Sunday, 25/8/2019 | : : UTC+6
Green News BD

মশা নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ওষুধ কবে আসছে জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট

মশা নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ওষুধ কবে আসছে জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট

রাজধানীর এডিস মশা মারতে বিদেশ থেকে কার্যকর ও যথাযথ ওষুধ কবে আনা হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তারিখ জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার মধ্যে তা লিখিতভাবে আদালতকে জানাতে দুই সিটি করপোরেশন ও রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এডিস মশা নির্মূলের ক্ষেত্রে দুই সিটি করপোরেশনের ভূমিকায় আবারও অসন্তোষ প্রকাশ করে ওই আদেশ দেন আদালত।

বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার ওই আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান। ডিএসসিসির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা এবং ডিএনসিসির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তৌফিক ইনাম টিপু।

দুই সিটি করপোরেশনের আইনজীবীদের উদ্দেশ করে আদালত বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আপনাদের ফেব্রুয়ারিতে সতর্ক করেছে। তখনই মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করা উচিত ছিল। কিন্তু তা করেননি। আমাদের রুল জারির পর আপনাদের ঘুম ভেঙেছে। এরপর কয়েক দিন উল্টাপাল্টা কথা বললেন। এখন সরকারের ধমক খেয়ে চুপ করে গেছেন।’

আদালত বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী বলছেন, ঢাকার মশা মারবে সিটি করপোরেশন। আর সিটি করপোরেশন বলছে, ওষুধ আনতে হলে সরকারের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ফেব্রুয়ারিতেই আপনাদের সতর্ক করল। কার্যকর মশার ওষুধ নিয়ে সিটি করপোরেশন, অর্থ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ধাক্কাধাক্কি করলে সারা দেশের মশা মারবে কে? আমরা কোনো দপ্তর বা বিভাগের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি দেখতে চাই না।’

গতকাল শুনানিকালে ডিএনসিসির আইনজীবী তৌফিক ইনাম টিপু বলেন, মশা নিধনে প্রতিটি ওয়ার্ডে লোকবল বাড়ানো হয়েছে। ওই সময় আদালত বলেন, ‘আমাদের ধারণা, যে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। এ কারণেই বিভিন্ন মহল থেকে অধিক কার্যকর ওষুধ ছিটানোর কথা বলা হচ্ছে।’ আদালত আরো বলেন, ‘আপনার রাইফেল আছে, গুলি নেই। এই রাইফেল থেকে লাভ কী?’

আইনজীবী বলেন, চীন থেকে ওষুধ আনা হবে। সিটি করপোরেশন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে মশা নিধনে। সারা বছরই মশা নিধন কার্যক্রম চলে। এখন মশার প্রকোপ বেড়েছে। তখন আদালত বলেন, ‘যদি সারা বছর কার্যক্রম চলে, তাহলে প্রকোপ বাড়বে কেন?’ আইনজীবী বলেন, নতুন একটি ওষুধ আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ হয়তো লাইসেন্সটা পেয়ে যাবে। এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে হয়তো ওষুধ চলে আসবে। সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে বিষয়টি মনিটর করা হচ্ছে। আদালত বলেন, ভারতেও ওষুধ রয়েছে। সেখান থেকে দ্রুত ওষুধ আনা যেতে পারে।

রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মাইনুল হাসানকে আদালত বলেন, ‘ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু বিস্তার লাভ করেছে। এ ব্যাপারে সরকার কী করছে? আমরা কি প্রতিটি দপ্তরের লোকদের ডেকে এনে তাদের বক্তব্য শুনব?’ জবাবে ডিএজি বলেন, ডেঙ্গু বর্তমানে যে আকার ধারণ করেছে, তাতে সরকার তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। যদি এই প্রচেষ্টা গ্রহণ করা না হতো তাহলে আরো বড় আকার ধারণ করত। তবে পুরনো ওষুধ যথেষ্ট কার্যকর হচ্ছে না।

আদালত আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ওষুধের ডোজ বাড়ানোয় কি মশা মরেছে?’ আইনজীবী বলেন, ‘মনে হয় কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ফলাফল পেতে আরো সময় লাগবে।’ আদালত বলেন, ‘হাসপাতালে যে হারে প্রতিদিন রোগী ভর্তি হচ্ছে তাতে বোঝা যায়, ওষুধ কতটা কার্যকর হচ্ছে? আজকে দেখলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ডিএসের (উপসচিব) স্ত্রী ডেঙ্গুতে মারা গেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কী করে? নিজের মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার স্ত্রী মারা যায়।’ আদালত আরো বলেন, ‘কেউ যদি জেগে ঘুমায় তাহলে তাকে জাগানো যায় না। আমরা তো তাদের তুলতে পারব না।’ আদালত বলেন, ‘আমার বাসার এলাকায় ওষুধ ছিটাতে আসেনি। মশা নিধনের বিষয়টি আপনারা সিরিয়াসলি নিচ্ছেন না। আপনাদের জবাবদিহি করতে হবে।’

এর আগে ১৫ জুলাই আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এক আদেশে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ঢাকার দুই মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা এক সপ্তাহের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছিল। গতকালের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করার দিন নির্ধারিত ছিল।

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

আগস্ট 2019
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
« জুলাই    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

ছবি ঘর