Sunday, 25/8/2019 | : : UTC+6
Green News BD

চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

সোমবার বৃষ্টি না হওয়ায় বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। নামতে শুরু করেছে বন্যার পানি। এতে ভেসে উঠছে এলাকার বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ক্ষেতখামারের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :

চকরিয়া-পেকুয়া : বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চকরিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে রোদের দেখাও মেলেছে। এতে বন্যাতঙ্কে থাকা মানুষের মনে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেখা দেয়। তবে লোকালয় থেকে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে ভেসে উঠছে বন্যার ক্ষতচিত্র। কোথাও বেড়িবাঁধ, কোথাও সড়ক লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে হতবাক মানুষ।

গতকাল সরেজমিন বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, সিংহভাগ এলাকার বসতবাড়ির পানি নেমে গেলেও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষগুলো। একনাগাড়ে একসপ্তাহ ধরে বানের পানি বসতবাড়ির ভেতরে অবস্থান করায় ২ থেকে ৩ ফুট করে পলিও জমে যায়। সেই পলি অপসারণ করতে গিয়ে বেশ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তারা। এর পরও বানের পানি নেমে যাওয়ায় তারা বেশ খুশি।

এদিকে চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের প্রপার কাকারার বেড়িবাঁধ কাম সড়ক নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একইভাবে কয়েকশ ফুট দূরের প্রপার কাকারা-মেনিবাজার মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল ইসলাম ছিদ্দিকী সড়ক বিশাল গাইডওয়ালসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগে আছে হাজারো মানুষ। এছাড়া ছিকলঘাট-কৈয়ারবিল সড়ক, চিরিঙ্গা-বানিয়ারছড়া-বরইতলী-পেকুয়া সড়ক, ছিকলঘাট-কাকারা-মানিকপুর সড়কসহ উপজেলার অভ্যন্তরীণ অন্তত ১৫ সড়ক এবং গ্রামীণ অবকাঠামোগুলোর বিবর্ণ ও ক্ষতচিহ্ন ভেসে উঠছে। রবিবার সকালে সড়ক পারাপারের সময় পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাতামুহুরী নদীর আটারকুম পয়েন্টে নিখোঁজ থাকা দিয়ারচর গ্রামের মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে মো. রাজুর (২০) মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় জনতা।

কাকারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত ওসমান, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম, বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার, কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল হোসেন, হারবাং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম মিরানসহ জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এবারের ভয়াবহ বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রামীণ অবকাঠামোর। এই অবকাঠামো যদি সহসা টেকসইভাবে মেরামত করা না হয় তাহলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বেশি দুর্ভোগের শিকার হবেন মানুষ।

গতকাল দুপুরে লক্ষ্যারচর ও কাকারা ইউনিয়নের বন্যার্ত ১২০০ পরিবারের মাঝে রান্না করা বিরিয়ানি বিতরণ করেছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পিস ফাইন্ডারের তত্ত্বাবধানে আছিয়া-কাশেম ট্রাষ্ট। অপরদিকে আরেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বাধীন মঞ্চ হাজারো পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেন বিভিন্ন ইউনিয়নে।

এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, ‘ভয়াবহ বন্যায় পুরো উপজেলার অভ্যন্তরীণ যেসব সড়ক-উপসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা আগামী একমাসের মধ্যেই মেরামত করে চলাচল উপযোগী করার তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।’

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, ‘এখনো অনেক এলাকা থেকে পুরোপুরি বানের পানি নেমে যায়নি। তাই পুরোপুরি পানি নেমে যাওয়ার পর আসল চিত্র পাওয়া যাবে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ অবকাঠামোর। এর পর যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে তা মেরামতের।’

সংসদ সদস্য জাফর আলম বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ যাতায়াতের ক্ষেত্রে যাতে দুর্ভোগের শিকার না হন, সেজন্য অল্প সময়ের মধ্যেই অভ্যন্তরীণ সড়ক-উপসড়কসহ গ্রামীণ অবকাঠামো টেকসইভাবে মেরামত কাজ শুরু করা হবে। এজন্য স্ব স্ব মন্ত্রণালয়ে আমি যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছি বরাদ্দ পাওয়ার জন্য।’

গতকাল বিকেলে চকরিয়ার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আশরাফুল আফসার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহজান আলী। এ সময় সঙ্গে ছিলেন ইউএনও নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান, এসিল্যান্ড খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দীন আরাফাতসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা। পরে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় সভা করেন উপজেলা পরিষদের মোহনায়। মতবিনিময় সভায় উত্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতে বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় যাবতীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক।

রাউজান (চট্টগ্রাম) : উপজেলার উঁচু এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেলেও নিম্নাঞ্চলের প্রায় সব এলাকায় এখনো পানি আছে। এসব এলাকার মানুষের দুর্ভোগের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা। বন্যায় দুই শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে কোটি কোটি টাকার লোকসান হয়েছে।

জানা যায়, নোয়াজিষপুরের হালদা নদী তীরবর্তী নদীমপুর ও আশেপাশের এলাকা, উরকিরচর, বিনাজুরী, পশ্চিম গুজরা, গহিরা, নোয়াপাড়া ইউনিয়ন এবং কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী এলাকা বাগোয়ান, পাহাড়তলী, নোয়াপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এখনো পানি আছে। এ ছাড়া নিম্নাঞ্চলখ্যাত পূর্ব গুজরা, রাউজান ইউনিয়ন এবং পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে ডুবে আছে উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হাফেজ বজলুর রহমান সড়কের বড় মৌলানার মাজার সংলগ্ন এলাকা, রাউজান নোয়াপাড়া সেকশন-২ সড়কের জারুলতলা, আধারমানিক এবং রাউজান নোয়াপাড়া শফিকুল ইসলাম চৌধুরী সড়কের বিভিন্ন অংশ। এ ছাড়া পূর্ব গুজরা, পশ্চিম গুজরা, নোয়াপাড়া, নোয়াজিষপুর, বিনাজুরী, গহিরা, উরকিরচর ও পৌরসভার ১ থেকে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শতাধিক অভ্যন্তরীণ সড়ক এখনো পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। সাধারণ মানুষ প্রয়োজনে নৌকায় বা কয়েক ফুট পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করছেন।

নোয়াজিষপুর ইউপির চেয়ারম্যান সরোয়ার্দী সিকদার বলেন, ‘বন্যায় আমার এলাকার নদীমপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের রাস্তা, ঘরবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমরপানি রয়েছে। বিশেষ করে সর্তার বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পুরো ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে সড়ক, ব্রিজ, পুকুরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।’

রাউজান ইউপি চেয়ারম্যান বিএম জসিম উদ্দিন হিরু বলেন, ‘পাহাড়ি অঞ্চলের পানি নেমে হাফেজ বজলুর রহমান সড়কসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো ভেঙে গেছে। অনেক সড়কে যানবাহন তো দূরের কথা, হেঁটে যাওয়ারও উপায় নেই।’

এদিকে উপজেলার উঁচু এলাকা থেকে পানি নেমে যাওয়ায় ক্ষতচিহ্ন ভেসে উঠছে। পানির তোড়ে ধসে, ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে এলাকার পাকা, কাঁচা সড়ক ও সেতু। বিশেষ করে ডাবুয়া, হলদিয়া, চিকদাইর, গহিরা, নোয়াজিষপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশে সড়ক-সেতু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

হলদিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত দুই বছরের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও ভয়াবহ বন্যায় আমার ইউনিয়নের প্রায় প্রত্যক এলাকার সড়ক লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। বিশেষ করে আমার ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত সর্তা খালের বাঁধ ভেঙে বার বার ক্ষতি হচ্ছে।’

এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করেছেন সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী। রবিবার সকাল থেকে দিনভর তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ডাবুয়া, চিকদাইর, বিনাজুরী ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ত্রাণ বিতরণ করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। সঙ্গে ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান এহেছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এহসান মুরাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, রাউজান পৌরসভার প্যানেল মেয়র বশির উদ্দিন খান ও জমির উদ্দিন পারভেজ, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা জসিম উদ্দিন চৌধুরী, কামরুল হাসান বাহাদুর, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোর্শেদ, ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহমান চৌধুরী, সুকুমার বড়ুয়া, সৈয়দ আবদুল জব্বার সোহেল, সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানা, আহসান হাবিব চৌধুরী হাসান, জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

আগস্ট 2019
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
« জুলাই    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

ছবি ঘর