্ড মিল। এসব বোর্ড মিলের অপরিশোধিত বিষাক্ত বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এসব বোর্ড মিলের মালিক হওয়ায় কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। বললেও পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেওয়া হয়। ফলে একরকম বাধ্য হয়েই এসব বোর্ড মিলের পাশে বসবাস করতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। মাত্রাতিরিক্ত দূষণের কারণে বায়ু ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে স্থানীয় লোকজন। অন্যদিকে ময়লা-আবর্জনার কারণে মশা জন্মানোর অনুকূল পরিবেশ রয়েছে এসব কারখানার আশপাশে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের বাঙ্গালপাড়ায় নাছির উদ্দিনের মালিকানা একটি বোর্ড মিল রয়েছে। এ বোর্ড মিল লাগোয়া কয়েকটি বসতবাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া এটি রাস্তার পাশে হওয়ায় পথচারী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নাক চেপে চলতে হয়। এ বোর্ড মিলে একবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তা পাশের বাড়িতেও ছড়িয়ে পড়েছিল। এ ছাড়া কুশুরা ইউনিয়নের মধুডাঙ্গায় মামা-ভাগিনা বোর্ড মিলস, বালিয়া ইউনিয়নের মাদারপুর বাসস্ট্যান্ডে আবদুল মান্নানের মালিকানাধীন এমভিএম বোর্ড মিলস, সেলিম হোসেনের মালিকানাধীন মাদারপুর বোর্ড মিলস, ধলকুণ্ড করিম বোর্ড মিল, গোলাকান্দা বোর্ড মিলসহ গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের বারবাড়িয়া এলাকায় রয়েছে কয়েকটি বোর্ড মিল। এসব বোর্ড মিলের পরিবেশের ছাড়পত্র আছে বললেও মালিকরা কেউ দেখাতে পারেনি। এ ছাড়া বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের নিয়ম থাকলেও কোনোটিরই নেই ইটিপি। এসব বোর্ড মিলের অপরিশোধিত বর্জ্য ও দূষিত পানির দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। এতে পাশের বাসিন্দাদের বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে আবু বক্কর, সোলায়মান হোসেন, আবদুর রহিম বলেন, ‘এসব বোর্ড মিলের বর্জ্যের দুর্গন্ধে টিকে থাকাই দায়। কী করব, বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে।’

প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় যত্রতত্রভাবে এসব বোর্ড মিল গড়ে উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মালিক বলেন, ‘বিভিন্ন সময় উপজেলা প্রশাসন আমাদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে থাকে। যেহেতু চাঁদা নেয়, তাহলে একটু-আধটু অনিয়ম হলেও ছাড় পাওয়া যায়।’

ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফজলুল হক বলেন, বায়ুতে রাসায়নিকের মিশ্রণ থাকলে চোখ, নাক বা গলার সংক্রামক রোগ বা ক্ষতি হতে পারে। ফুসফুসের নানা জটিলতা, ব্রংকাইটিস বা নিউমোনিয়া, মাথা ব্যথা, অ্যাজমাসহ নানা ধরনের অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া দূষিত পানি ব্যবহারে চর্মরোগ, টাইফয়েড, জন্ডিস বা হেপাটাইটিসের মতো প্রাণঘাতী রোগ হতে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কালাম বলেন, ‘পরিবেশের দূষণ ও অবৈধ বোর্ড মিলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

ফেব্রুয়ারী 2020
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
« জানু.    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
29  

ছবি ঘর