Wednesday, 29/1/2020 | : : UTC+6
Green News BD

বিশ্ব বাঘ দিবস আজ

বিশ্ব বাঘ দিবস আজ

আজ বিশ্ব বাঘ দিবস। বিপন্ন এই প্রাণী রক্ষা তথা অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বিশ্বজুড়ে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ-আয়োজন। কিন্তু বাঘের সংখ্যা দিন দিন শুধু কমছেই। বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ বাঘের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত সুন্দরবনও এর বাইরে নয়।

সরকারিভাবে বলা হচ্ছে, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা ১১৪। তিন বছর আগে বলা হয়েছিল এই সংখ্যা ১০৬। অর্থাৎ তিন বছরের ব্যবধানে আটটি বাঘ বেড়েছে। আর সুন্দরবনের ভারতীয় অংশে বাঘের সংখ্যা ৭৬। সব মিলে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১৯০।

সুন্দরবনে পরিচালিত বাঘশুমারিতে প্রাপ্ত তথ্যে এমনটা দাবি করা হয়। বাঘের সংখ্যা জানার জন্য সুন্দরবনকে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা এই তিন অংশে ভাগ করে জরিপ চালানো হয়। এর মধ্যে সাতক্ষীরা অংশে জরিপ চালানো হয় ২০১৭ সালে। এর পরের বছর খুলনা ও বাগেরহাট অংশে জরিপ চালানো হয়।

দুনিয়ার নানা জায়গায় বাঘের বাস। গত শতকেই বিড়াল প্রজাতির সবচেয়ে বড় প্রাণীটির ৯৭ শতাংশ মারা পড়ে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বাঘ রক্ষায় ২০১০ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বলা হয়, দুনিয়াজুড়ে মাত্র তিন হাজার বাঘ রয়েছে। সেখান থেকেই বিপন্নপ্রায় এই প্রাণী রক্ষায় দুনিয়াজুড়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বাঘ দিবসের ঘোষণা আসে। সেই থেকে সারা বিশ্বে দিবসটি নানা আয়োজনে পালিত হয়ে আসছে।

বাঘ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে চোরা শিকারিদের তৎপরতা এবং খাদ্যসংকটের কথা বলা হয়। আরেকটি বড় কারণ হলো, দ্রুততার সঙ্গে এর বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তন হওয়া। সুন্দরবনের মাটি ও পানিতে বিপুল পরিমাণ লবণ জমা হওয়ায় এখানে বাঘের খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়েছে।

চোরা শিকারিদের কবলে পড়ে সুন্দরবনের বাঘ মারা যাওয়ার ঘটনাটি মাঝেমধ্যে বাঘের চামড়া উদ্ধারের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে। ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত পূর্ব সুন্দরবন (শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জ) এলাকায় চোরা শিকারিদের হত্যার শিকার ৯টি বাঘের চামড়া উদ্ধার হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সুন্দরবনে বাঘ হত্যায় তৎপর রয়েছে বড় ছয়টি শিকারি দল। তারা সুযোগ পেলেই বাঘ হত্যা করে এর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিভিন্ন দেশে পাচার করে। পশ্চিম সুন্দরবন (খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জ) বিভাগে শিকারিরা বেশি তৎপর। বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ১৯৮০ সাল থেকে এ পর্যন্ত চোরা শিকারি ও বনদস্যুদের হামলা, গ্রামবাসীর পিটুনি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে সুন্দরবনে ৭০টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনে সুন্দরী ও কেওড়াগাছের মতো যেসব বৃক্ষ বেশি লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে না, সেগুলো হয় আকারে ছোট হয়ে যাচ্ছে অথবা মরে যাচ্ছে। বিপাকে পড়ছে এজাতীয় বেশ কিছু গাছ ও তৃণজাতীয় উদ্ভিদ, যেগুলো হরিণের খাদ্য। খাবারের অভাবে দ্রুত কমছে হরিণের সংখ্যা। চোরা শিকারিদের দাপট তো আছেই। হরিণ কমে যাওয়ায় সুন্দরবনে বাঘের খাদ্য সংকট তৈরি হচ্ছে।

মধ্য সুন্দরবনের জমিতে দ্রুত লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উজানে ফারাক্কার বাঁধের কারণে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে গেছে। পদ্মা-গড়াই-কপোতাক্ষ-মাথাভাঙ্গা-ভৈরবে মিষ্টি পানির প্রবাহ খুবই কম। আবার পশ্চিমবঙ্গে মাতলা ও বিদ্যাধরীর প্রবাহও কমে গেছে। ফলে সুন্দরবনে মিষ্টি পানির জোগান অনেক কমে লবণাক্ততার দাপট বেড়েছে। বিশ্ব উষ্ণায়নও লবণাক্ততা বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক দিলীপ কুমার দত্ত বলেন, শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদ-নদীতে লবণাক্ততার পরিমাণ বাড়ে; আর বৃষ্টি হলে কমে। বর্ষাকালের পরিধি যেহেতু কম, সে কারণে এই অঞ্চলে সাগর থেকে উঠে আসা জোয়ারের নোনা পানি কর্তৃত্ব বাড়িয়ে চলেছে। এতে সুন্দরবনের ইকোলজিক্যাল সিস্টেমে প্রভাব পড়ছে।’

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

জানুয়ারী 2020
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
« ডিসে.    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

ছবি ঘর